default-image

ছয় মাস নিখোঁজের পর অস্ট্রেলিয়ান সাংবাদিক চ্যাং লাইকে গ্রেপ্তার দেখিয়েছে চীন। আজ সোমবার অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ম্যারিস পেইন জানিয়েছেন, তাঁকে গত শুক্রবার গ্রেপ্তার দেখিয়েছে বেইজিং। তাঁর বিরুদ্ধে চীনের রাষ্ট্রীয় গোপন তথ্য বিদেশে সরবরাহের অভিযোগ আনা হয়েছে।

চ্যাং লাইয়ের জন্ম চীনের হুনান প্রদেশে। তবে শিশু বয়সেই তিনি অস্ট্রেলিয়ায় অভিবাসী হয়েছিলেন। চ্যাং ২০১২ সালে চীনে ফিরে দেশটির রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ইংলিশ চ্যানেল সিজিটিএনে যোগ দেন। বাণিজ্যবিষয়ক প্রতিবেদক চ্যাং ছিলেন চ্যানেলটির পরিচিত সংবাদ উপস্থাপক। তিনি সারা বিশ্বের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামকরা প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের (সিইও) সাক্ষাৎকার নিতেন।

বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়, চ্যাংয়ের বিরুদ্ধে চীনের জাতীয় নিরাপত্তা আইন ভঙ্গ প্রমাণিত হলে তাঁকে বিভিন্ন শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে। কোনো ব্যাখ্যা না দিয়েই গত বছরের আগস্টে চীনের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের সম্প্রচার থেকে নাই হয়ে যান চ্যাং। এরপর থেকে তাঁর খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। মূলত অস্ট্রেলিয়া ও চীনের মধ্যকার সম্পর্কে ব্যাপক অবনতি ঘটার পরপরই চ্যাংকে আটক করা হয়েছিল।

বিজ্ঞাপন

করোনা পরিস্থিতিতে তিনি চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং ও বেইজিংয়ের সমালোচনা করে বেশ কিছু লেখা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট করেছিলেন। ধারণা করা হচ্ছে, এ জন্য তাঁর ওপর রুষ্ট হয়েছে বেইজিং।
চ্যাংয়ের ভাতিজি লুইসা ওয়েন অস্ট্রেলিয়ার সম্প্রচারমাধ্যম এবিসিকে বলেন, এ ব্যাপারে পরিবার কিছুই বুঝতে পারছে না। চ্যাংয়ের ১১ বছর বয়সী মেয়ে ও ৯ বছর বয়সী ছেলে তাদের মায়ের সঙ্গে কী হচ্ছে, তা বুঝতেই পারছে না। এই দুই শিশুর ওপর যে প্রভাব পড়ছে, তা ভেবে কষ্ট হচ্ছে।

চ্যাং হলেন দ্বিতীয় উচ্চ পদস্থধারী কোনো অস্ট্রেলিয়ান নাগরিক, যিনি বেইজিংয়ে গ্রেপ্তার হলেন। তাঁর আগে ২০১৯ সালের জানুয়ারিতে গুপ্তচরবৃত্তির সন্দেহে সেখানে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন চায়নিজ-অস্ট্রেলিয়ান লেখক ইয়াং হেংজুন। ইয়াংয়ের বিরুদ্ধে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ আনা হয়েছিল। চ্যাংয়ের আটকের ঘটনায় চীনে বসবাসরত বিদেশি সাংবাদিকদের মধ্যে ভীতি ছড়িয়ে পড়ে। চ্যাংকে হেফাজতে নেওয়ার পরপরই অস্ট্রেলিয়ার দুই সাংবাদিক বিল বির্টলস ও মিসেল স্মিথ চীন ত্যাগ করেছিলেন। মূলত চ্যাংয়ের মতো তাঁরাও আটকের শঙ্কায় ছিলেন। চ্যাংয়ের বিষয়ে তাঁদের কাছে নানা ধরনের তথ্য জিজ্ঞাসাবাদ করেছিল বেইজিং।

চ্যাংকে আটকের ঘটনায় অস্ট্রেলিয়ার সরকারের পক্ষ থেকে ছয়বার চীনে দল পাঠানো হয়। এর মধ্যে সর্বশেষ পরিদর্শন ছিল গত ২৭ জানুয়ারি।

চ্যাংয়ের বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ম্যারিস পেইন বলেন, ‘আন্তর্জাতিক নিয়ম মেনে চীন ন্যায়বিচারের মৌলিক মানদণ্ড বজায় রাখা, আইনগত স্বচ্ছতা ও মানবিক আচরণ করবে, এমনটাই আশা করছি।’

বিজ্ঞাপন
চীন থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন