বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

পশ্চিমাপন্থী প্রতিবেশী ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের আশঙ্কার মধ্যেই উচ্চস্তরের আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মস্কো ওয়াশিংটন এবং তার ন্যাটো মিত্রদের কাছ থেকে ব্যাপক ছাড় দাবি করেছে। অন্যদিকে ইউক্রেনে যেকোনো হামলার জন্য কঠোর নিষেধাজ্ঞার হুমকি দিয়েছে ওয়াশিংটন ও তার মিত্ররা।

ইউক্রেনের সীমান্তে হাজারো সেনা মোতায়েন থাকা সত্ত্বেও মস্কো আলোচনার সময় যেকোনো আক্রমণ পরিকল্পনার বিষয়টি অস্বীকার করেছে।

পেসকভ বলেছেন, ‘আমরা কোথায় আছি তার একটি পরিষ্কার চিত্র পেতে আরও কয়েক দফা আলোচনা হবে। এখনো আশাবাদের খুব বেশি কারণ নেই। একবারের আলোচনায় ফলাফল পাওয়ার ভাবনাটি বোকামি হবে।’

এর আগে গত রোববার রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক এবং সেনা কর্মকর্তারা জেনেভায় নৈশভোজে বসেছিলেন।

এদিকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সংকট নিয়ে রাশিয়া, ফ্রান্স ও জার্মানির সঙ্গে নতুন করে শীর্ষ সম্মেলনের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, সংকটের সুরাহা হওয়া উচিত এবং এ ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। আর ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, ইউক্রেন ন্যাটোতে যোগ দেবে নাকি দেবে না, এটা তার ব্যাপার, এ নিয়ে রাশিয়ার খবরদারি করার কিছু নেই।

আলোচনায় ইউক্রেন সীমান্তে রাশিয়ার সৈন্য সমাবেশের বিষয়ে কঠোর অবস্থান তুলে ধরেছে যুক্তরাষ্ট্র। তারা বলেছে, সংলাপ বা সংঘাত—এই দুইয়ের মধ্যে যেকোনো একটিকে বেছে নিতে হবে।

গত মাসে ন্যাটো ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এ খসড়া চুক্তি হয়। এর অনেকগুলোই যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে মেনে নেওয়া শক্ত। কারণ, এর মধ্যে একটি হলো ইউক্রেনকে কখনোই ন্যাটোর সদস্য করা যাবে না।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেনের দেওয়া তথ্য অনুসারে, রাশিয়া ইউক্রেন সীমান্তে এক লাখ সৈন্যের সমাবেশ ঘটিয়েছে। দ্রুত নোটিশে আরও লাখখানেক সৈন্য জড়ো করার প্রস্তুতি নিয়েছে। ব্লিঙ্কেন বলেন, চলতি সপ্তাহের কূটনৈতিক আলোচনা রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যবহ।

ব্লিঙ্কেনের কথা, ‘আমাদের সামনে দুটো পথ আছে। একটি পথ হলো আলোচনা ও কূটনীতির মাধ্যমে বিদ্যমান ভিন্নতা সমাধানের চেষ্টা এবং সংঘাত এড়ানো। আরেকটি পথ হচ্ছে সংঘাত। যদি রাশিয়া ইউক্রেনে আবার আগ্রাসন চালাতে চায়, তবে এর জন্য তাদের চরম মূল্য দিতে হবে।’

কোনো সার্বভৌম দেশের ন্যাটোর সদস্য হতে চাওয়ার বিষয় কোনো দেনদরবারের বিষয় হতে পারে না বলে মনে করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসন। এর চেয়ে বরং অন্য নিরাপত্তার বিষয় নিয়ে সেখানে আলোচনা হতে পারে। যেমন ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েনের সীমা কিংবা সামরিক মহড়ার মতো বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা চায় তারা।

এবিসির সংবাদবিষয়ক অনুষ্ঠান ‘দিস উইক’-এ দেওয়া সাক্ষাৎকারে হুঁশিয়ারি দিয়ে ব্লিঙ্কেন বলেন, ‘আমরা এ সপ্তাহে দেখব প্রেসিডেন্ট পুতিন কোন পথ নিতে চান। এখন সত্যি এ প্রশ্নই আসছে যে প্রেসিডেন্ট পুতিন কূটনীতি বা আলোচনার পথ নেবেন না সংঘাত চাইবেন।’

ইউরোপ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন