default-image

আয়ারল্যান্ডের ছোট একটি শহর বাল্লিনা। সেখানে মাত্র ১০ হাজার লোকের বাস। শহরের সড়কে গাড়ি নিয়ে আনন্দ মিছিল, ব্রিজে লোকসমাগম। সবাই খুশিতে রাস্তায় নেমে আনন্দ–উল্লাস আর হইচই করছে। শহরটি মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়ী জো বাইডেনের বিজয় উদ্‌যাপন করছে। উদ্‌যাপনের কারণ, এই শহর বাইডেনের পূর্বপুরুষের শহর। এ শহরের উত্তরসূরি পরবর্তী মার্কিন প্রেসিডেন্ট হচ্ছেন। এ জন্য রাস্তায় বেরিয়ে তারা নাচানাচি করছে, শ্যাম্পেইন ছিটিয়ে আনন্দ–উল্লাস করছে তারা।  

বাইডেনের প্রচার দলের একজন এডওয়ার্ড ব্লিইউইট বলেন, জো বাইডেনের পূর্বপুরুষদের ১০ জনই আয়ারল্যান্ডে বাল্লিনা শহরে জন্মেছিলেন। গতকাল শনিবার যখন বাইডেনের হোয়াইট হাউসে যাওয়া নিশ্চিত হয়ে যায়, সঙ্গে সঙ্গে এই ছোট শহরের বাসিন্দারা সাফল্যের উদ্‌যাপনের জন্য রাস্তায় বেরিয়ে পড়ে।

বাল্লিনা শহরের স্মাইলার মিচেল সিএনএনকে বলেন, ‘আমার ধারণা, এই শহর আজ রাতে বিশ্বকে বাঁচিয়ে দিয়েছে। কারণ, বাল্লিনা ছাড়া তো আর জো বাইডেনকে কল্পনা করা যায় না।’  

শহরের মানুষ গাড়িতে বেলুন লাগিয়ে আনন্দ উল্লাস করেছে। লোকজন গান গেয়ে আনন্দ–উল্লাসে মেতে ওঠে। একটি গাড়িতে নম্বর প্লেটের ওপর লেখা ছিল ‘পেনসিলভানিয়া বাইডেন # ১’। এই পেনসিলভানিয়া জেতার পরই নিশ্চিত হয়ে যায় বাইডেনের হোয়াইট হাউসে যাওয়া।

স্থানীয় রাজনীতিবিদ মার্ক ডাফি বলেন, ‘বাল্লিনা আয়ারল্যান্ডের পশ্চিমে একটি ছোট শহর। এই শহরের অতীতে নিজস্ব চ্যালেঞ্জ ছিল। এখন আমরা আমাদের উজ্জ্বল সময় পার করছি। আমরা সবাইকে এই শহরে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত। এই শহর বিশ্বের অন্যতম একটি সুন্দর শহর। এর আশপাশে রয়েছে হ্রদ, পাহাড় আর বন।’

বিজ্ঞাপন

এখনো এই শহরে জো বাইডেনের স্বজনেরা রয়েছেন। এক জ্ঞাতি ভাই জো ব্লিউইটের সঙ্গে বাইডেনের যোগাযোগ আছে। ব্লিউইট এরই মধ্য কয়েকবার বাইডেনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। ব্লিউইট সিএনএনকে ফোনে জানান, তিনি (বাইডেন) পরিবারের একজন মানুষ।
বাইডেনের জন্য আয়ারল্যান্ডের অন্য অনেক কাউন্টিতেও নাচ গান হয়েছে।

বাইডেনের পরদাদা জেমস ফিনেগান ১৮৫০ সালে নিউইয়র্ক থেকে আয়ারল্যান্ডে আসেন। রাজধানী ডাবলিন থেকে ৭০ মাইল উত্তরের উপকূলীয় শহর কার্লিংফোর্ডে আসেন তিনি।

নিজেদের ছেলে মার্কিন নির্বাচনী জয়ের ফলে কার্লিংফোর্ডে গির্জার ঘণ্টা বাজানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে। সেখানে জমায়েত হবে স্কুলশিক্ষার্থীরা।

বাইডেন জন্য প্রচার চালিয়েছেন আইরিশরা। তাঁদের প্রধান সংগঠক পল অ্যালেন সিএনএনকে জানান, নির্বাচনের ফলাফল দেখে শহর আনন্দিত। জো বাইডেন কঠোর পরিশ্রম এবং দৃঢ় সংকল্পের সমন্বয়ের ফল পেয়েছেন।

আইরিশরা নির্বাচনের আগে যুক্তরাষ্ট্রের থাকা তাঁদের স্বজনদের বাইডেনকেই ভোট দেওয়ার জন্য প্রচার চালিয়েছেন। এ প্রচার দলের সদস্যরা আইরিশ জনগণকে আমেরিকার কোনো আত্মীয়কে ফোন করে বাইডেনকে ভোট দেওয়ার জন্য অনুরোধ জানাতে উৎসাহিত করেছিলেন।

যুক্তরাষ্ট্রের ৪৬তম প্রেসিডেন্ট হচ্ছেন ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী জো বাইডেন। পেনসিলভানিয়ায় পপুলার ভোটে জয় পেয়েছেন বাইডেন। এই অঙ্গরাজ্যের ২০টি ইলেক্টোরাল কলেজ ভোট পাচ্ছেন তিনি। এই জয়ে তিনি ম্যাজিক ফিগার ২৭০ ছাড়িয়ে গেলেন।

আয়ারল্যান্ডের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বন্ধুত্ব ছাড়াও রয়েছে রক্তের সম্পর্ক। ৪৫ জন মার্কিন প্রেসিডেন্টের ভেতর, ২২ জনেরই পূর্বপুরুষ আইরিশ ছিলেন। এবার জো বাইডেন নির্বাচিত হয়ে সে সংখ্যা ২৩–এ নিয়ে গেলেন। এক হিসাবে দেশটির মোট প্রেসিডেন্টের অর্ধেকই আইরিশ।

মন্তব্য পড়ুন 0