বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

বৈঠকে বাইডেনকে ‘আমার পুরোনো বন্ধু’ সম্বোধন করে বক্তব্য দেন সি চিন পিং। গতকাল চীনা সংবাদমাধ্যম সিনহুয়ার খবরে বলা হয়েছে, তাইওয়ান ইস্যুতে সি চিন পিং সতর্ক করে বলেন, ‘চীনকে নিয়ন্ত্রণে আনতে যুক্তরাষ্ট্রের কিছু মানুষ তাইওয়ানকে ব্যবহার করছে। এটা খুবই বিপজ্জনক একটি কাজ। এর মধ্য দিয়ে আগুন নিয়ে খেলা হচ্ছে। এতে খেলোয়াড়দের হাত পুড়বে।’

এই বিষয়ে হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, তাইওয়ানের শান্তি ও স্থিতিশীলতা নষ্ট করার যেকোনো দখলদারি ও উসকানিমূলক আচরণের জোরালো প্রতিবাদ জানান প্রেসিডেন্ট বাইডেন। সি চিন পিংকে তিনি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র তাইওয়ানের স্বাধীনতাকে সমর্থন করে না। তবে দ্বীপটির প্রতিরক্ষায় পাশে থাকবে ওয়াশিংটন।

বৈঠকে তাইওয়ানের পাশাপাশি তিব্বত, হংকং, জিনজিয়াংসহ চীনের বেশ কয়েকটি এলাকায় ক্রমবর্ধমান মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়েছেন বাইডেন। হোয়াইট হাউস থেকে টেলিভিশন স্ক্রিনে বাইডেন সিকে উদ্দেশ করে বলেন, দুই দেশের মধ্যে প্রতিযোগিতা ইচ্ছাকৃত বা অনিচ্ছাকৃতভাবে যেন সংঘাতে রূপ না নেয়, তা নিশ্চিত করতে হবে।

■ শান্তিপূর্ণ বিশ্ব গড়তে চীন-যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক জোরদার জরুরি: চিন পিং। ■ তাইওয়ানের প্রতিরক্ষায় পাশে থাকবে ওয়াশিংটন: বাইডেন।

বেইজিং থেকে সি চিন পিং বাইডেনকে বলেন, বিশ্বের বৃহত্তম দুটো অর্থনীতি ও জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য হিসেবে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ ও সহযোগিতা জোরদার করা প্রয়োজন।

করোনা মহামারির লাগাম টানা, জ্বালানি ও জলবায়ু পরিবর্তনের মতো আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে একযোগে কাজ করার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন দুই নেতা। সি চিন পিং বলেন, শান্তিপূর্ণ ও স্থিতিশীল বিশ্ব গড়তে চীন-যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার করা প্রয়োজন।

চলতি বছরের জানুয়ারিতে ক্ষমতা নেওয়ার পর সি চিন পিংয়ের সঙ্গে দুই দফায় টেলিফোনে কথা বলেছেন বাইডেন। তবে তাঁদের সামনাসামনি বৈঠক হয়নি। করোনা মহামারির কারণে সি চিন পিং চীনের বাইরে যেতে নারাজ। এ কারণে এই দুই নেতার বৈঠকটি ভার্চ্যুয়ালি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

স্কটল্যান্ডের গ্লাসগোতে সদ্য সমাপ্ত জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক সম্মেলনে (কপ ২৬) বাইডেন যোগ দিলেও উপস্থিত ছিলেন না সি চিন পিং। এ জন্য চীনা প্রেসিডেন্টের সমালোচনা করেছিলেন বাইডেন।

ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট থাকাকালে চীনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের অবনতি হয়। বাণিজ্যযুদ্ধে জড়ায় দুই দেশ। এর মাঝে উহানে করোনাভাইরাসের উৎস সন্ধান নিয়ে চীনের সঙ্গে বিরোধে জড়ায় যুক্তরাষ্ট্র।

চীন থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন