default-image

কয়েক সপ্তাহ উত্তেজনা শেষে ইউক্রেন সীমান্ত থেকে সেনাসদস্যদের সরিয়ে নিল রাশিয়া। গতকাল বৃহস্পতিবার সেনাদের ঘাঁটিতে ফিরে আসতে নির্দেশ দিয়েছেন রুশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী সের্গেই শোইগু। ইউক্রেনের সীমান্তে এটিই ছিল এ যাবৎকালের সবচেয়ে বেশি রুশ সেনা মোতায়েন। এর ফলে দুই দেশের মধ্যে সৃষ্ট সীমান্ত উত্তেজনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আন্তর্জাতিক মহল।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির খবরে বলা হয়, সীমান্ত এলাকাসহ ক্রিমিয়ায় এ সেনা সমাবেশ ঘটায় রাশিয়া। সেই সঙ্গে জড়ো করা হয়েছে অসংখ্য ট্যাংক ও সামরিক সরঞ্জাম। ইউরোপীয় ইউনিয়ন ধারণা করে, সেনাসংখ্যা ছিল এক লাখের বেশি। গতকাল রুশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী ক্রিমিয়ায় বলেন, অনুশীলনে থাকা সেনারা ঘাঁটিতে ফিরে যাবেন। সেনাদের প্রশিক্ষণের উদ্দেশ্য সফল হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

বিজ্ঞাপন

এই সেনা সমাবেশ ছিল ২০১৪ সালের পর এ পর্যন্ত সর্বোচ্চ। ২০১৪ সালের ওই সেনা সমাবেশের পর ইউক্রেনের বাহিনীর সঙ্গে রুশপন্থী বিচ্ছিন্নতাবাদীদের লড়াইয়ের মধ্যেই ক্রিমিয়া ছিনিয়ে নেয় রাশিয়া। এবার রাশিয়া দাবি করে, পশ্চিমা দেশগুলোর সামরিক জোট ন্যাটোর হুমকি মোকাবিলায় প্রশিক্ষণের অংশ হিসেবে এই সেনা সমাবেশ ঘটানো হয়েছে।

সেনা ফিরিয়ে নিয়ে উত্তেজনা হ্রাসের জন্য রাশিয়ার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। এর আগে তিনি রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে যুদ্ধক্ষেত্রে মুখোমুখি হওয়ার চ্যালেঞ্জ দিয়েছিলেন।

রুশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘দেশকে নির্ভরযোগ্য প্রতিরক্ষা দিতে পারার মতো দক্ষতা দেখিয়েছে সেনাবাহিনী।’ এরপর তিনি কমান্ডারদের নির্দেশ দেন, আজ শুক্রবার থেকে আগামী ১ মের মধ্যে স্থায়ী ঘাঁটিতে সেনাসদস্যদের ফিরে যেতে।

২০১৪ সালে সরকারবিরোধী বিক্ষোভের মুখে ইউক্রেনে রাশিয়াপন্থী সরকারের পতন হয়। এরপর ইউক্রেনের রুশভাষী পূর্বাঞ্চল দোনেৎস্ক আর দক্ষিণাঞ্চল লুহানস্ক অঞ্চলে রুশপন্থী বিচ্ছিন্নতাবাদীরা ইউক্রেনের কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে অস্ত্র হাতে তুলে নেন এবং সেখানে ‘পিপলস রিপাবলিকস’ নামে আলাদা শাসনব্যবস্থা চালু করেন। এই বিচ্ছিন্নতাবাদীদের সঙ্গে ইউক্রেনের সরকারি বাহিনীর লড়াই অব্যাহত রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, রুশপন্থী বিচ্ছিন্নতাবাদীদের পক্ষে যুদ্ধ করার জন্য রাশিয়া সেনা পাঠিয়েছে। তবে মস্কো এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।

এবার ইউক্রেন সীমান্ত বিপুল সেনা মোতায়েনকে প্রশিক্ষণের অংশ বলে মস্কোর কর্মকর্তারা দাবি করলেও আপাতদৃষ্টে এটা মস্কোর আরেকটি যুদ্ধের প্রস্তুতি বলে মত দিয়েছিলেন বিশেষজ্ঞরা।

বিজ্ঞাপন
ইউরোপ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন