default-image

আর্মেনিয়ার কাছ থেকে বিতর্কিত নাগরনো-কারাবাখ অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ শহর শুশা দখল করার দাবি করেছে আজারবাইজান। স্থানীয় সময় রোববার দেশটির প্রেসিডেন্ট ইলহাম আলিয়েভ এ দাবি করেন। তবে সোমবার এ দাবি প্রত্যাখ্যান করে আর্মেনিয়া বলছে, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ওই শহরে এখনো জোর লড়াই চলছে।

আল–জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, নাগরনো-কারাবাখ দখলে নিতে ছয় সপ্তাহ ধরে আর্মেনিয়ার সেনাবাহিনী ও বিচ্ছিন্নতাবাদীদের সঙ্গে আজারবাইজানের সেনাবাহিনী লড়াই করছে। শুশা দখলে নিতে দুই পক্ষের মধ্যে কয়েক দিন ধরে তীব্র লড়াই চলছে। এর মধ্যেই রোববার টেলিভিশন ভাষণে ইলহাম আলিয়েভ বলেন, ‘গর্বের ও আনন্দের খবর হচ্ছে, আমরা শুশা শহর মুক্ত করেছি। ৮ নভেম্বর  আজারবাইজানের জনগণের জন্য নতুন ইতিহাস সূচিত হলো।’

শুশা হলো নাগরনো-কারাবাখ অঞ্চলে অবস্থিত কৌশলগত এমন একটি শহর, যেখান থেকে সহজে নাগরনো-কারাবাখের প্রধান শহর স্টেপনেকার্টের ওপর নজরদারি করা যায়।

বিজ্ঞাপন

এদিকে শুশা নিয়ে কূটনৈতিক তৎপরতা চলমান আছে। এ নিয়ে গত শনিবার তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়েপ এরদোয়ান ও ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁর সঙ্গে কথা বলেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।

দুই দেশের সীমান্তে ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে ব্যাপক সংঘর্ষ ও গোলাগুলি চলে আসছে। রাশিয়ার মধ্যস্থতায় মাঝে দুই দেশ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হলেও কাজের কাজ তেমন কিছু হয়নি। দুই পক্ষের রক্তক্ষয়ী এ লড়াইয়ে বেসামরিক নাগরিকসহ বহু প্রাণহানি ঘটেছে।

বিবিসির খবরে বলা হয়, দুই দেশের সংঘাতের মূলে ওই নাগরনো-কারাবাখ অঞ্চল। এলাকাটি জাতিগত আর্মেনীয় অধ্যুষিত। সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের সময় ভোটাভুটিতে অঞ্চলটি আর্মেনিয়ার সঙ্গে থাকার পক্ষে রায় দেয়। এরপর বিষয়টি নিয়ে আজারবাইজান ও আর্মেনিয়ার মধ্যে যুদ্ধ বেঁধে যায়। ১৯৯০ সালের ওই যুদ্ধে প্রায় ৩০ হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটে। সেই যুদ্ধ থামে ১৯৯৪ সালের এক যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে।

এরপর থেকে এলাকাটি আন্তর্জাতিকভাবে আজারবাইজানের অংশ হিসেবে স্বীকৃত। কিন্তু আর্মেনীয় বিচ্ছিন্নতাবাদীদের নিয়ন্ত্রণে। তাদের সমর্থনে আর্মেনিয়ার সরকার। আন্তর্জাতিক পরাশক্তিগুলোর মধ্যস্থতায় দশকের পর দশক আলোচনা হলেও শান্তি চুক্তি অধরা থেকে গেছে।

মন্তব্য পড়ুন 0