রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেছেন, তিনি বুধবার বেলারুশে ফ্রান্স, জার্মানি এবং ইউক্রেনের নেতাদের সঙ্গে শান্তি আলোচনার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তবে রাশিয়াসহ চার দেশকে এখনো বিভিন্ন বিষয়ে একমত হতে হবে। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া ওলাঁদ ইউক্রেনে চলমান সংঘাত বন্ধে এ শান্তি উদ্যোগকে ‘শেষ সুযোগ’ হিসেবে সতর্ক করে দিয়েছেন। খবর এএফপি ও বিবিসির।
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন গতকাল রোববার ফোনে ফ্রান্স, জার্মানি এবং ইউক্রেনের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের সঙ্গে কথা বলেন। এরপর তিনি কৃষ্ণসাগর তীরবর্তী শহর শোচিতে বেলারুশের প্রেসিডেন্ট আলেক্সান্দার লুকাশেঙ্কোকে বলেন, ‘বুধবারের দিকেই আমাদের লক্ষ্য। যদি এর মধ্যে আমরা সম্প্রতি জোরদারভাবে আলোচনা করা বেশ কয়েকটি বিষয়ে একমত হতে পারি।’ পুতিনের এ কথা বলার দৃশ্য টিভিতে দেখানো হয়।
লুকাশেঙ্কো বলেন, তিনি রুশ নেতা পুতিনের সঙ্গে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া ওলাঁদ, জার্মানির চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেল ও ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট পেত্রো পোরোশেঙ্কোর মধ্যে বৈঠক আয়োজনের যথাসাধ্য চেষ্টা করবেন।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র সংশ্লিষ্ট সবাইকে সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, এমন কিছু করা ঠিক হবে না, যা চলমান শান্তি উদ্যোগকে ব্যাহত করবে। নতুন করে শুরু হওয়া প্রচণ্ড লড়াইয়ের কথা উল্লেখ করে দেশটি এ কথা বলেছে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরির সঙ্গে জার্মানি সফরে যাওয়া পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র জেন সাকি বলেন, ‘আমরা দেবালৎসেভ এবং মারিউপোলে আজ রোববার নতুন করে সংঘটিত লড়াই এবং পূর্ব ইউক্রেনে নতুন রুশ সামরিক যানের বহর ঢোকার খবরে উদ্বিগ্ন।’
এর আগে গত শনিবার জার্মানির মিউনিখ শহরে অনুষ্ঠিত নিরাপত্তা সম্মেলনে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট পোরোশেঙ্কো নাটকীয়ভাবে তাঁর দেশে অনুপ্রবেশকারী বলে সন্দেহভাজন রুশ সেনাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা সামরিক বাহিনীর পরিচয়পত্র দেখান। পোরোশেঙ্কো বলেন, ‘আজ একটি সাবেক কৌশলগত অংশীদার একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে গোপন যুদ্ধে লিপ্ত হয়েছে।’ রাশিয়া বরাবরই ইউক্রেনের রুশপন্থী বিদ্রোহীদের সাহায্য করতে সেনা বা অস্ত্রশস্ত্র পাঠানোর অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।
আঙ্গেলা ম্যার্কেল ও ফ্রাঁসোয়া ওলাঁদ শুক্রবার এ ব্যাপারে মস্কো গিয়ে পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করেন। তাঁরা ইউক্রেনের সংঘাত অবসানে একটি শান্তি পরিকল্পনার খসড়া তৈরিতে একমত হন। গত সেপ্টেম্বরে বেলারুশের মিনস্কে স্বাক্ষরিত যুদ্ধবিরতি চুক্তির ওপর ভিত্তি করে এ পরিকল্পনা করা হয়েছে।
ফ্রাঁসোয়া ওলাঁদ ফ্রান্সের টেলিভিশন ফ্রান্স ২কে বলেছেন, ৫০ থেকে ৭০ কিলোমিটার এলাকায় বেসামরিক অঞ্চল সৃষ্টি করার বিষয়টি প্রস্তাবের মধ্যে রয়েছে।

বিজ্ঞাপন
ইউরোপ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন