করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শনাক্ত করতে কাজে লাগানো হচ্ছে কুকুর। গত মঙ্গলবার হেলসিংকি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে
করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শনাক্ত করতে কাজে লাগানো হচ্ছে কুকুর। গত মঙ্গলবার হেলসিংকি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেছবি: এএফপি

করোনাভাইরাস শনাক্ত করতে এবার কুকুর ব্যবহার করা হচ্ছে। ফিনল্যান্ডের হেলসিংকি বিমানবন্দরে বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কুকুরের সাহায্যে করোনা শনাক্তের কাজ চলছে। একটি পাইলট প্রকল্পের আওতায় গবেষকেরা এই পদ্ধতির পরীক্ষা চালাচ্ছেন।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান-এর খবরে বলা হয়েছে, ফিনল্যান্ডের রাষ্ট্রীয় অর্থে এই গবেষণা চালানো হচ্ছে। আশা করা হচ্ছে, পিসিআর পরীক্ষার চেয়ে এই পদ্ধতি সাশ্রয়ী, কার্যকর ও দ্রুততম সময়ে করা সম্ভব হবে।

ইউনিভার্সিটি অব হেলসিংকির একদল গবেষক এই প্রকল্পে কাজ করছেন। তাঁরা বলছেন, কুকুরের মাধ্যমে করোনা শনাক্তের পুরো প্রক্রিয়া শেষ করতে ১ মিনিটের কম সময় লাগে। একটি কুকুর ১০ সেকেন্ডের মধ্যে যাত্রীদের মধ্যে করোনাভাইরাস শনাক্ত করতে পারছে। তাঁদের এই প্রকল্প চার মাস ধরে চলবে। গবেষকেরা বলছেন, এই নতুন প্রক্রিয়া খুবই সম্ভাবনাময়। যদি এটি কাজ করে, তবে করোনা শনাক্তের অন্যান্য প্রক্রিয়ার তুলনায় এটি অনেক সহজ হবে।

বিজ্ঞাপন

কুকুর দিয়ে করোনা শনাক্তের বিস্তারিত উল্লেখ করা হয়েছে গার্ডিয়ান-এর প্রতিবেদনে। বলা হচ্ছে, হেলসিংকির ওই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাত্রীরা পৌঁছানোর পর তাঁদের ঘাড়ে একটি কাপড় ঘষতে বলা হচ্ছে। এরপর সেই কাপড় একটি জারে ভরে কুকুরের কাছে দেওয়া হয়। সেখানে নির্দিষ্ট যাত্রীর দেহের গন্ধযুক্ত কাপড়ের জারের পাশাপাশি বিভিন্ন গন্ধের আরও জার থাকে। যাত্রীর শরীরের গন্ধ শুঁকে কুকুরটি যদি ঘেউ ঘেউ করে বা পা দিয়ে মেঝেতে লাথি মারে বা শুয়ে পড়ে, তাহলে ধরে নেওয়া হচ্ছে যে ওই যাত্রীর শরীরে করোনাভাইরাসের অস্তিত্ব থাকতে পারে। তখন ওই যাত্রীকে পিসিআর টেস্ট করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

ইউনিভার্সিটি অব হেলসিংকির গবেষকেরা এর আগে ক্যানসার ও ডায়াবেটিসের রোগী শনাক্ত করতেও কুকুর ব্যবহার করেছিলেন। বর্তমান প্রকল্পে দেখা গেছে, করোনাভাইরাস শনাক্তে কুকুরের সফলতা প্রায় শতভাগ। এমনকি যেসব মানুষের শরীরে কয়েক দিন আগেও উপসর্গ ছিল, তাঁদের ক্ষেত্রেও কুকুর দিয়ে নির্ভুলভাবে ভাইরাসের উপস্থিতি শনাক্ত করা গেছে।

বিজ্ঞাপন

তবে কীভাবে কুকুর করোনাভাইরাসের উপস্থিতি শনাক্ত করছে, সেই বিষয়ে বিজ্ঞানীরা নিশ্চিত হতে পারেননি। গত জুনে প্রকাশিত এক ফরাসি গবেষণাপত্রে বলা হয়েছে, কোভিড-পজিটিভ ব্যক্তিদের ঘামের গন্ধ সুস্থ মানুষের তুলনায় ভিন্ন হয়। কুকুর এমন গন্ধ শুঁকে চিহ্নিত করতে পারে।

অস্ট্রেলিয়া, ফ্রান্স, জার্মানি ও যুক্তরাজ্যের গবেষকেরাও এমন প্রকল্প নিয়ে কাজ করছেন। তবে ইউরোপের প্রথম দেশ হিসেবে ফিনল্যান্ড এটি কার্যকর করতে পেরেছে। এর আগে গত মাসে দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেও কুকুর দিয়ে কোভিড-১৯ শনাক্তের পরীক্ষা শুরু হয়েছিল।

মন্তব্য পড়ুন 0