বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

সমালোচনার শুরু মূলত বিয়ে নিয়ে ভোগের সঙ্গে মালালার এক আলাপচারিতাকে ঘিরে। চলতি বছরের জুলাইয়ে সাময়িকীটিকে মালালা বলেন, ‘আমি এখনো বুঝতে পারি না কেন মানুষকে বিয়ে করতে হবে। আপনি যদি একজন জীবনসঙ্গী চান, তাহলে কেন বিয়ের কাগজপত্রে সই করতে হবে। এটা কি শুধু একটি অংশীদারত্ব হতে পারে না?’ এমন মন্তব্যের চার মাস পর এসেই ৯ নভেম্বর বিয়ের পিঁড়িতে বসেন তিনি।

ভোগের প্রবন্ধে মালালা বলেন, ‘আমি বিয়ের বিরুদ্ধে ছিলাম না। আমি প্রথাটি নিয়ে সর্তক ছিলাম। আমি পুরুষতান্ত্রিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলাম। পাশাপাশি বিয়ের পর নারীদের নানা বিষয়ে আপসের প্রস্তুতি নিতে হয় এবং বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে বিয়েসংক্রান্ত আইনগুলোতে সাংস্কৃতিক প্রথা ও নারীবিদ্বেষী মনোভাবের প্রভাব পড়ে তা নিয়ে কথা বলেছিলাম।’

নোবেলজয়ী এ নারী লেখেন, বিয়ে তাঁর কাছে স্বাধীনতা, নারীত্ব এবং মানবিক অধিকার হারানোর মতো একটি বিষয় ছিল। তাঁর এ দৃষ্টিভঙ্গির পেছনে ছিল পাকিস্তানের কাটানো তাঁর শৈশব। দেশটিতে বিয়েকে মেয়েদের কাছে ‘দাসত্ব’ হিসেবে পরিচয় করানো হয়।

পাকিস্তানের বাল্যবিবাহ নিয়েও কথা বলেন মালালা। তাঁর মতে, পরিবারের আর্থিক অনটনের কারণে পাকিস্তানের অনেক শিশু-কিশোরীকেই স্কুল ছাড়তে হয়। অনেকেই আবার স্কুলে পা রাখার পর প্রত্যাশা অনুযায়ী ভালো ফল আনতে পারে না। এর জেরে তাদের মা-বাবারা পড়ালেখার খরচ দিতে চান না। এসব শিশু-কিশোরীরা মনে করে জীবনে তারা ব্যর্থ, তাই তাদের বিয়ে দেওয়া হয়েছে।

কেন বিয়ে করলেন, সে প্রশ্নের জবাব রয়েছে মালালার লেখায়। তিনি বলেন, তাঁর বন্ধুবান্ধব, পরামর্শদাতা, এমনকি স্বামী আসার মালিকও এ নিয়ে বোঝাপড়া করতে পাশে ছিলেন। তিনি বুঝতে পারেন পুরুষতান্ত্রিকতা ও দমন–পীড়নের বাইরে গিয়েও বিবাহিত সম্পর্ক টিকে থাকতে পারে। মালালা জানান, সম্পূর্ণ নতুন দৃষ্টিকোণ থেকে তিনি বিয়েকে দেখেছেন।

২০১৮ সালে আসার মালিকের সঙ্গে দেখা হয় মালালার। মালালা জানান, দুজনের মধ্যে সম্পর্কের শুরুটা তখন থেকেই। তাঁর ভাষ্য, ‘আমরা ঘনিষ্ঠ বন্ধু হয়ে পড়ি। আমাদের মূল্যবোধে মিল ছিল। দুজনের সঙ্গও উপভোগ করছিলাম। সুখ-দুঃখের সময়গুলো পাশাপাশি দাঁড়িয়ে কাটিয়েছি। জীবনের ওঠা-নামায় আমরা দুজন দুজনের কথা শুনেছি।’

মালালা বলেন, ‘ নারীরা যেসব প্রতিবন্ধতার মুখে পড়ে, সেগুলো নিয়ে সব প্রশ্নের জবাব হয়তো আমার কাছে নেই। তবে বিবাহিত জীবনে আমি বন্ধুত্ব, ভালোবাসা ও সমঅধিকার উপভোগ করতে পারব বলে বিশ্বাস করি।’

ইউরোপ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন