default-image

করোনাভাইরাসের নতুন ধরনের (স্ট্রেইন) বিরুদ্ধে কার্যকর টিকা এ বছরের মধ্যেই চলে আসবে বলে আশা করছে ওষুধ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান অ্যাস্ট্রাজেনেকা। প্রতিষ্ঠানটি অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যৌথভাবে উদ্ভাবিত টিকার উৎপাদন চালিয়ে যাচ্ছে।

অ্যাস্ট্রাজেনেকার পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, তাদের উদ্ভাবিত কোভিড-১৯ ঠেকানোর টিকার নতুন সংস্করণ চলতি বছরের মাঝামাঝি বা বছরের শেষ দিকে প্রস্তুত হয়ে যাবে।

করোনার নতুন ধরন বেশি সংক্রামক বলে উদ্বেগ ছড়িয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার ব্রিটিশ-সুইডিশ ওষুধ নির্মাতা অ্যাস্ট্রাজেনেকা বলেছে, কয়েক মাস আগে করোনার নতুন ধরন শনাক্ত হওয়ার পর থেকেই টিকাটির নতুন সংস্করণ নিয়ে কাজ শুরু করেন গবেষকেরা। অ্যাস্ট্রাজেনেকার বায়োফার্মাসিউটিক্যাল গবেষণার প্রধান মেনে প্যানগালোস বলেন, ‘আমার দ্রুত এগোচ্ছি এবং করোনার নতুন ধরন ঠেকানোর টিকা নিয়ে কাজ শুরু করেছি।’

বিজ্ঞাপন

ইউরোপীয় ইউনিয়নের সমালোচনা ও করোনার নতুন ধরনের বিরুদ্ধে কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও অ্যাস্ট্রাজেনেকার প্রধান নির্বাহী প্যাসকেল সোরিয়ট তাঁর কোম্পানির প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার কথা বলেন। তিনি দ্রুত উৎপাদন বাড়ানোর কথাও বলেছেন।

ইউরোপের ওষুধ সংস্থা অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা অনুমোদন দিলেও ফ্রান্স ও জার্মানির মতো দেশ ৬৫ বছরে বেশি বয়সীদের ক্ষেত্রে তা ব্যবহার না করার পরামর্শ দিয়েছে। তাদের যুক্তি, এ ক্ষেত্রে যথেষ্ট তথ্য নেই। চলতি সপ্তাহে দক্ষিণ আফ্রিকায় করা ছোট একটি গবেষণায় এ টিকা করোনার নতুন সংস্করণের ক্ষেত্রে কম কার্যকর বলে দেখা গেছে।

তবে সোরিয়ট বলছেন, তাঁদের টিকাটি গুরুতর পরিস্থিতি মোকাবিলায় দারুণ কার্যকর। এটা তাঁদের গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য। এ মাসে অ্যাস্ট্রাজেনেকা ১০ কোটি ডোজ টিকা উৎপাদন করবে। এপ্রিলে উৎপাদন ২০ কোটি ডোজে পৌঁছাবে বলে মন্তব্য করেছেন অ্যাস্ট্রাজেনেকার প্রধান নির্বাহী।

এর আগে করোনাভাইরাসের নতুন ধরন শনাক্ত হওয়া দেশগুলোতেও অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও অ্যাস্ট্রাজেনেকার তৈরি টিকা ব্যবহারের সুপারিশ করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। টিকাটির দুই ডোজ নেওয়ার ক্ষেত্রে ৮ থেকে ১২ সপ্তাহ পর্যন্ত বিরতি নেওয়ার কথা বলছেন সংস্থাটির বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের মতে, এতে টিকার কার্যকারিতা বাড়ে ও বেশি সুরক্ষা পাওয়া যায়।

বিজ্ঞাপন
ইউরোপ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন