বিজ্ঞাপন
default-image

পৃথক আরেক ফোনকলে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁর সঙ্গে আজারবাইজান ও আর্মেনিয়ার লড়াই নিয়ে কথা বলেছেন। উভয় নেতা তাৎক্ষণিক যুদ্ধবিরতির জন্য বিশ্বশক্তির আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

আর্মেনিয়ার সঙ্গে সামরিক জোটে রয়েছে রাশিয়া। দেশটিতে রাশিয়ার একটি সামরিক ঘাঁটিও রয়েছে। অন্যদিকে, আজারবাইজান সরকারের সঙ্গেও রাশিয়ার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে।

এদিকে, অবিলম্বে যুদ্ধ বন্ধ করে আর্মেনিয়া ও আজারবাইজানকে আলোচনায় বসার আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ। এই যুদ্ধের বিষয়ে গত মঙ্গলবার জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের রুদ্ধদ্বার বৈঠক হয়। বৈঠকে যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানানো হয়। তার আগে জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসও গত সোমবার দুই পক্ষকে যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানান।

পার্বত্য অঞ্চল নাগোরনো কারাবাখ সোভিয়েত আমলে আজারবাইজানের অংশ ছিল। নব্বইয়ের দশকের শুরুতে এক যুদ্ধে আর্মেনিয়ার সহায়তায় জাতিগত আর্মেনীয় বিচ্ছিন্নতাবাদীরা অঞ্চলটি দখল করে নেয়।

default-image

নাগোরনো কারাবাখ নিয়ে অনেক বছর ধরেই বৈরী সম্পর্ক আর্মেনিয়া ও আজারবাইজানের মধ্যে। সেই উত্তেজনা এখন তুঙ্গে। দুই দেশের সীমান্তে গত রোববার ইয়েরেভান ও আজেরি বাহিনীর মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ-গোলাগুলির পর পরিস্থিতি যুদ্ধাবস্থায় উপনীত হয়।

সবশেষ সংঘর্ষ ও উত্তেজনা বেড়ে যাওয়ার জন্য দুই দেশে একে অপরকে দায়ী করেছে। আর্মেনিয়া বলেছে, প্রথমে আজেরি বাহিনী নাগোরনো কারাবাখ অঞ্চলে তাদের বাহিনী লক্ষ্য করে গোলা ছুড়েছে। আর আজারবাইজানের অভিযোগ, আর্মেনিয়ার বাহিনীই প্রথম আজেরি সেনা ও দেশটির বেসামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে গোলাবর্ষণ করেছে।

সংঘর্ষে দুই পক্ষে প্রাণহানি বা ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনো সুস্পষ্ট নয়। তবে আর্মেনিয়ার প্রতিরক্ষা বাহিনী বলেছে, আজেরি সেনাদের হামলায় অজ্ঞাতসংখ্যক বেসামরিক লোক প্রাণ হারিয়েছেন।

১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর মূলত জাতিগত আর্মেনীয় অঞ্চল নাগোরনো কারাবাখ স্বাধীনতার ঘোষণা দেয়। এরপর থেকেই একে নিয়ে সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে আর্মেনিয়া ও আজারবাইজান। পরে ১৯৯৪ সালে যুদ্ধবিরতিতে উপনীত হলেও নাগোরনো কারাবাখ ও সীমান্তবর্তী এলাকায় অব্যাহতভাবে হামলার অভিযোগ করে আসছে দুই দেশ।

ইউরোপ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন