নিয়ন্ত্রণ পাওয়ার ২৫তম বার্ষিকীতে হংকং যাচ্ছেন সি চিন পিং

চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং।ফাইল ছবি: রয়টার্স

যুক্তরাজ্যের কাছ থেকে হংকংয়ের নিয়ন্ত্রণ পাওয়ার ২৫তম বার্ষিকীতে চীনের আধা স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলটিতে সফরে যাচ্ছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং।

হংকং ১৫৬ বছর যুক্তরাজ্যের উপনিবেশ ছিল। ১৯৯৭ সালের ১ জুলাই হংকংকে চীনের কাছে হস্তান্তর করে যুক্তরাজ্য। আগামী ১ জুলাই ২৫তম হস্তান্তর বার্ষিকী।

চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং ওই দিনই হংকং সফরে যাচ্ছেন বলে গতকাল শনিবার চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদ সংস্থা সিনহুয়ার এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, ২০২০ সালের জানুয়ারিতে চীনে করোনার প্রাদুর্ভাব শুরুর পর সি চিন পিং এই প্রথমবার চীনের মূল ভূখণ্ডের বাইরে যাচ্ছেন।

সিনহুয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীন হংকংয়ের নিয়ন্ত্রণ পাওয়ার পর এখন পর্যন্ত নগর অঞ্চলটিতে পাঁচটি সরকার ক্ষমতায় ছিল। ১ জুলাই হংকংয়ে ষষ্ঠ মেয়াদে নতুন সরকারের অভিষেক অনুষ্ঠান হবে। তাতে উপস্থিত থাকবেন সি চিন পিং।

এদিন হংকংয়ের নতুন সরকারপ্রধানের দায়িত্ব নেবেন জন লি। বর্তমান সরকারপ্রধান ক্যারি ল্যামের স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন তিনি। ক্ষমতায় থাকাকালে ক্যারি ল্যাম হংকংয়ে সবচেয়ে অস্থির আর অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সামলেছেন। এর মধ্যে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ যেমন ছিল, তেমনই ছিল করোনা মহামারির প্রকোপও।

২০১৭ সালে ক্যারি ল্যামের অভিষেক অনুষ্ঠানেও উপস্থিত ছিলেন সি চিন পিং। সবশেষ ওই বছর হংকং হস্তান্তর বার্ষিকীতে উপস্থিত ছিলেন চীনের প্রেসিডেন্ট।

তবে সাবেক ব্রিটিশ উপনিবেশ ও বর্তমানে চীনের বিশেষ প্রশাসনিক অঞ্চল হংকংয়ে সির সফর নিয়ে কয়েক সপ্তাহ ধরেই অনিশ্চয়তা চলছিল। কারণ, এই সময়ে হংকংয়ে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছিল। এ ছাড়া নতুন সরকারে শপথ নিতে যাচ্ছেন এমন দুজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাও করোনায় আক্রান্ত হন।

পর্যবেক্ষকেরা বলছেন, হংকং হস্তান্তরের ২৫তম বার্ষিকী চীনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, ২০১৯ সালের গণতন্ত্রপন্থীদের বিক্ষোভের পর নগরের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হচ্ছে। জাতীয় নিরাপত্তা আইন ও নির্বাচনী সংস্কারের পর এ বিক্ষোভ হয়। এসব আইন প্রণয়ন করায় চীনের ভাষায় এখন শুধু ‘দেশপ্রেমিকেরা’ সরকার ও আইনপ্রণেতা হতে পারবেন।

পরবর্তী সরকারপ্রধানের দায়িত্ব নিতে যাওয়া জন লি এর আগে হংকং পুলিশের শীর্ষ পদে ছিলেন। সেখান থেকে জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, ক্ষমতায় এলে চীনের প্রণীত জাতীয় নিরাপত্তা আইনের কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করবেন। হংকংয়ে চীনা স্বার্থ রক্ষায় সব রকম চেষ্টা চালাবেন তিনি।