শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার পরও সংঘাত থামেনি পূর্ব ইউক্রেনে। রাশিয়া ও ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ইউরোপের তিন শীর্ষ নেতার বৃহস্পতিবারের দীর্ঘ বৈঠকে যুদ্ধবিরতির ব্যাপারে মতৈক্য হয়েছিল। তবে এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই নতুন করে গুলিবিনিময় হয়। এতে গতকাল শুক্রবার পর্যন্ত অন্তত ১৮ জন নিহত হয়েছে। খবর এএফপির।
মস্কোপন্থী বিদ্রোহী ও ইউক্রেনের সরকারি সূত্র শুক্রবার জানায়, লড়াইয়ে আগের ২৪ ঘণ্টায় অন্তত সাতজন বেসামরিক লোক নিহত হয়েছেন। আর ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী জানায়, এতে তাদের আটজন সেনা প্রাণ হারিয়েছেন।
অস্ত্রবিরতি অবিলম্বে কার্যকর করা হবে বলে রাশিয়া জানিয়েছে। কিন্তু ইউক্রেনের রুশপন্থী বিদ্রোহীরা ওই অস্ত্রবিরতি বাস্তবায়নের ব্যাপারে শুরুতেই টালবাহানা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
বেলারুশের রাজধানী মিনস্কে টানা ১৭ ঘণ্টা আলোচনার পর ইউক্রেন সরকার ও পূর্বাঞ্চলের বিদ্রোহী নেতারা গত বৃহস্পতিবার একটি শান্তি পরিকল্পনায় পৌঁছান। ওই আলোচনায় রাশিয়া, ইউক্রেন, ফ্রান্স ও জার্মানির শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। যুদ্ধ উপদ্রুত অঞ্চলে ইউক্রেনের স্থানীয় সময় রোববার মধ্যরাত থেকে অস্ত্রবিরতি কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে। এ চুক্তি অনুযায়ী দুই পক্ষই এর দুই দিনের মধ্যে ভারী অস্ত্রশস্ত্র রণাঙ্গন থেকে সরিয়ে নেবে।
ইউক্রেনের বিদ্রোহীরা মস্কোর মদদ ও অস্ত্র সহায়তা পাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে রাশিয়া এ ধরনের অভিযোগ বরাবর অস্বীকার করে আসছে। এবার লড়াই বন্ধ না হলে রাশিয়ার ওপর নতুন করে অবরোধ আরোপ করার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইউরোপ। নাজুক অস্ত্রবিরতি চুক্তিটিকে চলমান লড়াই বন্ধ করার পথে বড় আশা হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে। বেলারুশের মিনস্কেই স্বাক্ষরিত আগের একটি অস্ত্রবিরতি তেমন ফলপ্রসূ হয়নি।
ইউক্রেনের সেনাবাহিনী গতকাল জানায়, সবচেয়ে ভয়াবহ লড়াই হয়েছে কৌশলগত কারণে গুরুত্বপূর্ণ দেবালৎসেভ শহরে। রুশপন্থী বিদ্রোহীরা একটি রেলস্টেশনে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় বলে জানিয়েছে কিয়েভ। জায়গাটি বিদ্রোহকবলিত দোনেৎস্ক ও লুহানস্কের মাঝামাঝি স্থানে। ইউক্রেনের অভিযোগ, মিনস্কে আলোচনা চলার সময়ই রাশিয়ার আরও ৫০টি ট্যাংক সীমান্ত অতিক্রম করে ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলে অনুপ্রবেশ করেছে।
পূর্ব ইউক্রেনে ১০ মাস ধরে চলা লড়াইয়ে অন্তত পাঁচ হাজার ৪৮০ জন নিহত হয়েছে। এ সংঘাতকে কেন্দ্র করে রাশিয়ার সঙ্গে পাশ্চাত্যের স্নায়ুযুদ্ধ-পরবর্তী সবচেয়ে বেশি উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
মিনস্ক আলোচনার অন্যতম উদ্যোক্তা জার্মানির চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা ম্যার্কেল বৃহস্পতিবার রাতে ব্রাসেলসে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) এক শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নেন। ম্যার্কেল এতে বলেন, বর্তমান শান্তি আলোচনা ফলপ্রসূ হলে তাঁরা খুশি হবেন। কিন্তু জটিলতা দেখা দিলে রাশিয়ার বিরুদ্ধে নতুন অবরোধ আরোপ করার সম্ভাবনা বাতিল করে দেওয়া যাবে না। একই ধরনের হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া ওলাঁদও।
ইউক্রেনে শান্তির ব্যাপারে সমঝোতা হওয়ায় স্বাগত জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটি কয়েক দিন আগে বলেছিল, পূর্ব ইউক্রেনে লড়াই চলতে থাকলে সে দেশের দুর্বল হয়ে পড়া সরকারি বাহিনীকে অস্ত্র সরবরাহ করা হবে। এ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ইউরোপীয় মিত্রদের মধ্যে অবশ্য মতান্তর আছে। হোয়াইট হাউস বলেছে, অস্ত্রবিরতি পরিপূর্ণভাবে কার্যকর করতে হবে এবং রাশিয়া সীমান্তের কাছাকাছি এলাকায় কিয়েভের নিয়ন্ত্রণ পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে হবে।

বিজ্ঞাপন
ইউরোপ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন