default-image

চার দশক পর নুড়ি আনতে মঙ্গলবার চাঁদের দিকে যাত্রা করেছে চীনের একটি নভোযান। বেইজিংয়ের মহাকাশ উচ্চাকাঙ্ক্ষার ক্ষেত্রে একে মাইলফলক হিসেবেই দেখা হচ্ছে। বার্তা সংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

চীন তাদের সামরিক বাহিনী পরিচালিত মহাকাশ কর্মসূচিতে বিলিয়ন ডলার ঢেলেছে। ২০২২ সালের মধ্যে একটি মহাকাশ স্টেশন তৈরির লক্ষ্যে এগিয়ে যাচ্ছে দেশটি। এ ছাড়া চাঁদে মানুষ পাঠানোর লক্ষ্যও রয়েছে তাদের।

চীনের চাঁদে অভিযানের লক্ষ্য হচ্ছে সেখান থেকে নুড়ি ও মাটি সংগ্রহ করা, যা বিজ্ঞানীদের চাঁদের উৎস, গঠন ও সেখানকার আগ্নেয়গিরির অবস্থা সম্পর্কে জানতে সাহায্য করবে।

চীনের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত ভিডিও চিত্রে দেখা যায়, চ্যাং ই-৫ নামের মহাকাশযান নিয়ে একটি রকেট রাতেই যাত্রা শুরু করে। চীনের উপকথায় থাকা চাঁদের দেবীর নামে এর নামকরণ করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

চীনের হেইনান প্রদেশের ওয়েনচেং স্পেস সেন্টার থেকে ভোর সাড়ে চারটায় আট টনের ওই মহাকাশযান যাত্রা শুরু করে।

২০১৭ সালেই মূল মিশনটি পরিকল্পনা করা হয়েছিল। তবে লংমার্চ-৫ রকেটের ইঞ্জিনে সমস্যার কারণে অপেক্ষা বাড়তে থাকে।

চীন যদি অভিযানে সফল হয়, তবে বিশ্বের তৃতীয় দেশ হিসেবে চাঁদ থেকে নমুনা সংগ্রহের তালিকায় যুক্ত হবে। এর আগে কেবল যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়ন ১৯৬০ ও ১৯৭০ সালে তা করতে সমর্থ হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা প্রতিষ্ঠান নাসার তথ্যানুযায়ী চীনা নভোযানটি ‘ওশান অব স্ট্রোম’ নামের এলাকা থেকে দুই কেজি নমুনা সংগ্রহ করবে। এর আগে কখনো সেখান থেকে নমুনা সংগ্রহ করা হয়নি। জায়গাটি বিশাল লাভার সমভূমি অঞ্চল। নভোযানটি নভেম্বরের শেষ দিকে চাঁদে অবতরণ করবে এবং চাঁদের এক দিন (পৃথিবীর ১৪ দিনের সমান) সেখানে অবস্থান করবে। এরপর তা একটি ক্যাপসুলে করে ডিসেম্বরে আবার পৃথিবীতে নিয়ে আসা হবে।

মন্তব্য করুন