default-image

পূর্ব ইউরোপের দেশ বেলারুশের নির্বাচন নিয়ে বিতর্ক চলার মধ্যেই রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন দেশটির সঙ্গে রাশিয়ার আরও গভীর সম্পর্ক স্থাপনের কথা বলেছেন। আজ সোমবার লুকাশেঙ্কোর কাছে পাঠানো এক অভিনন্দন বার্তায় পুতিন এ কথা বলেন।

গতকাল রোববার বেলারুশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এতে ১৯৯৪ সাল থেকে ক্ষমতায় থাকা প্রেসিডেন্ট আলেক্সান্ডার লুকাশেঙ্কো ৮০ শতাংশ ভোট পেয়ে পুনর্নির্বাচিত হন। নির্বাচনের এই ফল প্রত্যাখ্যান করেছেন বিরোধী নেতা সভেতলানা তিখানভস্কায়া। আজ সোমবার তিনি ঘোষণা করেন, ‘আমি নিজেকে নির্বাচনে বিজয়ী বলে মনে করি।’

বিরোধী নেতার এ ঘোষণার পর বহু লোক রাস্তায় নেমে আসে। উত্তাল হয়ে ওঠে দেশটির রাজধানী। পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষ হয়। গ্রেপ্তার করা হয় সহস্রাধিক বিক্ষোভকারীকে। নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে আন্তর্জাতিক মহলও। এই বিক্ষোভকারীদের ভিন্ন দেশ নিয়ন্ত্রিত ‘ভেড়া’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট আলেক্সান্ডার লুকাশেঙ্কো।

এর মধ্যেই রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন দেশটির সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর করার কথা জানান। এ সম্পর্কিত এক বার্তায় পুতিন বেলারুশে অনুষ্ঠিত নির্বাচনকে ‘প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ’ বলে আখ্যা দেন। লুকাশেঙ্কোর কাছে পাঠানো এ অভিনন্দন বার্তায় পুতিন দু দেশের মধ্যকার সম্পর্ক আরও দৃঢ় করার ওপর জোর দেন। বিশেষত সামরিক ও রাজনৈতিক সম্পর্কোন্নয়নের ওপর জোর দেন তিনি। অবশ্য এই বার্তার কোনো উত্তর এখনো দেননি লুকাশেঙ্কো।

default-image

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, বেলারুশের প্রেসিডেন্ট আলেক্সান্ডার লুকাশেঙ্কো রাশিয়ার মিত্র হিসেবে পরিচিত। পশ্চিমা দেশগুলোতে জ্বালানি তেল রপ্তানি রুটে বেলারুশ রাশিয়ার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভূ-রাজনৈতিক বিবেচনাতেও দেশটি মস্কোর কাছে গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু এই সম্পর্কের অবনমন হয় মাঝে। কারণ ছিল জ্বালানি তেলই।

সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর পশ্চিমা ব্যবস্থাপত্র না মেনে নিজের মতো করে দেশ পরিচালনা করা বাম ঘরানার নেতা আলেক্সান্ডার লুকাশেঙ্কোর সঙ্গে মস্কোর সম্পর্ক ইদানীং ভালো যাচ্ছে না। সম্প্রতি জ্বালানি তেল সরবরাহের চুক্তি নিয়ে সম্পর্ক শীতল হয়। নির্বাচনের মাত্র এক সপ্তাহ আগে লুকাশেঙ্কো সরাসরি অভিযোগ করেন, মস্কো ভ্রাতৃপ্রতিম সম্পর্ককে সম্মান করেনি। বেলারুশ রাশিয়া থেকে ৭০ কোটি ডলারের পাওনা রয়েছে বলেও ক্ষোভ প্রকাশ করেন। শুধু তাই নয়, বেলারুশের মাটিতে বিমানঘাঁটি স্থাপনের রুশ প্রস্তাবও তিনি ফিরিয়ে দেন। এই সম্পর্কই নবায়নের চেষ্টা এখন করছেন পুতিন। একইভাবে বেলারুশ পরিস্থিতির ওপর তীক্ষ্ণ নজর রাখছে রাশিয়ার বিরোধী পক্ষও।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0