default-image

হংকংয়ের নির্বাচন ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আনতে চীনা পার্লামেন্টে নেওয়া এক সিদ্ধান্তের নিন্দা জানিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। এ ব্যাপারে চীনের বিরুদ্ধে ‘অতিরিক্ত ব্যবস্থা’ নেওয়া হতে পারে বলে গতকাল বৃহস্পতিবার সতর্ক করে দিয়েছে সংস্থাটি। খবর এএফপির।

২৭টি দেশের জোট ইইউর তরফে সংস্থাটির পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক প্রধান জোসেফ বোরেল এক বিবৃতিতে বলেন, গণপ্রজাতন্ত্রী চীনের ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেস আজ এক সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা হংকংয়ের গণতান্ত্রিক জবাবদিহি ও বহুত্ববাদী রাজনৈতিক ব্যবস্থার ওপর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে।

চীনের পার্লামেন্টে গতকাল বৃহস্পতিবার ২৮৯৫-০ ভোটে হংকংয়ের নির্বাচনপদ্ধতি পরিবর্তনের খসড়া আইনটি পাস হয়। ব্যাপক করতালির মাধ্যমে এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানান চীনা আইনপ্রণেতারা।

নতুন পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলে হংকংয়ের নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে বিরোধিতার পথ প্রায় বন্ধ হবে। কেননা এতে হংকংয়ের আইনসভার আকার ও গঠন বদলে যাবে। বেইজিংপন্থীদের মধ্য থেকে একজনকে প্রধান নির্বাহী নির্বাচিত করবে নির্বাচক কমিটি। শহরের অনেক প্রতিনিধি নির্বাচনের ক্ষমতাও এ কমিটিকে দেওয়া হবে। প্রার্থী বাছাইয়ের নতুন পদ্ধতি ঠিক করা হবে।

বিজ্ঞাপন

আইনসভার সদস্যসংখ্যা ৭০ থেকে বাড়িয়ে ৯০ করা হবে এবং নির্বাচন কমিটির আকার ১ হাজার ২০০ থেকে বাড়ে দেড় হাজার হবে। বর্তমানে আইনসভার অর্ধেক সদস্য সরসরি ভোটে নির্বাচিত হন। বাকি অর্ধেক নির্বাচিত হন বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠান, ইউনিয়ন ও পেশাজীবীদের মধ্য থেকে যাঁরা প্রধানত আসেন বেইজিংপন্থীদের মধ্য থেকে। এখন নতুন পদ্ধতি প্রয়োগ হলে সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হয়ে কারা আসবেন, তা ঠিক করে দিতে পারবে নির্বাচক কমিটি।

ইতিপূর্বে ইউরোপীয় ইউনিয়ন চীনে এমন সব সরঞ্জামাদির রপ্তানি সীমিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, যেগুলো হংকংয়ের ওপর নজরদারিতে ব্যবহার করা যেত। হংকং পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে চীনের বিরুদ্ধে বৃহত্তর পরিসরে অবরোধ আরোপের বিষয়টি নিয়েও এই জোটের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা আলোচনা করেছিলেন।

ইইউর বিবৃতিতে বলা হয়, হংকংয়ের পরিচিতি ও সমৃদ্ধির কেন্দ্রে থাকা মৌলিক স্বাধীনতা, গণতান্ত্রিক নীতি ও রাজনৈতিক বহুত্ববাদকে চীন এবং বেইজিং–সমর্থিত হংকংয়ের কর্তৃপক্ষ ক্রমেই বেশি করে চাপের মুখে ফেলছে। হংকংয়ের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ত্বরান্বিত করতে কাজ করে যাওয়া ব্যক্তিদের ওপর নিপীড়ন বন্ধে চীন ও হংকংয়ের কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন।

ইতিপূর্বে ইউরোপীয় ইউনিয়ন চীনে এমন সব সরঞ্জামাদির রপ্তানি সীমিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, যেগুলো হংকংয়ের ওপর নজরদারিতে ব্যবহার করা যেত। হংকং পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে চীনের বিরুদ্ধে বৃহত্তর পরিসরে অবরোধ আরোপের বিষয়টি নিয়েও এই জোটের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা আলোচনা করেছিলেন।

এ ছাড়া গত মাসে ইইউ পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা এক বৈঠকে হংকংয়ে নাগরিক সমাজের প্রতি সমর্থন জোরদার করা ও চীনের ওপর চাপ তৈরিতে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে সমন্বয় বাড়ানোর বিষয়ে সম্মত হন।

বিবৃতিতে বলা হয়, চীনের সাম্প্রতিকতম সিদ্ধান্তের ফলে ইউরোপীয় ইউনিয়ন দেশটির বিরুদ্ধে বাড়তি পদক্ষেপ গ্রহণ ও হংকং পরিস্থিতির ওপর মনোযোগ বাড়ানোর বিষয় বিবেচনা করবে।

বিজ্ঞাপন
চীন থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন