default-image

উত্তর মেরুর জন্য ২০১৯ সাল হতে যাচ্ছে নতুন একটি বিভীষিকার বছর। বিজ্ঞানীদের তথ্যমতে, এ বছর সেখানকার বরফের বড় বড় চাঁই গলে যাওয়ার জোরালো আশঙ্কা রয়েছে। উষ্ণতা বেড়ে যাওয়ার কারণে এমনটি ঘটবে। গ্রিনল্যান্ডে এর মধ্যে রেকর্ড পরিমাণ তাপমাত্রা বেড়েছে। দানব আকৃতির বরফের চাঁই ক্রমে গলে যেতে থাকায় বিশ্বের উপকূলীয় অঞ্চলগুলো তলিয়ে যাওয়ার হুমকি তৈরি হয়েছে।

ড্যানিশ মেটারোলজিক্যাল ইনস্টিটিউটের (ডিএমআই) জলবায়ু বিশেষজ্ঞ রুথ মট্রাম সতর্ক করেছেন, ২০১২ সালের উত্তর মেরু সমুদ্রে বরফের সর্বনিম্ন পরিমাণ এবং গ্রিনল্যান্ডে বরফ গলার পরিমাণের দুটি রেকর্ড ভাঙার সম্ভাবনা রয়েছে। এ বছরের আবহাওয়ার হালচালের ওপর তা নির্ভর করবে।

গত সপ্তাহে গ্রিনল্যান্ডের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের ডিএমআইয়ের বরফ গলার ছবি তুলেছিলেন এক বিজ্ঞানী। ছবিটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে খুব দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায়। মহাসাগরীয় ও আবহাওয়া স্টেশন নিয়ে গবেষণা করছিলেন স্টিফেন ওলসেন। এ সময় স্টিফেনের কয়েকটি কুকুর সমুদ্রের খাঁড়িতে ধাক্কা দিলে বরফ গলা পানির কয়েক ইঞ্চি নিচে ডুবে যায়। ছবিতে দেখা যায়, উজ্জ্বল নীল আকাশের নিচে তুষারমুক্ত ঝকঝকে পাহাড় পেছনে রেখে পানির ওপর দিয়ে হাঁটছে কুকুরগুলো।

মট্রাম বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, ছবিটি খুব আলোড়ন তুলেছে। কারণ, উত্তর মেরু কীভাবে কদলে যাচ্ছে, তা খুব স্পষ্টভাবে ছবিটিতে ফুটে উঠেছে।

স্টিফেনের অভিযানের স্থানীয় সঙ্গীরা জানান, বরফ যে এত আগেই গলতে শুরু করবে, এটি তাঁরা আশা করেননি। বরফ খুব পুরু বলে ওই পথে যাতায়াত করতেন তাঁরা, তবে সামনের রাস্তায় পানি ক্রমে গভীর হতে থাকায় আর আগে বাড়তে পারেননি।

ছবিটি তোলার আগের দিন, অর্থাৎ ১২ জুন নিকটবর্তী আবহাওয়া কেন্দ্র কানাকে ১৭ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। ২০১২ সালের ৩০ জুনের রেকর্ড থেকে আর মাত্র শূন্য দশমিক ৩ পয়েন্ট দূরে আছে এ বছরের তাপমাত্রা। মট্রাম ব্যাখ্যা করেন, এবারের শীত বেশ শুষ্ক ছিল। শীতের পরপরই সম্প্রতি উষ্ণ বাতাস, পরিষ্কার আকাশ, সূর্যের তাপ—সব মিলিয়ে দ্রুত বরফ গলার একটি আবহ সৃষ্টি হয়।

দ্রুত তাপমাত্রা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় লোকজনের জীবনযাত্রাও দ্রুত পাল্টে যাচ্ছে। বরফ পাড়ি দিয়ে শিকারে যাওয়ার সময় কমে এসেছে। প্রতিকূল পরিবেশে তাদের টিকে থাকা অনেকাংশে নির্ভর করে এই শিকারের ওপর। কাজেই জলবায়ুর এমন পরিবর্তন বাস্তুসংস্থানে পরিবর্তন আনছে।

গত এক দশকে উত্তর মেরুতে মেরু ভালুকের সংখ্যা প্রায় ৪০ শতাংশ কমে গেছে। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ বিভাগ ভালুকের সংখ্যা কমে যেতে থাকার কারণ হিসেবে জমাট বরফের পরিমাণ সংকুচিত হয়ে আসার বিষয়টিকে দায়ী করেছে। নারহোয়েল নামে বিশালাকৃতির তিমির সঙ্গে খুনে তিমিদের বাসস্থান মিলে যাওয়ায় হুমকির মুখে নারহোয়েলের অস্তিত্ব।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0