পরামর্শক প্রতিষ্ঠান রিস্তাদ এনার্জির তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে রাশিয়া থেকে গ্যাস আমদানির অর্থ সাধারণত ইউরো অথবা ডলারে পরিশোধ করে ক্রেতাদেশগুলো। রুবলে এ অর্থ পরিশোধ করা হলে রাশিয়া অর্থনৈতিকভাবে সুবিধা পাবে।

বেশ কয়েকটি ক্রেতাদেশ বলেছে, তারা ইউরোতেই গ্যাসের দাম পরিশোধ করবে। কারণ, চুক্তি অনুযায়ী এখানে বিনিময় মুদ্রার ধরন পরিবর্তনের সুযোগ নেই। কোনো কোনো আইন বিশেষজ্ঞ বলেছেন, রাশিয়া একতরফাভাবে চুক্তির শর্ত পরিবর্তন করতে পারবে না।

সিডনির টেকনোলজি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট ফর পাবলিক পলিসি অ্যান্ড গভর্ন্যান্সের প্রধান অর্থনীতিবিদ টিম হারকোর্ট বলেন, ‘চুক্তি দুই পক্ষের মধ্যে হয়েছে এবং সে অনুযায়ী সাধারণত মার্কিন ডলার ও ইউরোতে দাম পরিশোধ করা হয়। এখন কোনো পক্ষ যদি একতরফাভাবে বলে যে আপনাদের এ পদ্ধতি ব্যবহার করতে হবে, তাহলে তো চুক্তি থাকছে না।’

হাঙ্গেরি ও জার্মানিতে রাশিয়ার গ্যাসের প্রধান আমদানিকারক কোম্পানি ইউনিপারের মতো গুটিকয়েক ক্রেতা বলছে, মস্কো ঘোষিত স্কিম অনুযায়ী ভবিষ্যতে অর্থ পরিশোধ সম্ভব হবে। এতে ইইউর নিষেধাজ্ঞার লঙ্ঘন হবে না।

আরেকটি জটিলতা হলো, রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্যের ক্ষেত্রে পশ্চিমা ব্যাংকগুলোর উদ্বেগ। আইএনজি ব্যাংক বলছে, ‘কোনো ক্রেতা যদি রুবলে মূল্য পরিশোধ করতে চান, তবে তা চ্যালেঞ্জের হবে। কারণ, রাশিয়ার বেশ কিছু ব্যাংকের ওপর পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা দেওয়া আছে।’

এক ব্যাংক নির্বাহী রয়টার্সকে বলেন, নিষেধাজ্ঞা আংশিক হওয়ায় কারিগরিভাবে রুবলে অর্থ পরিশোধের সুযোগ আছে। কোনো পশ্চিমা ক্রেতাদেশ চাইলে তাদের ব্যাংকে ইউরো অথবা ডলারে মূল্য পরিশোধ করতে পারবে। এর পর তা একটি রুশ ব্যাংকে পাঠিয়ে বলা হবে, তা যেন রুবলে রূপান্তর করে গ্যাজপ্রমকে পরিশোধ করা হয়।

তবে ইউরোপীয় গ্রাহকদের দেওয়ার জন্য রাশিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংক রুবলের যথেষ্ট তারল্য সরবরাহ করতে পারবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

রাশিয়া কী দাবি করছে, বুলগেরিয়া ও পোল্যান্ড কি সে দাবি মানবে

মস্কোর দাবিগুলো পোল্যান্ড ও বুলগেরিয়া মেনে নেবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। দুই দেশই পাইপলাইনের মাধ্যমে রাশিয়ার কাছ থেকে গ্যাস আমদানির ওপর নির্ভরশীল।
চলতি বছরের শেষ নাগাদ পোলিশ গ্যাস কোম্পানি পিজিএনআইজির সঙ্গে রাশিয়ার গ্যাস চুক্তির মেয়াদ শেষ হচ্ছে। পিজিএনআইজি বারবারই বলে আসছে, তারা নতুন স্কিম মেনে নেবে না। চলমান চুক্তির মেয়াদ বাড়াতেও রাজি নয় কোম্পানিটি।পোল্যান্ডের দাবি, গ্যাস সরবরাহের ক্ষেত্রে গ্রাহকদের ওপর কোনো প্রভাব পড়বে না। ইয়ামাল পাইপলাইনসহ জার্মানির সঙ্গে দুটি সংযোগের মধ্য দিয়ে গ্যাস আমদানি অব্যাহত রাখতে পারবে তারা। ইয়ামাল পাইপলাইনটি লিথুনিয়ার সঙ্গে সংযুক্ত। আগামী ১ মে চালু হতে যাওয়া এ পাইপলাইনের সক্ষমতা ২ দশমিক ৫ বিসিএম। চেক প্রজাতন্ত্রের সঙ্গে একটি ইন্টারকানেক্টরের মাধ্যমে এটি আসবে।

গ্যাজপ্রমের সঙ্গে বুলগেরিয়ার চুক্তিটির মেয়াদও এ বছরের শেষ নাগাদ শেষ হতে যাচ্ছে। দেশটি প্রায় পুরোপুরিভাবেই রাশিয়া থেকে গ্যাস আমদানির ওপর নির্ভরশীল। দেশটির জ্বালানি মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বিকল্প উৎসের সন্ধান করতে ইতিমধ্যে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। প্রতিবছর বুলগেরিয়া ৩০০ কোটি ঘনমিটার গ্যাস ব্যবহার করে। এর ৯০ শতাংশই আমদানি হয় রাশিয়া থেকে।

এর আগে বুলগেরিয়ার জ্বালানিমন্ত্রী আলেক্সান্ডার নিকোলভ বলেছিলেন, দেশটির অপর একটি পক্ষ রুবলে লেনদেনের বিষয়টি সামাল দিতে পারবে। তবে এ ব্যাপারে বিস্তারিত কিছু উল্লেখ করেননি তিনি।

ইউরোপ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন