default-image

বিরোধপূর্ণ হিমালয়সীমান্তে অবস্থিত পানগং হ্রদ থেকে সব সেনা প্রত্যাহার করে নিয়েছে ভারত ও চীন। ভারতের প্রতিরক্ষা বাহিনী থেকে দেওয়া এক যৌথ বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়। খবর বিবিসির।

বিবৃতিতে বলা হয়, গত শনিবার পানগং তসো হ্রদ এলাকা থেকে সব সেনাকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। গত বছরের জুন মাসে এই এলাকায় দুই দেশের সেনাদের মধ্যে সংঘর্ষে ২৪ জন নিহত হন। ওই ঘটনায় দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা বেড়ে যায়। দুই দেশের কর্তৃপক্ষ বলছে, প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা (এলএসি) বরাবর নিজেদের ভূখণ্ডে উত্তেজনা কমাতে কাজ করবে তারা।

১১ ফেব্রুয়ারি চীন ও ভারত ওই হ্রদ এলাকা থেকে তাদের সেনাদের প্রত্যাহার করে নেওয়ার ঘোষণা দেয়। প্রত্যাহার কার্যক্রম কীভাবে পরিচালনা করা হবে, সে বিষয়ে পর্যালোচনা করতে শনিবার বৈঠকে বসেন দুই দেশের কমান্ডাররা।

বিজ্ঞাপন

গতকাল রোববারের বিবৃতিতে বলা হয়, পানগং হ্রদ এলাকায় মোতায়েনকৃত সেনাদের সরিয়ে নেওয়াকে দুই পক্ষ স্বাগত জানাচ্ছে। সেনাদের সরিয়ে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ এক পদক্ষেপ। ওয়েস্টার্ন সেক্টরের এলএসির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিরোধপূর্ণ ইস্যু সমাধানে এটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হবে।

দশকের পর দশক ধরে ভারত ও চীনের মধ্যে সীমান্ত নিয়ে বিরোধ চলছে। এ নিয়ে উত্তেজনা ১৯৬২ সালে যুদ্ধে গড়ায়। দুই দেশের মধ্যকার সীমান্ত ৩ হাজার ৪৪০ কিলোমিটার দীর্ঘ। তবে এই অংশ সুনির্দিষ্ট নয়।

সেনা প্রত্যাহারের আগে ভারত ও চীনের কমান্ডাররা নয় দফা আলোচনায় বসেন। বিবৃতিতে স্বীকার করা হয়, সীমান্তের অন্যান্য অংশে উত্তেজনা এখনো চলছে এবং সমস্যা সমাধানে দুই পক্ষ আলোচনা অব্যাহত রাখার চেষ্টা চালাচ্ছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, বিভিন্ন বিষয়ে নিজেদের নেতাদের মধ্যে প্রতিষ্ঠিত গুরুত্বপূর্ণ মতৈক্য মেনে চলতে রাজি হয়েছে দুই পক্ষ। নেতারা তাঁদের মধ্যে যোগাযোগ ও সংলাপ চালিয়ে যাওয়া, নিজ নিজ ভূখণ্ডে স্থিতিশীলতা বজায় ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং দৃঢ়ভাবে ও নিয়মতান্ত্রিক পন্থার মাধ্যমে বিরোধপূর্ণ অন্য ইস্যুগুলোয় পারস্পরিক গ্রহণযোগ্য সমাধানে পৌঁছানোর চেষ্টার বিষয়ে মতৈক্যে উপনীত হয়েছেন, যাতে সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোয় যৌথভাবে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখা যায়।

গত শনিবার পানগং তসো হ্রদ এলাকা থেকে সব সেনাকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। গত বছরের জুন মাসে এই এলাকায় দুই দেশের সেনাদের মধ্যে সংঘর্ষে ২৪ জন নিহত হন। ওই ঘটনায় দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা বেড়ে যায়। দুই দেশের কর্তৃপক্ষ বলছে, প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা (এলএসি) বরাবর নিজেদের ভূখণ্ডে উত্তেজনা কমাতে কাজ করবে তারা।

ওই হ্রদ এলাকা থেকে পুরোপুরিভাবে সেনা প্রত্যাহার করে নেওয়ার আগে ভারত ও চীনের সেনারা সীমান্তের দুপাশে অবস্থান নিয়েছিলেন।

কয়েক মাস ধরে উত্তেজনা চলার পর ক্রমেই এমন আশঙ্কা বাড়তে থাকে যে ভারতশাসিত লাদাখ ও চীনশাসিত আকসাই চিন এলাকায় অব্যাহতভাবে সেনা মোতায়েনে দুই দেশের দ্বন্দ্ব আরও বাড়তে পারে।

প্রসঙ্গত, দশকের পর দশক ধরে ভারত ও চীনের মধ্যে সীমান্ত নিয়ে বিরোধ চলছে। এ নিয়ে উত্তেজনা ১৯৬২ সালে যুদ্ধে গড়ায়। দুই দেশের মধ্যকার সীমান্ত ৩ হাজার ৪৪০ কিলোমিটার দীর্ঘ। তবে এই অংশ সুনির্দিষ্ট নয়।

বিজ্ঞাপন
চীন থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন