বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

রুশ বাহিনী ইউক্রেনে হামলা শুরু করার পর থেকেই কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বন্দরনগরী মারিউপোলের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে রুশ বাহিনীর ব্যাপক বোমা হামলা ও সড়কে সড়কে দুই পক্ষের সেনাদের মধ্যে তুমুল লড়াইয়ে শহরের বেশির ভাগ এলাকা ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আজোভ সাগরের তীরে অবস্থিত শহরটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার জন্য অতিরিক্ত সেনা পাঠাচ্ছে রাশিয়া। পূর্ব ইউক্রেনের দনবাস অঞ্চলে থাকা রুশ বাহিনীর সঙ্গে এসব সেনা যোগ দেবেন।

ইউক্রেনের সামরিক বাহিনীর ক্যাপ্টেন পালামার বলেন, যুদ্ধজাহাজ থেকে ইস্পাত কারখানায় হামলা চালাচ্ছে রাশিয়া। বাংকার ধ্বংস করার জন্য বোমাও ফেলছে তারা।

default-image

তবে তাঁর এসব দাবির সত্যতা বিবিসির পক্ষে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। তবে এই সেনা কর্মকর্তার সঙ্গে গত সপ্তাহে ওই কারখানা থেকেই বিবিসিকে ভিডিও বার্তা পাঠানো ইউক্রেনের এক নৌ কমান্ডারের কথার মিল রয়েছে। তিনি বলেছিলেন, রুশ সেনাদের তুলনায় তারা সংখ্যায় নগণ্য ও তাঁদের রসদ ফুরিয়ে যাচ্ছে।

ক্যাপ্টেন পালামার বলেন, ‘আজোভস্তাল অঞ্চলের সব ভবন কার্যত ধ্বংস হয়ে গেছে। তারা ভারী বোমা ফেলে ও বাংকার ধ্বংসের বোমা দিয়ে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে। রুশ বাহিনীর হামলায় আমরা বাংকারের ভেতরে আহত হচ্ছি আর প্রাণ হারাচ্ছি। কিছু বেসামরিক মানুষ ধসে পড়া ভবনের নিচে আটকা পড়ে আছেন।’

বিবিসি বলছে, আজোভ রেজিমেন্ট মূলত ছিল অতি ডানপন্থী একটি নব্য নাৎসি সশস্ত্র গোষ্ঠী। পরে ইউক্রেনের ন্যাশনাল গার্ডের সঙ্গে এটিকে যুক্ত করা হয়। এই বাহিনীর যোদ্ধারা ইউক্রেনের নৌবাহিনী, সীমান্তরক্ষী বাহিনী ও পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে মারিউপোলে ইউক্রেনের সর্বশেষ প্রতিরোধযোদ্ধা হিসেবে লড়াই করছে। তবে মারিউপোলে এখন ইউক্রেনের আর কতজন প্রতিরোধযোদ্ধা আছেন এ নিয়ে জানতে চাইলে ক্যাপ্টেন পালমার বলেন, ‘হামলা প্রতিহত করার জন্য যথেষ্ট।’ তিনি বলেন, সাধারণ মানুষ যোদ্ধাদের থেকে পৃথক দূরত্বে অবস্থান নিয়েছেন। তারা ভবনের মাটির নিচের অংশে এক জায়গায় ৮০ থেকে ১০০ জন আছেন। কিন্তু এটা এখনো স্পষ্ট নয়, সেখানে মোট কতজন বেসামরিক মানুষ রয়েছেন। এদিকে কিছু ভবনও ধসে পড়েছে।

রুশ বাহিনীর অনবরত গোলাবর্ষণে সেসব মানুষের কাছে যোদ্ধারা পৌঁছাতে পারছেন না। কিছু বাংকারের প্রবেশদ্বার বড় বড় কংক্রিটের স্ল্যাব দিয়ে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। শুধু ভারী যন্ত্রপাতি চলাচল করতে দেওয়া হচ্ছে।

ক্যাপ্টেন পালামার বলেন, ‘আমরা যেতে পারি এমন সব স্থানে বেসামরিক মানুষজন আশ্রয় নিয়ে রয়েছেন, তাদের সঙ্গে আমরা যোগাযোগ রাখছি। আমরা জানি যে সেখানে কমবয়সী শিশু এমনকি তিন মাসের শিশুও আছে।’ বেসামরিক মানুষের ইস্পাত কারখানা থেকে নিরাপদে উদ্ধার করার আহ্বান জানিয়েছেন যোদ্ধারা।

default-image

পালামার বলেন, ‘এসব মানুষ ইতিমধ্যে যুদ্ধাপরাধসহ আরও অনেক কিছুর মধ্য দিয়ে গেছে। তারা রুশদের বিশ্বাস করে না। তারা এখন আতঙ্কিত।’ তিনি আরও বলেন, রাশিয়ার সেনাদের হাতে নির্যাতন ও মৃত্যুর ভয়ে আছে এসব মানুষ। কথিত সংশোধন শিবিরের মাধ্যমে রাশিয়ায় পাঠিয়ে দেওয়া নিয়েও ভয়ে আছেন তাঁরা।

ইস্পাত কারখানায় আটকা পড়া প্রবীণ মানুষজের খাবার দরকার। এ ছাড়া সেখানে প্রায় ৫০০ জন ইউক্রেনীয় সেনা রয়েছেন, যারা গুরুতর আহত। এই পরিস্থিতিতে তাঁদের যে সেবাযত্ন দরকার, তাঁরা সেটা পাচ্ছেন না। এ ছাড়া গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন রয়েছে অনেকের।

ক্যাপ্টেন পালামার বলেন, ‘৫২ দিন ধরে অবরুদ্ধ ও ব্যাপক লড়াইয়ের পর আমাদের হাতে থাকা ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম ফুরিয়ে এসেছে। এ ছাড়া আমাদের যোদ্ধাদের মরদেহগুলো সৎকার করা দরকার। কিন্তু আমরা সেটা করতে পারছি না। অথচ ইউক্রেনের ভূমিতে মর্যাদার সঙ্গেই তাঁদের শেষকৃত্য হওয়ার কথা ছিল।’ তিনি আরও বলেন, ইউক্রেনের প্রতিরোধ যোদ্ধারা চাচ্ছেন যদি সম্ভব হয় তাহলে নিরাপদে তাঁদের সেখান থেকে উদ্ধার করে নিয়ে যাওয়া হোক। কিন্তু সেখানে আত্মসমর্পণ করার কোনো প্রশ্ন নেই।

ইউরোপ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন