default-image

করোনা মহামারি নিয়ন্ত্রণে এখন পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হচ্ছে অক্সফোর্ড–অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা। তবে এর কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নিয়ে নানা দেশে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। এ কারণে কোনো কোনো দেশ এই টিকা ব্যবহার শুরুর পর আবার তা স্থগিত করেছে বা বাতিল করেছে। মহামারি নিয়ন্ত্রণের প্রচেষ্টায় এটা বড় ধাক্কা। এর কারণ হচ্ছে এটি সাশ্রয়ী ও প্রতিদ্বন্দ্বী অন্য টিকার তুলনায় এটি সংরক্ষণ করা সহজ।

বার্তা সংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাজ্য এখন আর ৩০ বছরের কম বয়সীদের জন্য অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভাবিত টিকাটি ব্যবহারের জন্য সুপারিশ করছে না। দক্ষিণ আফ্রিকা ইতিমধ্যে টিকাটির ব্যবহার বন্ধ করে দিয়েছে।
সরকারি সূত্র থেকে তথ্য নিয়ে ডেটাবেইস তৈরি করেছে এএফপি। তাদের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের ১১১টি দেশে অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা দেওয়া হয়েছে। ফাইজার ও বায়োএনটেক এবং মডার্নার টিকা মিলিয়েও এত দেশে টিকা দেওয়া হয়নি।

বিজ্ঞাপন

যেসব দেশে টিকা বন্ধ করা হয়েছে

দক্ষিণ আফ্রিকা ইতিমধ্যে অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা দেওয়ার কার্যক্রম বাতিল করেছে। গত ফেব্রুয়ারি মাসে এ টিকাদান শুরু করেছিল দেশটি। তব এক গবেষণায় দেখা যায়, অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকাটি দক্ষিণ আফ্রিকায় করোনার নতুন একটি ধরনের ফলে সৃষ্ট মৃদু ও মাঝারি অসুস্থতা প্রতিরোধে ব্যর্থ হয়েছে। এরপর দেশটি টিকা কার্যক্রম বাতিল করে। এর পরিবর্তে টিকার ডোজগুলো তারা আফ্রিকান ইউনিয়নকে দেওয়ার প্রস্তাব করে।

ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ব্রিটিশ ওষুধ নিয়ন্ত্রকেরা গত বুধবার বলেছে, বিরল কিছু ক্ষেত্রে রক্ত জমাট বাঁধার বিষয়টিকে তারা পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবে যুক্ত করতে যাচ্ছে।

এক ডজনের বেশি দেশ মার্চের মাঝামাঝি সময়ে অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকাদান কর্মসূচি বাতিল করে। এর মধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বড় কয়েকটি দেশও রয়েছে। টিকা দেওয়ার পর রক্ত জমাট বাঁধাসহ ও অন্যান্য সম্ভাব্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ভয়ে এ পদক্ষেপ নেয় দেশগুলো।

তবে ইউরোপের ওষুধ নিয়ন্ত্রকের পক্ষ থেকে টিকাটিকে ‘নিরাপদ ও কার্যকর’ হিসেবে মন্তব্য করার পর অনেক দেশ আবার টিকাদান কর্মসূচি চালুও করেছে। তবে নরওয়ে ও ডেনমার্কের মতো কয়েকটি দেশ এখনো অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা দেওয়া শুরু করেনি।

বয়স্কদের জন্য টিকাদান

অনেক দেশ কেবল বয়স্ক লোকজনের জন্য করোনার টিকাদান কর্মসূচি চালু করেছে। এর মধ্যে বেশির ভাগের ক্ষেত্রে ৫৫ বছর বা তার বেশি বয়সীদের ক্ষেত্রে এ টিকা দেওয়া হচ্ছে। কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে, তরুণদের মধ্যে রক্ত জমাট বাঁধার প্রবণতা বেশি। যেসব দেশে বয়স্ক ব্যক্তিদের টিকা দেওয়া হচ্ছে, তাদের মধ্যে রয়েছে ফ্রান্স, কানাডা, জার্মানি, নেদারল্যান্ডস, ফিনল্যান্ড, আইসল্যান্ড ও সুইডেন।

default-image

বয়স্কদের ক্ষেত্রে অনেক দেশ আবার অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা দেওয়া শুরু করলেও রক্ত জমাট বাঁধার বিষয়টি তারা পুরোপুরি উপেক্ষা করছে না। ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ব্রিটিশ ওষুধ নিয়ন্ত্রকেরা গত বুধবার বলেছে, বিরল কিছু ক্ষেত্রে রক্ত জমাট বাঁধার বিষয়টিকে তারা পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবে যুক্ত করতে যাচ্ছে।

স্পেন, ফিলিপাইন ও ইতালি ৬০ বছরের কম বয়সীদের ক্ষেত্রে অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকার ব্যবহার বন্ধ করে দিয়েছে। অন্যদিকে বেলজিয়াম ৫৫ বছরের বেশি বয়সীদের ক্ষেত্রে কেবল টিকাটি দেবে।

অস্ট্রেলিয়াও বলছে, ৫০ বছরের কম বয়সীদের তারা আর টিকা দেবে না। তবে যাঁরা কোনো রকম অসুস্থতা ছাড়াই প্রথম ডোজ পেয়ে গেছেন, তাঁরা দ্বিতীয় ডোজ পাবেন।

বিজ্ঞাপন

নতুন বিকল্প

অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকাটি ঘিরে নতুন করে সৃষ্ট উদ্বেগের কারণে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় শিশুদের ওপর টিকা পরীক্ষা বাতিল করেছে। যুক্তরাজ্য ইতিমধ্যে ২ কোটির বেশি ডোজ টিকা দিয়েছে। এখন দেশটি তরুণদের জন্য বিকল্প টিকা দেওয়ার কথা ভাবছে।

এএফপি বলছে, টিকা সরবরাহ ও নিরাপত্তা উদ্বেগ সত্ত্বেও অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকাটি বিশ্বের ১১১টি দেশ ও অঞ্চলে দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া বিশ্বের দরিদ্র দেশগুলোকে টিকাটি দিতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ছাড়াও যুক্ত হয়েছে স্বল্প মূল্যে টিকা দেওয়ার বৈশ্বিক উদ্যোগ গ্যাভি, সংক্রামক রোগের টিকা তৈরির জন্য আন্তর্জাতিক সহযোগিতামূলক সংস্থা (সিইপিআই)। করোনার টিকার ন্যায্য বণ্টন নিশ্চিত করা তাদের এই উদ্যোগের লক্ষ্য।

ইউরোপ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন