বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

কোপারনিকাস ক্লাইমেট চেঞ্জ সার্ভিসের পরিচালক কার্লো বুঅনটেম্পো বলেন, ‘এ ঘটনাগুলো আমাদের গতিপথ বদলানোর, টেকসই সমাজের জন্য কার্যকর পদক্ষেপ ও কার্বন নিঃসরণ কমানোর প্রয়োজনীয়তার কথা মনে করিয়ে দেয়।’কোপারনিকাস পর্যবেক্ষণকারী স্যাটেলাইটের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করে।

default-image

কোপারনিকাসের তথ্য বলছে, রেকর্ড গরমের তালিকায় থাকা বছরের মধ্যে গত বছরের অবস্থান ছিল পঞ্চম। কোপারনিকাস বলছে, ২০১৫ ও ২০১৮ সালের তুলনায় ২০২১ সালের অবস্থান গরমের দিক দিয়ে পঞ্চম। সংস্থাটি আরও বলছে, গত সাত বছর ছিল সবচেয়ে গরম বছর।

২০২১ সালে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে একাধিক দাবানল ও বন্যা হয়েছে। গত সাত বছরে সবচেয়ে উষ্ণতম তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে।

ইউরোপের বার্ষিক তাপমাত্রা উষ্ণতম ১০টি বছরের বাইরে ছিল। তবে ইউরোপে গ্রীষ্মকাল ছিল সবচেয়ে উষ্ণ। ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে জুলাই ও আগস্ট মাসে দাবদাহ বয়ে গেছে। বিশেষ করে গ্রিস, স্পেন ও ইতালিতে দাবদাহ বেড়েছে।

সংস্থাটি বলছে, সাম্প্রতিক বছরগুলোর তুলনায় গত বছরের শুরুতে তাপমাত্রা কম ছিল। তবে জুন মাস পর্যন্ত অন্তত চারটি উষ্ণতম তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার পশ্চিম উপকূল এবং কানাডা ও গ্রিনল্যান্ডের উত্তর–পূর্ব উপকূল, উত্তর ও মধ্য আফ্রিকা এবং মধ্যপ্রাচ্যের বড় অংশজুড়ে গড় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়।

গত বছরের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সাইবেরিয়া ও আলাস্কার পশ্চিম ও পূর্বাঞ্চলে এবং প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকার মধ্য ও পূর্বাঞ্চলে লা নিনার প্রভাব দেখা গেছে। প্রশান্ত মহাসাগরের পূর্ব দিকে পেরু উপকূলে সমুদ্রপৃষ্ঠের জলের উষ্ণতা স্বাভাবিক উষ্ণতার চেয়ে ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস কমে গেলে যে শীতল সমুদ্রস্রোত প্রবাহিত হয়, তাকে লা নিনা বলে।

ইউরোপে উষ্ণতম গ্রীষ্মকাল

ইউরোপের বার্ষিক তাপমাত্রা উষ্ণতম ১০টি বছরের বাইরে ছিল। তবে ইউরোপে গ্রীষ্মকাল ছিল সবচেয়ে উষ্ণ। ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে জুলাই ও আগস্ট মাসে দাবদাহ বয়ে গেছে। বিশেষ করে গ্রিস, স্পেন ও ইতালিতে দাবদাহ বেড়েছে।

সিসিলিতে ইউরোপের রেকর্ড তাপমাত্রা ছিল ৪৮ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তুরস্ক, গ্রিস, ইতালি, তিউনিসিয়া ও আলজেরিয়ায় দাবানলে পুড়েছে বন।

ইউরোপে যেমন ছিল চরম দাবদাহ, তেমনি আর্দ্র আবহাওয়া। জার্মানি, বেলজিয়াম ও নেদারল্যান্ডসের বেশ কিছু এলাকায় প্রবল বন্যা হয়েছে। এগুলো সবাই জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব।

উষ্ণতা বৃদ্ধিকারী গ্যাস বাড়ছে

কোপারনিকাস বলছে, বাতাসে কার্বন ডাই–অক্সাইডের ঘনত্ব গত বছর প্রতি ১০ লাখে ৪১৪ দশমিক ৩–এ পৌঁছেছে।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, মিথেন গ্যাসের ঘনত্ব প্রতি ১০০ কোটিতে ১ হাজার ৮৭৬–এ পৌঁছেছে। ২০২০ সালের তুলনায় অনেক বেশি বেড়েছে মিথেন। স্যাটেলাইট তথ্যের ভিত্তিতে কোপারনিকাস আরও বলছে, দুটি গ্যাসের মাত্রা ছিল খুব বেশি।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, মিথেন গ্যাসের নির্গমন কমিয়ে আনা খুব জরুরি। কারণ মিথেন গ্যাস কার্বন ডাই–অক্সাইডের চেয়ে বেশি জোরালো অবস্থান রেখেছে বাতাসে।

কোপারনিকাস অ্যাটমোসফেয়ার মনিটরিং সার্ভিসের পরিচালক ভিনসেন্ট হেনরি পিউচ বলেন, এ ধরনের গ্যাসগুলোর ঘনত্ব কমার কোনো আভাস পাওয়া যাচ্ছে না।
নাসা ও যুক্তরাজ্যের আবহাওয়া দপ্তর বলছে, গত বছরের তাপমাত্রা নিয়ে আরও তথ্য ভবিষ্যতে প্রকাশ করা হবে।

ইউরোপ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন