default-image

ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নেতৃত্বস্থানীয় দেশগুলো অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকা উদ্ভাবিত করোনার টিকার প্রয়োগ ফের শুরু করবে। আজ শুক্রবার বিবিসি অনলাইনের প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়।

তদন্তের ভিত্তিতে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকাকে নিরাপদ ও কার্যকর বলে জানিয়েছে ইইউর ওষুধ নিয়ন্ত্রক সংস্থা দ্য ইউরোপিয়ান মেডিসিনস এজেন্সি (ইএমএ)। ইএমএর এই মূল্যায়নের পর গতকাল বৃহস্পতিবার ইউরোপের নেতৃত্বস্থানীয় দেশগুলো এই টিকার প্রয়োগ ফের শুরু করার পরিকল্পনার কথা জানায়।

নিরাপত্তা-শঙ্কায় সম্প্রতি ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত বেশ কিছু দেশ এই টিকার প্রয়োগ সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার ঘোষণা দেয়। এই টিকায় রক্ত জমাট বাঁধার আশঙ্কা থেকে দেশগুলো এমন সিদ্ধান্ত নেয়।

অন্তত ৩০টি ঘটনা তদন্তের পর ইএমএ উপসংহারে বলছে, অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকার সঙ্গে রক্ত জমাট বাঁধার উচ্চ ঝুঁকির কোনো সম্পর্ক নেই।

ইএমএর নির্বাহী পরিচালক এমার কুক বৃহস্পতিবার বলেন, এটি একটা নিরাপদ ও কার্যকর টিকা।

এখন জার্মানি, ফ্রান্স, ইতালি, স্পেনসহ ইউরোপের আরও কয়েকটি দেশ জানিয়েছে, তারা এই টিকার প্রয়োগ ফের শুরু করবে।

বিজ্ঞাপন

জার্মানি জানায়, তারা শুক্রবার থেকে এই টিকার প্রয়োগ ফের শুরু করবে।

ফ্রান্সও এই টিকার প্রয়োগ আবার শুরু করবে। ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী জ্যঁ ক্যাসটেক্স জানিয়েছেন, তিনি শুক্রবার বিকেলে এই টিকা নেবেন।

ইতালির প্রধানমন্ত্রী মারিও দ্রাঘির বলেছেন, তাঁর দেশও একই কাজ করবে। যত দ্রুত সম্ভব বেশিসংখ্যক মানুষকে তাঁরা টিকা দিতে চান।

স্পেন বলেছে, তারা এই টিকার প্রয়োগ শুরু করার বিষয়টি মূল্যায়ন করছে।

অন্যদিকে সাইপ্রাস, লাটভিয়া, লিথুয়ানিয়া বলেছে, তারা এই টিকার প্রয়োগ শুরু করবে।

সুইডেন জানিয়েছে, এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে তাদের কিছুদিন সময় লাগবে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) বৃহস্পতিবার বিশ্বের বিভিন্ন দেশকে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকার প্রয়োগ চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানায়। এই টিকার নিরাপত্তা বিষয়ে ডব্লিউএইচওর নিজস্ব মূল্যায়নের ফলাফল আজ শুক্রবার প্রকাশ করার কথা রয়েছে।

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন এই টিকার নিরাপত্তা নিয়ে ওঠা প্রশ্ন নাকচ করছেন। বরিস জানিয়েছেন, তিনি অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার করোনার টিকা নেবেন।

যুক্তরাজ্যের নামকরা অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি ও ব্রিটিশ-সুইডিশ ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান অ্যাস্ট্রাজেনেকা পিএলসি যৌথভাবে এই টিকা উদ্ভাবন করেছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এই টিকার প্রয়োগ চলছে।

ইউরোপ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন