default-image

ব্রিটিশ রাজপরিবারের দায়িত্ব থেকে সরে যাওয়া প্রিন্স হ্যারি বলেছেন, যুক্তরাজ্যের গণমাধ্যমগুলো অব্যাহতভাবে তাঁর মানসিক স্বাস্থ্য বিপর্যস্ত করে তুলছিল। এ কারণেই রাজপরিবারের জৌলুশপূর্ণ জীবন ত্যাগ করেছেন তিনি।

মার্কিন সম্প্রচারমাধ্যম সিএনএনকে দেওয়া এক বিরল সাক্ষাৎকারে ডিউক অব সাসেক্স হ্যারি রাজকীয় জীবনে তাঁর ওপর নানা চাপ ও লন্ডন থেকে বিদেশে পাড়ি জমানো নিয়ে কথা বলেছেন। এ সাক্ষাৎকারেই ব্রিটিশ গণমাধ্যমের বিরুদ্ধে ওই অভিযোগ করেন তিনি।

সাক্ষাৎকার অনুষ্ঠান ‘দ্য লেট লেট শো’–এর সঞ্চালক জেমস কর্ডনকে প্রিন্স হ্যারি বলেন, ‘ব্রিটিশ গণমাধ্যম কেমন হতে পারে, আমরা সবাই তা জানি। এই গণমাধ্যম আমাকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে তুলছিল। আমার কাছে এটিকে বিষের মতো মনে হচ্ছিল। তাই কোনো স্বামী ও কোনো বাবা যা করতেন, আমিও সেটাই করেছি।’

এক বছর আগে হ্যারি ও তাঁর মার্কিন স্ত্রী মেগান রাজকাজ ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। রাজপরিবারের কারও সঙ্গে কোনো আলোচনা না করে তাঁদের নেওয়া এ সিদ্ধান্তে ঝাঁকুনি খেয়েছিল ব্রিটিশ রাজপরিবার। একই সঙ্গে এ সিদ্ধান্তে বিস্মিত হয়েছিলেন সবাই। এই দম্পতি জানিয়েছিলেন, তাঁরা স্বাবলম্বী হয়ে বেঁচে থাকতে চান।

সম্প্রতি হ্যারি ও মেগান জানিয়ে দেন, তাঁরা আর কখনো রাজদায়িত্বে ফিরছেন না। বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ ডিউক অব সাসেক্স ও ডাচেস অব সাসেক্সকে তাঁদের রাজকীয় উপাধি এবং রাজপরিবার থেকে পাওয়া সুযোগ-সুবিধা ত্যাগ করার নির্দেশ দিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

রাজকীয় দায়িত্ব ছাড়ার পর গত বছর হ্যারি ও মেগান যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে চলে যান। এরপর থেকে এক নতুন জীবন শুরু করেছেন এ দম্পতি। জনসমক্ষে ক্রমে তাঁদের বেশি দেখা যেতে থাকে। সহানুভূতিশীল গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বদের সঙ্গেও যোগাযোগ বজায় রাখা শুরু করেন তাঁরা। যুক্তরাজ্য ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রে তাঁদের এ পাড়ি জমানোকে ব্রিটিশ গণমাধ্যমগুলো ‘মেক্সিট’ নামে আখ্যায়িত করে থাকে।

স্ত্রী মেগানকে নিয়ে মার্কিন উপস্থাপক অপরাহ্‌ উইনফ্রের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে হাজির হওয়ার কথা রয়েছে প্রিন্স হ্যারির। এর কয়েক দিন আগে জেমস কর্ডনকে সাক্ষাৎকার দিলেন তিনি।

কর্ডনের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে হ্যারি ব্রিটিশ রাজপরিবারের ভাঙন নিয়ে তৈরি নাটক ‘দ্য ক্রাউন’–এর প্রসঙ্গ তুলে ধরে বলেন, জনপ্রিয় নাটকটি দেখেছেন তিনি। হ্যারি বলেন, ‘আমার পরিবার বা আমার স্ত্রী বা আমাকে নিয়ে পত্রপত্রিকায় যেসব কাহিনি লেখা হয়েছে, সেগুলোর চেয়ে বেশি স্বস্তি পেয়েছি “দ্য ক্রাউন” দেখে।’

দীর্ঘদিন ধরে পত্রপত্রিকার খবরে নিজেদের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে বাগ্‌যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছিলেন হ্যারি ও মেগান। বিভিন্ন গণমাধ্যমের সঙ্গে মামলা–মোকদ্দমাও লড়েছেন। এ রকমই এক মামলায় চলতি মাসের শুরুর দিকে মেইল অন সানডে পত্রিকার বিরুদ্ধে জেতেন মেগান। বিভিন্ন বিষয়ে বাবার সঙ্গে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েছিলেন তিনি। পরে বাবাকে লেখা তাঁর একটি ব্যক্তিগত চিঠি ফাঁস করে দিয়েছিল পত্রিকাটি।

সাক্ষাৎকারে হ্যারি বলেন, ‘জনসেবায় নিয়োজিত থাকাই আমার জীবনের কাজ হবে। মেগানও এতে যুক্ত হয়েছে। (রাজকীয় দায়িত্ব ছাড়ার পর) আমরা এখন এটি উপভোগ করছি।’

প্রসঙ্গত, রাজকীয় দায়িত্ব ছাড়ার ঘোষণা দেওয়ার পর ২০২০ সালের জানুয়ারিতে রানির সঙ্গে জরুরি বৈঠকে বসেন হ্যারি, মেগান, হ্যারির বাবা প্রিন্স চার্লস ও বড় ভাই প্রিন্স উইলিয়াম। বৈঠকে হ্যারি এবং মেগান রাজপরিবারের উপাধি ‘রয়েল হাইনিস’ ও ‘সাসেক্স রয়াল’ ত্যাগ করতে রাজি হন।

তবে রাজপরিবারের জ্যেষ্ঠ সদস্য হিসেবে হ্যারি ও মেগান তাঁদের নেওয়া সিদ্ধান্ত এক বছর পর পর্যালোচনা করে দেখার প্রতিশ্রুতি দেন। এরই ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি স্থায়ীভাবে ওই দায়িত্ব ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তাঁরা।

বাকিংহাম প্যালেস বলেছে, রাজপরিবারের সদস্যের দায়িত্বে হ্যারি ও মেগান আর কখনো না ফেরার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করায় তাঁদের দায়িত্ব ও প্রাপ্ত সুযোগ-সুবিধা রাজপরিবারের অন্য সদস্যদের মধ্যে বণ্টন করে দেওয়া হবে।

বিজ্ঞাপন

অবশ্য, রাজপরিবারে হ্যারি ও মেগানের আনুষ্ঠানিক পদবি ডিউক ও ডাচেস অব সাসেক্স বহাল থাকবে বলে মনে করা হচ্ছে। এ ছাড়া হ্যারি ব্রিটিশ সিংহাসনের ষষ্ঠ উত্তরাধিকার হিসেবে থেকে যাবেন ও সিংহাসনে অধিষ্ঠিত হওয়ার ক্রমে কোনো পরিবর্তন হবে না বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে বাকিংহাম প্যালেস বলেছে, হ্যারি ও মেগানের নেওয়া সিদ্ধান্ত দুঃখজনক হলেও তাঁরা রাজপরিবারের অত্যন্ত প্রিয় সদস্য হিসেবেই থাকবেন।

গত বছর হ্যারি ও মেগানের রাজকীয় দায়িত্ব ছাড়ার ঘোষণার পর সারা বিশ্বে গুজব রটে, হ্যারির সঙ্গে তাঁর বড় ভাই প্রিন্স উইলিয়ামের সম্পর্কে ফাটল ধরেছে। নানা কঠোর বিধিনিষেধের কারণে রাজপরিবারে সাবেক হলিউড অভিনেত্রী মেগান অস্বস্তিতে রয়েছেন বলেও খবর বের হয়। তবে প্রিন্স উইলিয়াম ও প্রিন্স হ্যারি এক যৌথ বিবৃতিতে বলেছিলেন, ‘এসব ডাহা মিথ্যা। সংবাদমাধ্যমের বানানো উড়ো খবর।’

ইউরোপ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন