default-image

রাশিয়া ও ইরানের মতো দেশের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করছে চীন। একই সঙ্গে বেইজিং অর্থনৈতিকভাবে নির্ভরশীল আঞ্চলিক দেশগুলোর সঙ্গেও সম্পর্ক বাড়াতে সচেষ্ট। এমন নানা পন্থায় যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন বেইজিংবিরোধী জোটে ফাটল ধরাতে চাইছে চীন। সোমবার বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক বিশ্লেষণে এ কথা বলা হয়।

চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের ‘ব্লক’-কেন্দ্রিক রাজনীতি ও বেইজিংবিরোধী চক্র গঠনের চেষ্টার সব সময়ই তীব্র বিরোধিতা করে চীন। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দেশগুলো তাদের নিজেদের স্বার্থ দেখবে বলে আশা চীনের। তারা যুক্তরাষ্ট্রের চীনবিরোধী হাতিয়ারে পরিণত হবে না বলেও প্রত্যাশা বেইজিংয়ের।

গত মাসে যুক্তরাষ্ট্রের আলাস্কায় এক আলোচনায় বেইজিং ও ওয়াশিংটনের শীর্ষ কূটনীতিকদের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হয়। ওই ঘটনার পর রাশিয়া, ইরান, উত্তর কোরিয়ার মতো দেশগুলোর সঙ্গে জরুরি ভিত্তিতে ঘনিষ্ঠ হয়ে কাজ করতে শুরু করে বেইজিং। রাশিয়া, ইরান, উত্তর কোরিয়া—তিনটি দেশের ওপরই যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।

সিঙ্গাপুরের এস রাজরত্মম স্কুল অব ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের সহযোগী অধ্যাপক লি মিংজিয়াং বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের জোটের কূটনীতি নিয়ে চীন খুবই চিন্তিত।’

আলাস্কা বৈঠকের দিন কয়েক পরই চীনের শীর্ষ কূটনীতিক স্টেট কাউন্সিলর ওয়াং ইর আমন্ত্রণে বেইজিং সফর করেন রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ। তাঁর এই সফরে পশ্চিমাদের আদর্শিক ‘অ্যাজেন্ডা’ মোকাবিলায় মস্কো ও বেইজিংকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান ওয়াং।

পরে ওয়াং ইরান সফর করেন। তাঁর এই সফরে ইরানের সঙ্গে চীনের ২৫ বছর মেয়াদি একটি অর্থনৈতিক চুক্তি সই হয়।

বিজ্ঞাপন

চীনা প্রেসিডেন্ট শি চিন পিং সম্প্রতি উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং-উনের সঙ্গে উষ্ণ বার্তা বিনিময় করেন। এই বার্তায় চীনা প্রেসিডেন্ট উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে অংশীদারত্ব গভীরতর করার আগ্রহ প্রকাশ করেন।

চীন অর্থনৈতিকভাবে নির্ভরশীল প্রতিবেশীদের সমর্থন লাভের জোর চেষ্টা চালাচ্ছে। চীনের স্টেট কাউন্সিলর ওয়াং সম্প্রতি ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, ফিলিপাইন, সিঙ্গাপুর ও দক্ষিণ কোরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠক করেন।

চীনের এই তৎপরতা সম্পর্কে অধ্যাপক লি মিংজিয়াং বলেন, এই দেশগুলোকে চীন সহায়তার প্রতিশ্রুতি দেবে। করোনা মহামারির পর তাদের অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করতে সাহায্যের কথা বলবে। বেইজিং এমন প্রেক্ষাপট তৈরির সৃষ্টি করবে, যাতে এই দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে যাওয়ার আগে দুবার চিন্তা করে।

বিভিন্ন দেশকে পক্ষে রাখতে চীন টিকা কূটনীতি, এমনকি হুমকি, নিষেধাজ্ঞা আরোপের মতো কৌশলও নিচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

বেইজিংয়ের ওপর নানা ইস্যুতে নানাভাবে চাপ অব্যাহত রেখেছেন বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। তার মধ্যে বাইডেনের পূর্বসূরি ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের বেছে নেওয়া অনেক ইস্যুও আছে। সেসবের পাশাপাশি বাইডেন চীনকে কোণঠাসা করতে বিশেষ করে জোট-কেন্দ্রিক কৌশলের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের এই জোটবদ্ধ কৌশলের বিরুদ্ধে চীন তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছে। এই ধরনের চীনবিরোধী ঐক্য দুর্বল করার জন্য নানা কৌশল নিচ্ছে বেইজিং। তারা যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের বেইজিংয়ের সঙ্গে স্বাধীনভাবে কাজ করতে উৎসাহিত করছে। বেইজিংয়ের সঙ্গে সম্পর্কের অর্থনৈতিক সুবিধার প্রসঙ্গ সমানে আনছে। এমনকি চীনের বিরুদ্ধে যৌথ কোনো প্রচেষ্টায় যুক্ত হওয়ার ঝুঁকির কথাও তারা বিভিন্ন দেশকে বুঝিয়ে দিচ্ছে।

প্রতিযোগিতার চেয়ে সহযোগিতা যে উত্তম, সেই বিষয়টি ওয়াশিংটনকে নানাভাবে বুঝিয়ে চলছে বেইজিং। যার সবশেষ নিদর্শন হলো—জো বাইডেনের আসন্ন ভার্চ্যুয়াল জলবায়ু সম্মেলনের প্রতি চীনের সমর্থন প্রকাশ।

চীন থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন