বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আমেলিয়া গান গাইতে ও মাথায় অলংকার পরতে ভালোবাসেন। বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্রের বাজনাও তাঁর পছন্দ। একসময় সৈকতের ক্লাবে বিভিন্ন পানীয় মিশ্রণের কাজও করেছেন এই রাজকুমারী। নিজেকে এ কাজে বেশ দক্ষ বলে পরিচয় দেন তিনি। আমেলিয়ার হাত ধরে নেদারল্যান্ডসে নতুন এক যুগের শুরু হতে পারে। তবে তার আগে নেদারল্যান্ডসের ভবিষ্যৎ রানি সম্পর্কে আরও কিছু জেনে নেওয়া যাক।

রাজকুমারী কত দূর পড়েছেন

অন্য সব ডাচ্‌ শিশুর মতোই প্রিন্সেস আমেলিয়া দ্য হেগে বাড়ির কাছের একটি স্কুলে পড়াশোনা করেছেন। বাইসাইকেলে চড়েই স্কুলে যেতেন তিনি। আমেলিয়ার বন্ধুদের সূত্রে জানা গেছে, রাজপরিবার হলেও সাধারণের মতো জীবনযাপন ছিল আমেলিয়াদের। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ছিল না কোনো গোপনীয়তা।

রাজকুমারীর সমলিঙ্গের বিয়েতে আইনি কোনো জটিলতা নেই।
নেদারল্যান্ডসের ভারপ্রাপ্ত প্রধানমন্ত্রী মার্ক রাট

প্রোটেস্ট্যান্ট স্কুল থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন আমেলিয়া। স্কুলের প্রথা অনুসারে অন্য সব পরিবার ও বাড়ির মতোই আমেলিয়া হেগ শহরের প্রাসাদ হিউস টেন বচে নেদারল্যান্ডসের পতাকা ও স্কুলব্যাগ ঝুলিয়ে রাখতেন।

প্রথা অনুসারে ১৮ বছর বয়স হওয়ার পর আমেলিয়ার পরিবার থেকে ১৬ লাখ ডলার আর্থিক সহায়তা পাওয়ার কথা। তবে তা নিতে নারাজ তিনি। কোনো পরিশ্রম না করেই কেবল রাজকুমারী হিসেবে এত অর্থ নিতে চান না তিনি।

রাজকুমারীর জীবনযাপন

রাজকুমারী আমেলিয়ার কিন্তু রয়েছে গালভরা নাম। আর সেটা বেশ বড়। নামটি হলো প্রিন্সেস ক্যাথেরিন আমেলিয়া বেয়াট্রিক্স কারমেন ভিক্টোরিয়া। অ্যালেক্সিয়া ও আরিয়ানে নামে ছোট দুটি বোন রয়েছে আমেলিয়ার। বছরে দুবার রাজপরিবারের সবাই ফটোশুট করেন।

আমেলিয়ার বাবা কিং উইলেম আলেক্সান্ডার একজন পাইলট। বাণিজ্যিক কেএলএম উড়োজাহাজ নিয়মিত পরিচালনা করেন তিনি। তাঁর মা কুইন ম্যাক্সিমার দেশ আর্জেন্টিনা।

আমেলিয়া অকপটে বলেন, একসময় তিনি সৈকতের ক্লাবে বিভিন্ন পানীয় বানাতেন। বিভিন্ন পানীয়র মিশ্রণ তৈরিতে তিনি খুবই দক্ষ। আর এ কারণে তাঁকে ককটেল কুইনও বলা হয়। এমনকি ঘোড়া চালনাতেও পারদর্শী তিনি।

কয়েক বছর আগে বাবা আমেলিয়াকে একটি কথা বলেছিলেন। চা ও বিস্কুট খেতে খেতে মেয়েকে বাবা শিখিয়েছিলেন সততা আর খোলামনে সব কথা বললেই বিবাহিত জীবন সুখের হয়।

বাবার বলা সেই কথা মনে রেখেই বিয়ে নিয়ে পরিকল্পনা করে রেখেছেন রাজকুমারী। ১৮ বছরে পদার্পণ উপলক্ষে প্রকাশিত বায়োগ্রাফিতে লিখেছেন, ডাচ্‌ সংবিধান মেনে ও পার্লামেন্টের অনুমোদন সাপেক্ষেই বিয়ের পিঁড়িতে বসবেন তিনি।

রাজকুমারী বলেন, ‘যে ব্যক্তি আমাকে সমর্থন দেবে, যাকে আমি ভালোবাসব, যার সঙ্গে জীবন কাটানোর সিদ্ধান্ত নেব, তাকে যদি পার্লামেন্ট অনুমোদন না দেয়, তাহলে আমাকে পরিস্থিতি বুঝে কাজ করতে হবে। আমি আমার নিজের সিদ্ধান্তে সবকিছু করতে পারব না। তাহলে দেশের জন্য আমি কাজ করতে পারব না।’

সরকারি অনুমোদন ছাড়া আমেলিয়ার প্রয়াত চাচা প্রিন্স ফিসো বিয়ে করেছিলেন। এ কারণে রাজপরিবার তাঁকে পরিত্যাগ করেছিল। হয়তো সে ঘটনা থেকেই শিক্ষাটা নিয়েছেন আমেলিয়া।

সমলিঙ্গ বিয়ে

কৌতুক অভিনেতা ক্লডিয়া দ্য ব্রেজির লেখা জীবনীতে আমেলিয়া স্পষ্ট বলেছেন, তাঁর পরিবারে সমকামিতা অস্বাভাবিক কোনো বিষয় নয়। তাঁর মা-বাবার বন্ধুদের মধ্যে অনেকেই সমকামী।

১৪ বছর বয়সে আমেলিয়া সমকামীদের সঙ্গে সংহতি জানাতে পার্পল ফ্রাইডে উদ্‌যাপন করেন। সেদিন তিনি বেগুনি রঙের পোশাক পরে যান।

নেদারল্যান্ডসে ২০ বছর ধরে সমলিঙ্গ বিয়ে বৈধ। আমেলিয়াও কি সেই পথে হাঁটবেন? রাজকুমারী যদি সমলিঙ্গের কাউকে বিয়ে করতে চান, তাহলে প্রতিক্রিয়া কী হতে পারে, এমন প্রশ্ন রয়েছে। এমন ঘটনা ঘটলে নিঃসন্দেহে সমালোচনার ঝড় উঠবে। তবে নেদারল্যান্ডসের ভারপ্রাপ্ত প্রধানমন্ত্রী মার্ক রাট বলেছেন, রাজকুমারীর সমলিঙ্গের বিয়েতে আইনি কোনো জটিলতা নেই।

রাজকুমারীর জীবনকাহিনি থেকে জানা যায়, ডাচ্‌দের তুলনায় জার্মান পুরুষদের বেশি পছন্দ করেন আমেলিয়া।

প্রেম নিয়ে নেই রাখঢাক

প্রেমে পড়া নিয়ে কোনো রাখঢাক রাখেননি এই রাজকুমারী। অকপটে বলেছেন, স্কুল, কলেজে পড়ার সময় অনেকেই তাঁর পছন্দের তালিকায় ছিল। শারীরিক সুস্থতা যেমন প্রয়োজন, মানসিক সুস্থতাও সমান গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন রাজকুমারী। প্রয়োজন পড়লে তিনি মানসিক চিকিৎসকও দেখাতে রাজি আছেন। মানসিক চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার মধ্যে কোনো অস্বাভাবিকতা দেখেন না রাজকুমারী; বরং এটি খুব স্বাভাবিক বলেই ভাবেন।

আমেলিয়া অকপটে বলেন, একসময় তিনি সৈকতের ক্লাবে বিভিন্ন পানীয় বানাতেন। বিভিন্ন পানীয়র মিশ্রণ তৈরিতে তিনি খুবই দক্ষ। আর এ কারণে তাঁকে ককটেল কুইনও বলা হয়। এমনকি ঘোড়া চালনাতেও পারদর্শী তিনি।

ইউরোপের অন্য যেকোনো রাজপরিবারের তুলনায় নেদারল্যান্ডসের রাজপরিবার বিলাসবহুল জীবন যাপন করে। তবে নেদারল্যান্ডসের রাজপরিবার, যা হাউস অব অরেঞ্জ নামেও পরিচিত, তাদের সদস্যদের সাধারণ জীবনযাপনে অনুপ্রাণিত করে।

রাজকুমারী কতটা জনপ্রিয়

রাজকুমারী আমেলিয়া কতটা জনপ্রিয়, তা বলা বেশ কঠিন। কারণ, তিনি সব সময় গণমাধ্যমের সামনে আসেন না।

তবে আমেলিয়ার সবার সঙ্গে মেলামেশা করা, সততা ও বিনয় তাঁকে অন্যদের কাছে জনপ্রিয় করে তুলেছে। আমেলিয়া বলেন, ‘যদি আমি কূটনৈতিকভাবে খারাপ পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে পারি, তাহলে বিশ্বকে ভালো কিছু দিতে পারব। আমি এভাবেই সুখী হতে পারব।’

আমেলিয়া বিশ্বাস করেন, তিনি রানি হিসেবে দায়িত্ব পালনের জন্য প্রস্তুত। তবে যত দিন মা আছেন, তত দিন তিনিই এই দায়িত্বে থাকবেন, এমনটাও চান রাজকুমারী।

ইউরোপ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন