default-image

চীনের রাজধানী বেইজিং আজ সোমবার পাতলা বাদামি ধুলায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়েছে। গোবি মরুভূমি ও চীনের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে সৃষ্ট ভারী ধূলিঝড়ে বেইজিংয়ে এ পরিস্থিতির তৈরি হয়। গত এক দশকে এটিই সবচেয়ে বড় ধূলিঝড় বলে চীনা আবহাওয়া ব্যুরো জানিয়েছে। খবর রয়টার্সের।

দ্য চীনা মেটেরোরজিক্যাল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন সোমবার সকালে হলুদ সতর্কতা জারি করে। সংস্থাটি জানায়, ইনার মঙ্গোলিয়া থেকে ধূলিঝড় ছড়িয়ে পড়েছে গানসু, সানহাই ও হেবেই প্রদেশে। এ এলাকাগুলো বেইজিংয়ের চারদিকে অবস্থিত।

বিজ্ঞাপন

পোশাক খাতে কাজ করা বেইজিংয়ের বাসিন্দা ২৫ বছর বয়সী ফ্লোরা ঝু বলেন, ‘দেখে মনে হচ্ছে পৃথিবীর শেষ সময় চলে এসেছে। এমন আবহাওয়ায় আমি বাইরে বের হতে ভরসা পাচ্ছি না।’

সরকারি সংবাদমাধ্যম সিনহুয়ার খবরে বলা হয়, প্রতিবেশী দেশ মঙ্গোলিয়াতেও ধূলিঝড় আঘাত হেনেছে। যাতে অন্তত ৩৪১ জন নিখোঁজের ঘটনা ঘটেছে।

ধূলিঝড়ের কারণে বাধাগ্রস্ত হয়েছে উড়োজাহাজ চলাচলও। চীনের ইনার মঙ্গোলিয়ার রাজধানী হোহতে ফ্লাইট জরুরি অবতরণ করেছে। আরও ধূলিঝড়ের আশঙ্কায় স্থানীয় সময় দুপুরে বেইজিং ক্যাপিটাল ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট এবং বেইজিং ডাশিং ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টে সব ধরনের ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে।

বেইজিং শহরের দূষণ পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের বরাতে জানা যাচ্ছে, সোমবার সকালে বাতাসে ভাসমান কণার ঘনত্ব পিএম ১০–এর মাত্রা বেড়ে দাঁড়ায় ৫০০ মাইক্রোগ্রাম।

কিছু জেলায় সেটি ৮ হাজার মাইক্রোগ্রাম ছাড়িয়ে যায়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শমতে, প্রতিদিনের পিএম ১০–এর মাত্রা ৫০ মাইক্রোগ্রামের বেশি না হওয়াই বাঞ্ছনীয়।

চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, ধূলিঝড়টি ইয়াংজি নদী এলাকার বদ্বীপের দিকে ঘুরে যেতে পারে এবং আগামী বুধ বা বৃহস্পতিবারের দিকে বেইজিংয়ের আকাশ পরিষ্কার হয়ে যাবে।

প্রতিবছর মার্চ এবং এপ্রিল মাসে ধূলিঝড়ের মুখে পড়ে বেইজিং। গোবি মরুভূমির পাশাপাশি চীনের উত্তরাঞ্চলে বন নিধন ও মাটি ক্ষয় থেকে এ ধূলিঝড় তৈরি হয় বলে ধারণা করা হয়ে থাকে। ধূলিঝড় থেকে বেইজিংকে বাঁচাতে ওই সব অঞ্চলে বনায়ন গড়ে তোলা এবং বাস্তুসংস্থান ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে চীনা সরকার।

বেইজিংকে ধূলিঝড় থেকে বাঁচাতে ইতিমধ্যে ‘সবুজ দেয়াল’ গড়ে তোলা হয়েছে।

সেখানে লাগানো গাছ ধুলোকে আটকে দেবে। এ ছাড়া কিছু ‘এয়ার করিডর’ সৃষ্টি করা হচ্ছে, যা ধুলাবালু ও অন্যান্য দূষণ পদার্থ খুব দ্রুত অন্যদিকে ঘুরিয়ে দেবে।

বিজ্ঞাপন
চীন থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন