default-image

তিব্বতের ব্রহ্মপুত্র নদের ওপর একটি বড় জলবিদ্যুৎ প্রকল্প তৈরি করবে চীন। এ-সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব চীনের ১৪তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় সামনে আনা হয়েছে, যা সামনের বছর থেকে বাস্তবায়ন শুরু হবে। বাঁধ নির্মাণের দায়িত্ব পাওয়া একটি চীনা কোম্পানির প্রধানের বরাত দিয়ে দেশটির রাষ্ট্রীয় একটি সংবাদমাধ্যম গত রোববার এ তথ্য জানিয়েছে। ভারতের এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

গ্লোবাল টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, চীনের পাওয়ার কনস্ট্রাকশন করপোরেশনের চেয়ারম্যান ইয়ান ঝিয়ং বলেছেন, চীন ইয়ারলুং জাংবোর ভাটিতে (ব্রহ্মপুত্রের তিব্বত অঞ্চলের নাম) জলবিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে। প্রকল্পটি পানির সংস্থান এবং অভ্যন্তরীণ সুরক্ষায় কাজ করবে।

বিজ্ঞাপন

গত বৃহস্পতিবার এক সম্মেলনে ইয়ান বলেন, প্রকল্পটি দেশের ১৪তম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা প্রণয়নের প্রস্তাবে স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে এবং ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টি অব চায়নার (সিপিসি) কেন্দ্রীয় কমিটির ২০৩৫ সাল পর্যন্ত গৃহীত দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনাতেও তা আছে।

ইয়ান চীন সোসাইটি ফর হাইড্রোপাওয়ার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ৪০তম বার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত সম্মেলনে বলেছেন, ইতিহাসে এর সমান্তরাল কিছু নেই। এটি চীনের জলবিদ্যুৎ শিল্পের জন্য ঐতিহাসিক সুযোগ হবে।

গত মাসে সিপিসির মূল নীতি সংস্থা প্লেনাম চীনের ১৪তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা (২০২১-২৫), জাতীয় অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন এবং ২০৩৫ সালের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করে।

আগামী বছরের শুরুর দিকে জাতীয় পিপলস কংগ্রেস (এনপিসি) দ্বারা আনুষ্ঠানিক অনুমোদনের পর এই পরিকল্পনার বিবরণ প্রকাশ করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ভারতের এনডিটিভি জানিয়েছে, ব্রহ্মপুত্রের ওপর বাঁধ নির্মাণের এ প্রস্তাব ভারত এবং বাংলাদেশের জন্য উদ্বেগ তৈরি করেছে। চীন এসব উদ্বেগ অস্বীকার করে বলেছে, দেশগুলোর স্বার্থের কথা মাথায় রাখবে তারা। ভারত সরকার ধারাবাহিকভাবে চীনা কর্তৃপক্ষের কাছে তাদের মতামত ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। উজানের কোনো তৎপরতার ফলে ভাটির দেশগুলোর স্বার্থ যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, তা নিশ্চিত করার জন্য তাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।

বিজ্ঞাপন

চীন ইতিমধ্যে জলবিদ্যুৎ স্টেশনের জন্য ১৫০ কোটি মার্কিন ডলার দিয়েছে, যা ২০১৫ সালে তিব্বতের বৃহত্তম বাঁধ নির্মাণ প্রকল্প।

নতুন বাঁধ সম্পর্কে গ্লোবাল টাইমস বলেছে, মেডগ কাউন্টি এলাকায় নতুন জলবিদ্যুৎ স্টেশন তৈরির পরিকল্পনা নিয়ে গুঞ্জন রয়েছে। মেডগ তিব্বতের শেষ কাউন্টি, যার সঙ্গে ভারতের অরুণাচল প্রদেশের সীমানা রয়েছে।

ইয়ান বলেছেন, ইয়ারলুং জাংবোর ভাটিতে যে বাঁধ নির্মাণ করা হচ্ছে, তা জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের চেয়ে বেশি কিছু। এটা পরিবেশ, জাতীয় নিরাপত্তা, জীবনমান, বিদ্যুৎ এ আন্তর্জাতিক সহযোগিতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

মন্তব্য করুন