ইউক্রেনকে ঘিরে ইউরোপজুড়ে গত কয়েক সপ্তাহ থেকেই যুদ্ধের দামামা বাজছিল। কূটনৈতিক প্রচেষ্টার পাশাপাশি সামরিক সজ্জা নিয়ে প্রস্তুতি চালাচ্ছিল ন্যাটো জোট বা পশ্চিমা শক্তি। ধারণা ছিল, শেষ পর্যন্ত ইউক্রেনকে ঘিরে একটি শান্তিপূর্ণ মীমাংসা হবে।

কিন্তু তা না হয়ে রাশিয়া বৃহস্পতিবার ভোরে ইউক্রেনের স্থল, আকাশ ও নৌপথে হামলা চালিয়েছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপের কোনো একটি দেশের ওপর আরেকটি দেশের এত বড় হামলা এই প্রথম। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেছেন, তাঁর উদ্দেশ্য ইউক্রেন দখল নয়; বরং দেশটিকে সামরিকায়নের হাত থেকে উদ্ধার করা।

আন্তসাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকায় জার্মানির হ্যানোভার শহরে অনেক পরিচিত ইউক্রেনীয় বন্ধু আছেন। হামলা শুরুর খবর শুনে সকালেই ইউক্রেনের নাগরিক বন্ধু ওকসানা ইয়ানজেন ও লেসিয়া ব্রেজস্কারকে ফোন দিলাম। ফোনে কাঁদছিল ওকসানা।

২১ বছর ধরে হ্যানোভার শহরে থাকে ওকসানা। তাঁর আরও তিন ভাইবোন থাকে কিয়েভ শহরের ডার্নিটস্কি এলাকায়। ওকসানা ফোনে জানিয়েছে, সকাল থেকেই কিয়েভে তিন ভাইবোনের সঙ্গে তার কয়েকবার ফোনে কথা হয়েছে। কথা বলার সময় বিস্ফোরণের আওয়াজ শুনেছে সে। শেষবার যখন কথা হয়, কিয়েভ থেকে বোন ওকসানাকে জানিয়েছে, শহরজুড়ে লোকজন খাবারের খোঁজে হন্তদন্ত হয়ে ছোটাছুটি করছে। কিয়েভ শহরের নিকটবর্তী সামরিক ঘাঁটি ও বিমানঘাঁটি থেকে রকেট বা ক্ষেপণাস্ত্রের ধোঁয়ায় আকাশ ছেয়ে গেছে। শহরে গুজব ছড়িয়েছে, রুশ পদাতিক বাহিনী ও ট্যাংকগুলো সীমান্ত পেরিয়ে কিয়েভ দখল করতে আসছে।

default-image

ওকসানা যখন শেষবার তার ভাইবোনদের সঙ্গে কথা বলেছে, তখন তারা কিয়েভের ডার্নিটস্কি অঞ্চল ছেড়ে ১২০ কিলোমিটার উত্তরে গ্রামের বাড়ি জইটোমোর অঞ্চলে রওনা দিয়েছে। তার দুই ভাই গ্রামের বাড়ি পৌঁছাতে পারবে কি না, এ নিয়ে আতঙ্কিত ওকসানা। কারণ, গণমাধ্যমে যুদ্ধকালীন জরুরি অবস্থার ঘোষণা দেওয়া হচ্ছে। এ ঘোষণায় কিয়েভের পুরুষদের বাসা ত্যাগ না করতে বলা হয়েছে।

হ্যানোভার শহরে ৯ বছর ধরে থাকা লেসিয়া ব্রেজস্কার বাবা-মা থাকেন কিয়েভ শহরের বাইরে টারনোপিল এলাকায়। কিয়েভ থেকে এই এলাকার দূরত্ব প্রায় ৪২৭ কিলোমিটার।

আর তাঁর খালা অলেকসান্দ্রা পরিবার নিয়ে থাকেন কিয়েভের দিনিপ্রো নদীর পশ্চিম তীরে। সকাল থেকেই লেসিয়া কিয়েভে খালা অলেকসান্দ্রা ও খালাতো বোনদের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছে। সেখানকার দুর্দশা আর স্বজনদের কথা ভেবে কাঁদছে লেসিয়া।

অলেকসান্দ্রার বরাত দিয়ে লেসিয়া জানিয়েছে, গভীর রাতে সাইরেন আর বিস্ফোরণের শব্দে ঘুম ভেঙে যায়। ঘুম ভেঙে প্রতিবেশীদের চিৎকার শুনে তাঁরা সবাই ঘরের বাইরে আসেন। অনেকে তখন বোমা হামলার ভয়ে খোলা জায়গার দিকে ছুটছিল।

অলেকসান্দ্রা তাঁদের সঙ্গে প্রায় দুই ঘণ্টা ঘরের বাইরে ছিলেন। পরে ঘরে ফিরে টারনোপিলে বসবাসরত বোনের কাছে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন।

ইউরোপ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন