default-image

হংকংয়ের নির্বাচনী ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে চীন। এ পরিবর্তন হংকংয়ের ওপর চীনের নিয়ন্ত্রণ আরও জোরালো করবে। আজ মঙ্গলবার বিবিসি অনলাইনের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

হংকংয়ের নির্বাচনী ব্যবস্থায় পরিবর্তনের আওতায় পার্লামেন্টে সরাসরি নির্বাচিত সদস্যের সংখ্যা প্রায় অর্ধেক কমানো হয়েছে। এ ছাড়া সম্ভাব্য প্রার্থীকে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার আগে প্রথমে চীনপন্থী একটি কমিটির পরীক্ষার (ভেটিং) মুখোমুখি হতে হবে। এই কমিটি সম্ভাব্য প্রার্থীর চীনের প্রতি তাঁর আনুগত্যের বিষয়টি যাচাই করবে।

হংকংয়ের নির্বাচনী ব্যবস্থায় কথিত সংস্কারে ‘দেশপ্রেমিক’ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে চীন। বেইজিং এ সংস্কারের মাধ্যমে হংকংয়ের পার্লামেন্টে শুধু ‘দেশপ্রেমিক’ প্রার্থীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে চায়।

সমালোচকেরা সতর্ক করে বলেছেন, হংকংয়ের নির্বাচনী ব্যবস্থায় এ পরিবর্তনের অর্থ হলো গণতন্ত্রের সমাপ্তি। কারণ, নির্বাচনী বিধিতে পরিবর্তনের ফলে হংকংয়ের পার্লামেন্ট নির্বাচনে বিরোধীদের অংশ নেওয়ার আর সুযোগ থাকবে না।

মার্চের শুরুর দিকে চীনের ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসের (এনপিসি) সভা চলাকালে হংকংয়ের নির্বাচনী ব্যবস্থায় পরিবর্তনের পরিকল্পনা প্রথম অনুমোদন দেয় পার্লামেন্ট।

আজ মঙ্গলবার চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, হংকংয়ের নির্বাচনী ব্যবস্থায় পরিবর্তনের বিষয়টি পাসে এনপিসি স্ট্যান্ডিং কমিটি সর্বসম্মতভাবে ভোট দেয়। এনপিসি স্ট্যান্ডিং কমিটি চীনের শীর্ষ সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী সংস্থা।

পরিবর্তনের বিষয়ে হংকংয়ের নেতা ক্যারি ল্যাম শিগগিরই সংবাদ সম্মেলন করবেন।

বিজ্ঞাপন

কয়েক সপ্তাহ আগে পরিবর্তনের বিষয়টি ঘোষণা করা হয়। চীনের এ পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সমালোচিত হচ্ছে।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্থনি ব্লিঙ্কেন এ পদক্ষেপকে গণতন্ত্রের ওপর আঘাত বলে বর্ণনা করেছেন। অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী মরিস পেইন উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, এ পরিবর্তন গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে দুর্বল করবে।

১৯৯৭ সালে ব্রিটিশ উপনিবেশ থেকে চীন শাসনে অন্তর্ভুক্ত হয় হংকং। তখন থেকে হংকং ‘এক দেশ, দুই নীতি’ পদ্ধতির আওতায় স্বায়ত্তশাসনের মর্যাদা ভোগ করে আসছিল। হংকংয়ের ওপর নিয়ন্ত্রণ বাড়াতে গত বছর নিরাপত্তা আইন পাসের পর তা কার্যকর করে চীন। এ আইনের প্রতিবাদে হংকংয়ে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়। বিক্ষোভ দমনে চীন কঠোর ব্যবস্থা নেয়।

চীন থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন