default-image

চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রথম ফোনালাপ হয়েছে।

চীনের স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার সকাল ও যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় বুধবার সন্ধ্যায় দুই নেতার মধ্যে এ ফোনালাপ হয়। বিবিসি অনলাইন ও বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

গত ২০ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেন জো বাইডেন। মার্কিন প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেওয়ার পর বাইডেন প্রথম চীনা প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের সঙ্গে ফোনে কথা বললেন।

চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা রয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে দুই দেশের শীর্ষ পর্যায়ের এ ফোনালাপ তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

সাম্প্রতিক সময়ে বাণিজ্য, গুপ্তচরবৃত্তি, করোনা মহামারিসহ বিভিন্ন ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করে। বিশেষ করে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আমলে দুই দেশের মধ্যকার সম্পর্ক সবচেয়ে বাজে পর্যায়ে পৌঁছায়।

দুই দেশ তথা বৃহত্তর বিশ্বের কল্যাণে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যকার সম্পর্ক খুবই গুরুত্বপূর্ণ বলে বলছে বেইজিং। দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নে বাইডেনের নতুন প্রশাসনের প্রতি বারবার আহ্বান জানিয়ে আসছে চীন।

এখন চীনা চান্দ্রবর্ষের আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি একই আহ্বান জানাল চীন। চীনের এই আহ্বানকে একটি শুভ ইচ্ছা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সি চিন পিং ও জো বাইডেনের মধ্যে ফোনালাপে বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনার তথ্য উভয় পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, চীনের জিনজিয়ানে মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রসঙ্গটি সি চিন পিংয়ের কাছে তুলেছেন বাইডেন।

বাণিজ্য ইস্যু, হংকংয়ে চলমান দমন–পীড়ন, তাইওয়ানের সঙ্গে উত্তেজনার প্রসঙ্গও সি চিন পিংয়ের কাছে তুলেছেন বাইডেন।

এক বিবৃতিতে হোয়াইট হাউস বলেছে, বেইজিংয়ের জবরদস্তিমূলক ও অন্যায্য অর্থনৈতিক চর্চা, হংকংয়ে দমন–পীড়ন, জিনজিয়ানে মানবাধিকার লঙ্ঘন, তাইওয়ানসহ সংশ্লিষ্ট অঞ্চলে চীনের আগ্রাসী পদক্ষেপের বিষয়ে প্রেসিডেন্ট বাইডেন তাঁর মৌলিক উদ্বেগের কথা সি চিন পিংকে জানিয়েছেন।

সি চিন পিংয়ের সঙ্গে ফোনালাপের পর বাইডেন টুইট করেছেন। টুইটে তিনি বলেছেন, ‘আমি তাঁকে (সি চিন পিং) বলেছি, যখন আমেরিকার জনগণের সুবিধার বিষয়টি আসবে, তখন চীনের সঙ্গে কাজ করব।’

বিবিসি জানিয়েছে, করোনা মহামারি মোকাবিলা, বৈশ্বিক স্বাস্থ্য নিরাপত্তার চ্যালেঞ্জ, জলবায়ু পরিবর্তন, অস্ত্রের বিস্তার রোধের মতো বিষয় নিয়েও দুই নেতার মধ্যে আলোচনা হয়েছে।

চীনের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন সিসিটিভি বলেছে, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ও গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক-আঞ্চলিক বিষয় নিয়ে দুই নেতা বিস্তারিতভাবে আলোচনা করেছেন।

চীনের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের তথ্যমতে, যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে সংঘাত হলে, তা উভয় দেশের জন্য একটা বিপর্যয় হবে বলে বাইডেনকে সতর্ক করেছেন সি চিন পিং।

দুই দেশের মধ্যে ভুল–বোঝাবুঝি এড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন চীনা প্রেসিডেন্ট।

ফোনালাপে চীনা প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং জিনজিয়ান, হংকং ও তাইওয়ান ইস্যুতে বেইজিংয়ের কঠোর অবস্থান বজায় রেখেছেন। তিনি বাইডেনকে বলেছেন, এগুলো চীনের সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতার বিষয়। এসব বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র সতর্ক পন্থা অবলম্বন করবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন সি চিন পিং।

চীন থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন