default-image

চলতি বছরের জুলাই মাসের মধ্যে ইউরোপ হার্ড ইমিউনিটি অর্জন করতে পারে বলে জানিয়েছেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) একজন কমিশনার। তিনি বলেছেন, ওই অঞ্চলে করোনার টিকার আরও চালান আসছে। এতে টিকার যে ঘাটতি আছে, তা পূরণ হয়ে যাবে।

বার্তা সংস্থা এএফপির খবরে বলা হয়েছে, এই আশাবাদ এমন সময়ে এল যখন ইউরোপের বিভিন্ন দেশ অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার তৈরি করোনার টিকা প্রয়োগ করা থেকে কিছুদিন বিরত থাকার পর ফের তা শুরু করেছে। সাম্প্রতিক সময়ে ইউরোপে করোনাভাইরাসের প্রকোপও বেড়ে গেছে। এর মধ্যেই অক্সফোর্ডের করোনা টিকার নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা নিয়ে সেখানে শুরু হয়েছে বিতর্ক। ইউরোপে বর্তমানে করোনা সংক্রমণের তৃতীয় ঢেউ চলছে। সম্প্রতি সেখানকার ওষুধ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ইউরোপিয়ান মেডিসিনস এজেন্সি আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে যে এই টিকা ‘নিরাপদ ও কার্যকর’।

কোনো অঞ্চলের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগোষ্ঠী যখন একটি সংক্রামক রোগের বিরুদ্ধে প্রতিরোধী হয়, তখনকার পরিস্থিতি বোঝাতে ‘হার্ড ইমিউনিটি’ পরিভাষা ব্যবহার হয়। সংক্রমণ থেকে সুস্থ হওয়া ও টিকাদানের মাধ্যমে হার্ড ইমিউনিটিতে পৌঁছানো যায়।

ইইউ কমিশনার থিয়েরি ব্রেটন ফরাসি সংবাদমাধ্যম টিএফওয়ানকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ‘একটি প্রতীকী তারিখ বিবেচনা করি চলুন। সেটি হলো ১৪ জুলাই। পুরো অঞ্চলজুড়ে এর মধ্যেই হার্ড ইমিউনিটি অর্জন করার সম্ভাবনা আমাদের আছে। করোনা মহামারিকে পরাস্ত করার একটি পথই আছে আমাদের হাতে। আর তা হলো, টিকা দেওয়া। আর টিকা আসছে।’

বিজ্ঞাপন

বর্তমানে ফ্রান্সের মোট জনসংখ্যার এক-তৃতীয়াংশ পুনরায় লকডাউনের আওতায় পড়েছে। এদিকে মহামারিসংক্রান্ত কঠোর বিধিনিষেধের বিরুদ্ধে গত সপ্তাহের শেষে বিক্ষোভ হয়েছে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে। এর মধ্যে রয়েছে জার্মানি, নেদারল্যান্ডস, বুলগেরিয়া ও সুইজারল্যান্ড।

পুরো ইউরোপে প্রথম প্রান্তিকে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার তৈরি করোনার টিকার ৯ কোটি ডোজ প্রয়োজন বলে জানানো হয়েছে। তবে অ্যাস্ট্রাজেনেকা এর মোটে ৩০ শতাংশ এখন পর্যন্ত সরবরাহ করতে পেরেছে। থিয়েরি ব্রেটন বলেছেন, টিকার আরও ডোজ শিগগিরই পৌঁছাবে। মার্চ থেকে জুনের মধ্যে ৩০ থেকে ৩৫ কোটি ডোজ টিকা আসবে ইউরোপে। সেখানে বর্তমানে ৫৫টি কারখানায় অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা তৈরি করা হচ্ছে।

তবে গত ১১ জানুয়ারি জেনেভায় ডব্লিউএইচওর সদর দপ্তরে এক ভার্চ্যুয়াল সংবাদ সম্মেলনে সংস্থার প্রধান বিজ্ঞানী সৌম্য স্বামীনাথন বলেছিলেন, করোনার বিস্তার থামাতে যথেষ্টসংখ্যক টিকা উৎপাদন ও প্রদান করতে সময় লাগবে। তাই বিভিন্ন দেশে করোনাভাইরাসের টিকাদান শুরু সত্ত্বেও চলতি বছর ‘হার্ড ইমিউনিটি’ অর্জিত হবে না।

সেই সময় করোনার লাগাম টানতে সামাজিক দূরত্ব, হাত ধোয়া, মাস্ক পরার মতো ব্যবস্থা অব্যাহত রাখার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেয় ডব্লিউএইচও।

ইউরোপ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন