default-image

রাশিয়ার উদ্ভাবিত করোনার টিকার নিরাপত্তা নিয়ে সৃষ্ট আন্তর্জাতিক উদ্বেগ নাকচ করে দিয়েছে মস্কো। রাশিয়া বলছে, তাদের অনুমোদিত করোনার টিকা নিয়ে উদ্বেগ-সংশয় ‘পুরোপুরি ভিত্তিহীন’। বুধবার বিবিসি অনলাইনের প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়।

বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে রাশিয়ায় করোনার টিকার অনুমোদন দিয়েছে দেশটির সরকার। দেশটির প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন মঙ্গলবার নিজেই এই তথ্য জানান। এ সময় তিনি বলেন, তাঁর এক মেয়ের শরীরে ইতিমধ্যে টিকাটি প্রয়োগ করা হয়েছে।

রাশিয়ার অনুমোদিত করোনার এই টিকা নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অনেকেই সংশয় ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। বিভিন্ন দেশের গবেষক বলেছেন, এটা নিশ্চিত যে টিকাটি উদ্ভাবনে রুশ গবেষকেরা তাড়াহুড়ো করেছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ অ্যান্টনি ফাউসি রাশিয়ার টিকা কতটা নিরাপদ ও কার্যকর হতে পারে, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেছেন, টিকা থাকা আর টিকা নিরাপদ ও কার্যকর হওয়া আলাদা দুটি জিনিস। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলেছে, তারা টিকাটির ব্যাপারে খুঁটিনাটি পর্যালোচনা না করে অনুমোদনই দেবে না।

রাশিয়ার স্বাস্থ্যমন্ত্রী মিখাইল মুরাশকো গতকাল বার্তা সংস্থা ইন্টারফ্যাক্সকে বলেন, অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, আমাদের বৈদেশিক বন্ধুরা রুশ টিকার প্রতিযোগিতামূলক সুবিধার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে মতামত দেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছেন, যা একেবারেই ভিত্তিহীন।

রাশিয়ায় করোনাভাইরাসের টিকা খুব শিগগির পাওয়া যাবে বলে জানান মিখাইল মুরাশকো।

রুশ স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, করোনার টিকার প্রথম প্যাকেজ আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে পাওয়া যাবে। শুরুতে এই টিকা চিকিৎসকদের দেওয়া হবে।

রাশিয়ার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আগামী অক্টোবর মাসে তাঁরা দেশটিতে ব্যাপকভাবে করোনার টিকা দেওয়ার কার্যক্রম শুরুর পরিকল্পনা করছেন।

রাশিয়ায় অনুমোদন পাওয়া করোনার টিকাটির নাম ‘স্পুটনিক-৫ ’। টিকাটি উদ্ভাবন করেছে রুশ গবেষণা প্রতিষ্ঠান গামালিয়া রিসার্চ ইনস্টিটিউট। সহযোগিতা করেছে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।

রুশ কর্মকর্তাদের ভাষ্য, টিকাটি নিরাপদ ও স্থিতিশীল বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে। এটি মানবদেহে প্রয়োজনীয় রোগ প্রতিরোধব্যবস্থাও গড়ে তুলতে পেরেছে।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0