default-image

জার্মানির স্বাস্থ্যমন্ত্রী ইয়ান স্পান বলেছেন, ‘করোনাভাইরাসের ভারতে পাওয়া নতুন ধরন আমাদের খুব চিন্তায় ফেলেছে।’

গতকাল রোববার জার্মানির স্বাস্থ্যমন্ত্রী এ কথা বলেন। আর সেই সঙ্গে ভারতীয়দের জার্মানিতে আসার ব্যাপারে নানা কড়াকড়ির কথাও বলেছেন।

ইয়ান স্পান  আরও বলেন, রোববার রাত থেকে ভারত থেকে আসা কেবল জার্মান নাগরিক এবং যাঁদের স্থায়ীভাবে জার্মানিতে বসবাসের অনুমতি রয়েছে, তাঁদেরই প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে। তবে জার্মানিতে প্রবেশের আগে এসব যাত্রীদের অবশ্যই একটি করোনার নেগেটিভ পরীক্ষা দেখাতে হবে। আর জার্মানি পৌঁছানোর পর ১৪ দিনের জন্য কোয়ারেন্টিনে যেতে হবে।

আজ সোমবার মধ্যরাত থেকে আইনটি কার্যকর হওয়ার কথা।
জার্মানির সংক্রমণ রোগ বিষয়ের গবেষণা কেন্দ্র, রবার্ট কখ ইনিস্টিটিউটের সহসভাপতি লার্স স্ক্যাড গত শুক্রবার বলেছেন, বি.১.৬১৭ নামে পরিচিত ভারতীয় বিপজ্জনক ভাইরাসের রূপান্তর তারা পর্যবেক্ষণ করছেন।

বেলজিয়ামে ভারত থেকে আসা ২০ জন ছাত্রের মধ্য বিপজ্জনক ভারতীয় রূপান্তর ভাইরাসটির সন্ধানের পর সুইজারল্যান্ডেও ভারত থেকে আসা একজন যাত্রীর মাঝে তা খুঁজে পাওয়া গেছে। সুইজারল্যান্ডের ফেডারেল অফিস অব পাবলিক হেলথ থেকে জানানো হয়েছে, ভারতীয় ধরনের করোনাভাইরাসে সংক্রমণিত ব্যক্তিটি সুইজারল্যান্ডে পৌঁছানোর আগে একটি ইউরোপীয় দেশে বিমান থেকে নেমে ট্রেনযোগে সুইজারল্যান্ডে প্রবেশ করেছিলেন।

জার্মানি ও যুক্তরাজ্যসহ ইউরোপের বেশ কয়েকটি দেশ ইতিমধ্যেই ভারতের সঙ্গে বিমান যোগাযোগ বন্ধ ঘোষণা করছে।

বিজ্ঞাপন

ভারতে পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করে জার্মানি সরকার ভারতের জন্য জরুরি সহয়তার কথা ঘোষণা করছে। গতকাল বার্লিনে চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেলের মুখপাত্র স্টেফান সাইবার্ট জানিয়েছেন, জার্মানি ভারতের এই সংকটের মুখে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেবে।

চ্যান্সেলর ম্যার্কেল গতকাল বলেছেন, ‘ভারতীয় জনগণের এই সংকটের সময় আমরা দ্রুত একটি সহযোগিতা মিশন তৈরি করেছি। জার্মানি ভারতের এই দুঃসময়ে পাশে থাকবে। বিশ্বব্যাপী করোনা মহামারির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে আমাদের সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে।’

গতকাল এক দিনে ভারতে প্রায় সাড়ে তিন লাখ নতুন সংক্রমণের খবরের মধ্যেই জার্মানি সরকার এই সহযোগিতার ঘোষণা দিয়েছে। এই মুহূর্তে সারা ভারতে ওষুধ এবং মেডিকেল অক্সিজেনের অভাব রয়েছে। নয়াদিল্লির সরকার শুক্রবার ঘোষণা করেছে যে জার্মানি থেকে ২৩টি অক্সিজেন প্রসেসিং সিস্টেম মেশিন সরবরাহের পরিকল্পনা করা হয়েছিল। এখন জার্মানি সরকারের পক্ষ থেকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে তা সরবরাহ করা হবে।

জার্মানির ডের স্পিগেল পত্রিকাটি ভারতের করোনার পরিস্থিতির জন্য দেশটির সরকারের সিদ্ধান্তহীনতাকে দায়ী করেছে। তারা উল্লেখ করেছে, ভারত সরকার বছরের শুরু থেকেই করোনাবিষয়ক নানা বিধিনিষেধ শিথিল করে। বিশাল বিয়ের অনুষ্ঠান থেকে শুরু করে ধর্মীয়, রাজনৈতিক অনুষ্ঠান ক্রিকেটের মতো জনপ্রিয় খেলা অনুষ্ঠানের অনুমতি দেয়। ভারতে সাম্প্রতিক সময়ে সংক্রমণের সংখ্যা ব্যাপক বৃদ্ধির জন্য এই বিষয়গুলো দায়ী বলে উল্লেখ করা হয়ছে।

ইউরোপ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন