default-image

মালয়েশিয়ার সর্বোচ্চ আদালত গতকাল মঙ্গলবার দেশটির বিরোধীদলীয় নেতা আনোয়ার ইব্রাহিমের পাঁচ বছরের সাজা বহাল রেখেছেন। সমকামিতার অপরাধে আনোয়ারের ওই সাজা হয়েছিল।
আনোয়ার ইব্রাহিম চূড়ান্ত এ রায়কে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত আখ্যায়িত করলেও আদালত বলেছেন, পর্যাপ্ত প্রমাণের ভিত্তিতেই রায় দেওয়া হয়েছে। খবর বিবিসি ও এএফপির।
গত বছরের মার্চ মাসে আদালত আনোয়ার ইব্রাহিমকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেন। তিনি ফেডারেল আদালতে এই সাজা মওকুফ চেয়ে আপিল আবেদন করেছিলেন। এখন ফেডারেল আদালতের রায়ের পর তাঁকে কারাগারে যেতে হবে।
রায় ঘোষণার পর আনোয়ার ইব্রাহিম বলেন, ‘আমি নির্দোষ। আমাকে কারাগারে ভরার এই সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক। আমি এই ব্যবস্থা বুঝি। আমার রাজনৈতিক জীবন ধ্বংস করার জন্যই এই রায়।’
দণ্ডিত এই বিরোধী নেতা বিচারকদের উদ্দেশে বলেন, ‘বিচার বিভাগের স্বাধীনতাকে হত্যা করার কাজে আপনারা সহযোগী।’
রায় ঘোষণার পর বিচারপতি আরিফিন জাকাত বলেন, ব্যাপক তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতেই আনোয়ার ইব্রাহিমের বিরুদ্ধে আগের আদালতের রায় বহাল রাখা হলো।
এই রায় ঘোষণার সময় কয়েক শ আনোয়ার-সমর্থক আদালতকক্ষের বাইরে বিক্ষোভ করতে থাকেন।
এ নিয়ে দ্বিতীয় দফা আনোয়ার ইব্রাহিমের কারাদণ্ড হলো। এর আগেও তাঁর বিরুদ্ধে এক পুরুষ রাজনৈতিক সহকর্মীর সঙ্গে পায়ুকামের অভিযোগ আনা হয়। সেটি ২০০৮ সালের কথা। তবে পর্যাপ্ত প্রমাণের অভাবে ২০১২ সালে ওই মামলা খারিজ করে দেন হাইকোর্ট। পরে সরকারের পক্ষ থেকে একই অভিযোগে আবার মামলা করা হয়। সেই মামলাতেই পাঁচ বছরের কারাদণ্ড হয় আনোয়ারের।
মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ মালয়েশিয়ায় সমকামিতা অবৈধ। তবে এই অভিযোগে শাস্তি দেওয়ার উদাহরণ কমই আছে।
দুর্নীতি ও সমকামিতার অভিযোগে ১৯৯৮ সালে আনোয়ার ইব্রাহিমকে মালয়েশিয়ার উপপ্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে বরখাস্ত করা হয়। তখন মাহাথির মোহাম্মদ প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। সে সময় আনোয়ারের ছয় বছরের কারাদণ্ড হয়। তিনি ২০০৪ সালে জেল থেকে ছাড়া পান। সে সময় পুরোপুরি ভিন্নমতাদর্শে বিশ্বাসী তিনটি রাজনৈতিক দলের সমন্বয়ে পাকতান কোয়ালিশন নামে জোট করেন। ওই জোট ২০০৮ এবং ২০১৩ সালের নির্বাচনে ব্যাপক সাফল্য পায়।
১৯৫৭ সাল থেকে দেশটিতে ক্ষমতায় থাকা বারিসন ন্যাশিওনাল পার্টি নির্বাচনে বেশ খারাপ ফলাফল করে। নির্বাচনে ভোট বেশি পেলেও পার্লামেন্টে সরকার গঠনের জন্য পর্যাপ্ত আসন পায়নি আনোয়ার ইব্রাহিমের জোট।
১৬ বছর ধরে আনোয়ার ইব্রাহিম মালয়েশিয়ার বিরোধীদলীয় রাজনীতির নিয়ন্তা হয়ে উঠেছিলেন। সরকারের বিরুদ্ধে ব্যাপক চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন তিনি।
রায়ের পর এক ই-মেইল বার্তায় মালয়েশীয় সরকারের এক মুখপাত্র বলেন, রায়ে ‘ব্যাপক মাত্রায় নিরপেক্ষতা’ অনুসরণ করা হয়েছে।
তবে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এশিয়া অঞ্চলের পরিচালক ফিল রবার্টসন এই রায়কে ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে আখ্যায়িত করেছেন।

বিজ্ঞাপন
ইউরোপ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন