default-image

হংকংয়ের গণতন্ত্রপন্থী আইনপ্রণেতারা গণপদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন। বেইজিং তাদের চারজন সহকর্মীকে অপসারণের জন্য বাধ্য করার পরে তাঁরা এ ঘোষণা দিয়েছেন। গতকাল বুধবার বেইজিং হংকং সরকারকে জাতীয় সুরক্ষার জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচিত রাজনীতিবিদদের বরখাস্ত করার একটি প্রস্তাব পাস করেছে। এর পরপরই বিরোধী দলের আইনপ্রণেতারা একসঙ্গে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন।

বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৯৯৭ সালে হংকংকে চীনের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার পর প্রথমবারের মতো বিরোধী দলের নেতাদের একমত হতে দেখা গেছে।

বিবিসির চীন প্রতিনিধি স্টিফেন ম্যাকডোনেল বলেছেন, আইনসভা ইতিমধ্যে বেইজিংপন্থী শিবিরের পক্ষে মত দিয়েছে। চারজন আইনপ্রণেতাকে বরখাস্ত করার বিষয়টি অনেকে হংকংয়ের স্বাধীনতায় চীনের বাধা দেওয়ার সর্বশেষ প্রচেষ্টা হিসেবে দেখেছেন। বেইজিং এ ধরনের অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।

বিজ্ঞাপন

ডেমোক্রেটিক পার্টির চেয়ারম্যান উ চি-ওয়াই সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘আমরা বিশ্বকে আর বলতে পারি না যে আমাদের এখনো এক দেশ দুটি সিস্টেম নীতি রয়েছে। তার আনুষ্ঠানিক মৃত্যু ঘোষণা করা হয়েছে।

সাবেক ব্রিটিশ উপনিবেশ হংকংকে এক দেশ দুই সিস্টেম মূলনীতিতে চীনের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এতে ২০৪৭ সাল পর্যন্ত মূল ভূখণ্ডের চেয়ে বেশি স্বাধীনতা ও অধিকার ভোগ করার কথা। গত জুন মাসে বেইজিং একটি বিতর্কিত আইন পাস করে, যাতে বেইজিং হংকংয়ের বিদ্যমান স্বাধীন আইনিব্যবস্থাকে অগ্রাহ্য বা বাতিল করতে পারবে। এ ছাড়া নতুন নিরাপত্তা আইন কার্যকর করতে চীনের মূল ভূখণ্ডের কর্মকর্তারা হংকংয়ে একটি জাতীয় নিরাপত্তা অফিস প্রতিষ্ঠা করবেন।

চীনের কাছে অপরাধী প্রত্যর্পণ আইনকে হংকংয়ের জনগণ সরাসরি তাদের স্বাধীনতার ওপর হস্তক্ষেপ হিসেবে দেখেছে। বয়স্ক নাগরিকেরা এ আইনকে দেখছেন হংকংয়ের কাছে করা চীনের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ হিসেবেও।

সাবেক ব্রিটিশ উপনিবেশ ১৯৯৭ সালে চীনের কাছে হস্তান্তরের পর চীন প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তাদের এক দেশ দুই নীতির আওতায় হংকং অন্তত ৫০ বছরের জন্য স্বাধীনতা ভোগ করবে। প্রশাসনিক বিষয়গুলো চীনের ওপর ন্যস্ত থাকলেও হংকং এই স্বাধীনতা ভোগ করবে স্বায়ত্তশাসনের পথ ধরে।

কিন্তু সম্প্রতি গুরুতর অপরাধের অভিযোগ রয়েছে, এমন ব্যক্তিদের চীন চাইলে বিচারের জন্য মূল ভূমিতে হস্তান্তর করার বিধান রেখে একটি আইন পাস করে হংকং সরকার। অপরাধী প্রত্যর্পণ আইন নামে পরিচিত এ আইনকে হংকংয়ের নাগরিকেরা চীনের আধিপত্য বিস্তারের কৌশল হিসেবে দেখছে।

নগরটির গণতন্ত্রপন্থী বিধায়কদের ৭০ আসনের আইনসভায় ১৯টি আসন ছিল। সব সদস্যই এখন পদত্যাগ করেছেন বা বরখাস্ত হয়েছেন।

বুধবার চীনের ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসের স্থায়ী কমিটি কর্তৃক গৃহীত নতুন প্রস্তাবে বলা হয়েছে, আইনপ্রণেতারা যদি হংকংয়ের স্বাধীনতা সমর্থন করেন, চীনের সার্বভৌমত্বকে অস্বীকার করেন এবং বিদেশি বাহিনীকে শহরের বিষয়ে হস্তক্ষেপ করতে বলেন তবে তাদের জাতীয় সুরক্ষার হুমকি হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0