অস্ত্রবিরতির সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলে লড়াই চলছেই। গত বৃহস্পতিবার ইউরোপীয় নেতাদের মিনস্ক বৈঠকে শান্তির ব্যাপারে যে মতৈক্য হয়েছে, তা বড় ধরনের হুমকির মুখোমুখি বলে সতর্ক করে দিয়েছেন ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট পেত্রো পোরোশেঙ্কো। খবর এএফপি ও বিবিসির।
নতুন অস্ত্রবিরতি অনুযায়ী গতকাল শনিবার রাত থেকে লড়াই বন্ধ রাখার কথা ছিল। কিন্তু বেসামরিক মানুষের ওপর বিদ্রোহীরা গোলাবর্ষণ অব্যাহত রেখেছে বলে ইউক্রেন সরকার অভিযোগ করেছে। আর যুক্তরাষ্ট্র বলছে, রাশিয়া এখনো বিদ্রোহীদের ভারী অস্ত্র সরবরাহ করে চলেছে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট পোরোশেঙ্কো অভিযোগ করেন, বেলারুশের রাজধানী মিনস্কে শান্তি আলোচনায় রাশিয়া এক দিন আগে মতৈক্যে পৌঁছালেও রুশপন্থী বিদ্রোহীরা অস্ত্রবিরতি অমান্য করে গোলাবর্ষণ করছে; বরং তাদের আক্রমণ উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।
ইউক্রেনের বিদ্রোহী ও সেনাবাহিনীর মধ্যে সর্বশেষ লড়াইয়ে অন্তত ২৮ জন নিহত হয়েছে। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে বেসামরিক মানুষও রয়েছে।
অস্ত্রবিরতি কার্যকর করার লক্ষ্যে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে আজ রোববার একটি জরুরি বৈঠক হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র জেন সাকি বলেছেন, রাশিয়া থেকে ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলে কয়েক দিন ধরে ভারী অস্ত্রশস্ত্র পাঠানো হচ্ছে বলে তাঁরা খবর পেয়েছেন। এটা স্পষ্টতই গত সপ্তাহে সম্পাদিত অস্ত্রবিরতি চুক্তির সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ।
ইউক্রেনের বিদ্রোহী নেতাদের উপস্থিতিতে রাশিয়া, ইউক্রেন, ফ্রান্স ও জার্মানির নেতারা মিনস্কে দীর্ঘ ১৭ ঘণ্টা আলোচনার পর একটি শান্তি পরিকল্পনার ব্যাপারে মতৈক্যে পৌঁছান। অস্ত্রবিরতি ফলপ্রসূ না হলে রাশিয়ার বিরুদ্ধে নতুন করে অবরোধ আরোপ করার সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন আলোচনার দুই উদ্যোক্তা জার্মান চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেল ও ফরাসি প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া ওলাঁদ।
পূর্ব ইউক্রেনে সহিংসতা বৃদ্ধি এবং ভারী অস্ত্রশস্ত্র মোতায়েনের খবরে গ্রুপ অব সেভেনের (জি সেভেন) সদস্যদেশগুলো (কানাডা, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, জাপান, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্র) উদ্বেগ জানিয়েছে।
ইউক্রেনের বিদ্রোহীরা রাশিয়া থেকে অস্ত্রশস্ত্র সরবরাহ ও অন্যান্য সহায়তা পাচ্ছে বলে কিয়েভের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়। কিন্তু মস্কো বরাবরই এ অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।
বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রণাধীন দোনেৎস্ক শহরে গতকাল সকালেও গোলাবর্ষণের শব্দ শোনা যায়। এ জন্য কারা দায়ী, তা এখনো অস্পষ্ট। বেসামরিক জনবসতি লক্ষ্য করে হামলার জন্য ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী ও বিদ্রোহীরা পরস্পরকে দায়ী করছে।
সরকারি হিসাব অনুযায়ী, ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলে লড়াই শুরু হওয়ার পর থেকে অন্তত ৫ হাজার ৪০০ জন নিহত হয়েছে। নিহত ব্যক্তির প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি বলে মনে করে জাতিসংঘ।

বিজ্ঞাপন
ইউরোপ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন