গতকাল সোমবার সাংবাদিকদের জ্যাক সুলিভান বলেন, ‘আমাদের কাছে যে তথ্য রয়েছে, তাতে বোঝা যাচ্ছে যে রাশিয়াকে খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে অস্ত্র পরিবহনে সক্ষম ড্রোনসহ কয়েক শ ড্রোন সরবরাহের প্রস্তুতি নিচ্ছে ইরান।’

ইকোনমিস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, রুশ সেনারা ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ দখলের চেষ্টা করেছিলেন শুরুতেই। গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে হামলা শুরু করে রাশিয়া। কিন্তু শুরুর দিকের সেই লড়াইয়ে রুশ সেনাদের চমকে দিয়েছিলেন ইউক্রেনের সেনারা। রুশ সেনারা ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়েন। একপর্যায়ে কিয়েভ দখলের লক্ষ্য থেকে সরে আসেন রাশিয়া। পরে ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলের দনবাস দখলের লক্ষ্য নির্ধারণ করেন রুশ সেনারা। সংক্ষিপ্ত সময়ের পরিবর্তে যুদ্ধ রূপ নেয় দীর্ঘমেয়াদে। এ যুদ্ধে অসংখ্য যুদ্ধাস্ত্র ব্যবহৃত হবে। প্রাণ যাবে অনেক মানুষের। এক পক্ষ পরাজয় না মানা পর্যন্ত নষ্ট হবে হাজার হাজার কোটি টাকার সম্পদ। তবে এখন পর্যন্ত লড়াইয়ে রাশিয়ার দিকেই পাল্লা ভারী।

সম্প্রতি রুশ সেনারা ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলের সেভেরোদোনেৎস্কের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার দাবি করেছেন। লিসিচানস্ক শহরও রুশ সেনাদের কবজায়। লুহানস্ক অঞ্চলকেও স্বাধীন বলে ঘোষণা দিয়েছে মস্কো। এখন দোনেৎস্কের উত্তরের স্লোভিয়ানস্ক দখল নিতে আক্রমণ জোরদার করেছেন রুশ সেনারা। ইউক্রেনের নেতারা বলেন, তাঁদের গোলাবারুদের স্বল্পতা রয়েছে। প্রতিদিন ২০০ সেনা নিহত হচ্ছেন বলে স্বীকার করেছে ইউক্রেন সরকার।

তবে ইউক্রেনের লড়াই এখনো শেষ হয়নি। রাশিয়া যতটুকু অগ্রসর হয়েছে, তার গতি অত্যন্ত ধীর ও ব্যয়বহুল। পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোর সরবরাহ করা আধুনিক যুদ্ধাস্ত্র, নতুন কৌশল আর মিত্রদেশগুলোর আর্থিক সহযোগিতায় রুশ সেনাদের পিছু হটিয়ে দেওয়ার সম্ভাবনা এখনো আছে।

ইউরোপ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন