বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

খালেদ মোশাররফ বলছিলেন, ‘বিস্ফোরণের শব্দ হলো প্রচণ্ডভাবে। রোভারি ও বরিসফুল এলাকায় তিনবার বিস্ফোরণ হলো। এরপর সব চুপচাপ। বিস্ফোরণ আর হয়নি। তবে মানুষের মধ্যে আতঙ্ক যথেষ্ট।’

খালেদের গ্রামের বাড়ি চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে। খালেদ কিয়েভে ব্যবসায় করেন। বিয়ে করেছেন ইউক্রেনের এক নারীকেই। তাঁদের দুই ছেলে, এক মেয়ে।

বিস্ফোরণের পর কিয়েভের অবস্থা কেমন জানতে চাইলে মোশাররফ বলেন, ‘মানুষ তো আতঙ্কিত। বিস্ফোরণের পর রাস্তায় প্রচণ্ড যানজট। নগরের অনেকেই গ্রামের দিকে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছুটছেন। তবে প্রথম দফায় বিস্ফোরণের পর আর সব চুপচাপ হয়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি অত জটিল বলে মনে হচ্ছে না।’

‘আপনি কিয়েভ ছেড়ে অন্য কোথাও যাবেন কি না?’—এ প্রশ্নের উত্তরে মোশাররফ বলেন, ‘আমি যাব না। এই দেশে আমি প্রায় ২৫ বছর ধরে আছি। যদি পরিস্থিতি খুব খারাপ হয়, তবে গ্রামের দিকে চলে যাব। সেখানে আমার স্ত্রীর গ্রামের বাড়ি।’

কয়েক মাস ধরেই ইউক্রেনের সঙ্গে রাশিয়ার উত্তেজনা শুরু হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশে ফেরার চেষ্টা করেননি বলে জানান মোশাররফ। তিনি জানান, পোল্যান্ডের বাংলাদেশ দূতাবাসের মাধ্যমে তাঁরা যোগাযোগ করেন।

default-image

খালেদ মোশাররফের সঙ্গে যখন কথা হচ্ছিল, তখন বার কয়েক সংযোগ কেটে গেল। আজ দেশজুড়ে ইন্টারনেটে সমস্যা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

সাধারণ কিয়েভবাসীর মতো সংশয়ে আছেন বলে জানান খালেদ মোশাররফ। তাঁর ভাষ্য, এমন পরিস্থিতি যে হবে, এটা অনেকেই ধরে নিয়েছিলেন। তবে সীমান্ত এলাকাগুলোর জেলায় পরিস্থিতি যতটা খারাপ, কিয়েভে এখনো তা নয় বলেই দাবি তাঁর।

‘ভয় পেয়ে তো লাভ নেই’

আরেক বাংলাদেশি মাহবুব আলমের আজ ঘুম ভেঙেছে বিস্ফোরণের শব্দে।

১৯৮২ সাল থেকে মাহবুব আলম থাকেন ইউক্রেনে। তিনি ব্যবসায়ী। উচ্চশিক্ষার জন্য ইউক্রেনে গিয়েছিলেন, এরপর লেখাপড়া শেষ করে সেখানেই থিতু হন। তবে দেশে আসেন প্রায়ই। কদিন হলো বাংলাদেশ থেকে ফিরেছেন। তিনি থাকেন কিয়েভ বিমানবন্দরের কাছের পোজনয়অকি এলাকায়। এটি নতুন গড়ে ওঠা একটি এলাকা।

আজ বিস্ফোরণের পরপরই মানুষের মধ্যে ভীতির সঞ্চার হয়েছে বলে জানান মাহবুব। তিনি বলেন, ‘আজ আমি বাড়ির বাইরে বেরিয়েছিলাম। রাস্তায় গাড়ির সারি। দোকানে বিশেষ করে ওষুধের দোকানে দীর্ঘ সারি। এটিএম বুথেও অপেক্ষমাণ মানুষের ভিড়। আজই এ অবস্থা দেখলাম। কাল এমন তাড়াহুড়া কারও মধ্যে দেখিনি।’

মাহবুব আলমের গ্রামের বাড়িতে এখনো নিকট আত্মীয়রা আছেন। উৎকণ্ঠিত তাঁরা ফোন করেছেন, খোঁজখবর নিয়েছেন দেশ-বিদেশের অনেক বন্ধু। তাঁরা নিরাপদে চলে যাওয়ার জন্য বলেছেন। তবে তিনি এখনো দেশ ছাড়ার কোনো পরিকল্পনা করেননি। প্রায় যুদ্ধ পরিস্থিতিতে এত সাহস কীভাবে পাচ্ছেন—জবাবে মাহবুব আলম বললেন, ‘ভয় পেয়ে তো লাভ নেই। এমন পরিস্থিতিতে ভীতির সৃষ্টি হবে তা স্বাভাবিক। কিন্তু ভয় পেয়ে গেলে পরিস্থিতি তো সামলানো যাবে না।’

default-image

আজ ভোরের দিকে রুশ বাহিনী ইউক্রেনে হামলা চালায়। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন সামরিক অভিযান শুরুর আগে ভাষণ দেন। তিনি বলেছেন, ইউক্রেন দখলের জন্য নয়, বরং দেশটিকে নিরস্ত্র করতেই তাঁর এ অভিযান। তবে বিশ্বনেতারা এ হামলার নিন্দা জানিয়েছেন। রাশিয়ার ওপর পশ্চিমা বিশ্বের নিষেধাজ্ঞা ব্যাপক হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে খবর মিলেছে, হামলার পর এ পর্যন্ত ৫০ জন সামরিক–বেসামরিক সদস্য মারা গেছেন। মানুষের মধ্যে ভীতির সঞ্চার হয়েছে।

ইউরোপ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন