আরেকটি শহর পুনর্দখলে নেওয়ার দাবি ইউক্রেনের

ধ্বংস হওয়া রাশিয়ার ট্যাংকের সামনে ইউক্রেনের এক সেনা। কিয়েভের উপকণ্ঠে, ২৮ মার্চ
ছবি: রয়টার্স

রাশিয়া ও ইউক্রেনের চলমান যুদ্ধ থামাতে দেশ দুটি আবারও শান্তি আলোচনায় বসতে যাচ্ছে। আগামীকাল মঙ্গলবার তুরস্কে সরাসরি ওই শান্তি আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছে তুরস্কের সরকার। কিন্তু দুই পক্ষের লড়াই থেমে নেই। ইউক্রেনের বিভিন্ন অঞ্চলে চলছে যুদ্ধ। এরই মধ্যে রুশ বাহিনীর কাছ থেকে রাজধানী কিয়েভের কাছের শহর ইরপিন পুনর্দখলে নিয়েছে ইউক্রেনিয়ান বাহিনী। শহরের মেয়র ওলেকসান্দার মার্কুশিন গতকাল সোমবার এই দাবি করেন। এর আগে কিয়েভের কাছে মাকারিভ শহর নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার দাবি করে ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।

রুশ সেনাবাহিনীর কিয়েভ দখলের অগ্রযাত্রা থেমে আছে অনেক দিন ধরেই। ইউক্রেনসহ পশ্চিমা বাহিনীর দাবি, কিয়েভমুখী রুশ বহরকে প্রতিরোধ করতে সফলতা পেয়েছে ইউক্রেনিয়ান বাহিনী। গত শুক্রবার রাশিয়ার সামরিক বাহিনী জানায়, তাদের যুদ্ধের প্রথম ধাপের লক্ষ্য অর্জিত হয়েছে। এখন তারা যুদ্ধের নতুন পর্যায় শুরু করবে। এরই অংশ হিসেবে তারা রুশপন্থী–অধ্যুষিত পূর্বাঞ্চল দনবাসকে ‘পুরোপুরি মুক্ত’ করার ঘোষণা দেয়।

এদিকে রাশিয়া ও ইউক্রেনের যুদ্ধ বন্ধে দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে স্থবির থাকা আলোচনা আবারও শুরু হতে যাচ্ছে। আজ নতুন করে শুরু হতে যাওয়া ওই শান্তি আলোচনা শুরুর আগে গত রোববার রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে ফোন করেছিলেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান। তুরস্কের প্রেসিডেন্টের দপ্তর থেকে প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইউক্রেনে যুদ্ধবিরতি ও মানবিক করিডর চালু করার প্রয়োজনীয়তার কথা পুতিনকে বলেছেন এরদোয়ান। একই দিন ইউক্রেন ও রাশিয়ার মুখোমুখি শান্তি আলোচনার বিষয়ে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেভলিত চাভাসগলু ফোনে কথা বলেছেন রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভের সঙ্গে। এ বিষয়ে মেভলিত চাভাসগলু টুইট করেন, ‘এ আলোচনাপ্রক্রিয়া স্থায়ী যুদ্ধবিরতি ও শান্তির পথ সুগম করবে বলে আমরা আশা করি।’

তুরস্কের সরকারি কর্মকর্তারা বলেছেন, মঙ্গলবারের আগে ওই শান্তি আলোচনায় দুই পক্ষই একমত। গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে ‘সামরিক অভিযান’ শুরু করে রাশিয়া। এর চার দিন পর ২৮ ফেব্রুয়ারি বেলারুশে তিন দফায় বৈঠক করেন রুশ ও ইউক্রেনিয়ান প্রতিনিধিরা। অনলাইনেও কয়েক দফা বৈঠক হয়েছে। ১০ মার্চ সের্গেই লাভরভ ও ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী দিমিত্রি কুলেবা তুরস্কের আনাতোলিয়ায় একটি কূটনৈতিক ফোরামে আলোচনায় বসেছিলেন শান্তি ফেরাতে।

যুদ্ধ বন্ধে পুতিন ও ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে বৈঠকে বসার আহ্বান জানিয়েছে বিভিন্ন মহল। এমনকি জেলেনস্কি নিজেও পুতিনের সঙ্গে বৈঠকে বসার ইচ্ছার কথা জানিয়েছেন। রোববার তিনি বলেছেন, রাশিয়ার পুতিনের সঙ্গে তিনি আলোচনায় বসতে প্রস্তুত। ইউক্রেন নিরপেক্ষ রাষ্ট্র থাকবে, এমন দাবিও মানার ইঙ্গিত দেন তিনি। তবে ইউক্রেনের অখণ্ডতা প্রশ্নে কোনো ছাড় দেবেন না বলেও সাফ জানিয়ে দেন তিনি।

এদিকে রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রীও তাঁর দেশের প্রেসিডেন্ট পুতিন ও ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির মধ্যকার বৈঠক আয়োজনের জন্য প্রয়োজনীয় সমঝোতার ওপর জোর দিয়েছেন। আলোচনার বিষয়ে সার্বিয়ার একটি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রোববার লাভরভ বলেন, সমঝোতার মূল বিষয়গুলো নিয়ে দুই পক্ষ কাছাকাছি অবস্থানে না এলে পুতিন ও জেলেনস্কির মধ্যকার বৈঠক ফলপ্রসূ হবে না। বরং হিতে বিপরীত হতে পারে।