ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে গত শুক্রবার একটি চুক্তি করতে পারায় আপাতত হাঁফ ছেড়ে বেঁচেছে ঋণ সংকটে জর্জরিত গ্রিস সরকার। তবে চুক্তি মেনে দেশটির কট্টর বামপন্থী নতুন সরকারকে আজ সোমবারের মধ্যেই একটি সংস্কার প্রস্তাব চূড়ান্ত করতে হবে। তা না হলে বন্ধ হয়ে যাবে ঋণের দরজা। এমন প্রেক্ষাপটে দেশটির প্রধানমন্ত্রী সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, সমস্যার শেষ হয়নি; ‘প্রকৃত কঠিন পথ’ সামনে। খবর এএফপি ও বিবিসির।
সংশয়গ্রস্ত ঋণদানকারী ইউরোপীয়দের সন্দেহ দূর করতে আজ সোমবার পর্যন্ত সময় রয়েছে গ্রিসের সরকারের হাতে। এর মধ্যেই তাদের জানিয়ে দিতে হবে যে তারা বিকল্প একগুচ্ছ সংস্কার বাস্তবায়ন করতে সক্ষম। সেটা হলেই কেবল দেশটির ঋণ পরিশোধের মেয়াদ আরও চার মাস বাড়বে।
শনিবার গ্রিসের অর্থমন্ত্রী ইয়ানিস ভারুফাকিস সাংবাদিকদের বলেন, ‘তালিকাটি জমা দেওয়া হবে। আমি একেবারে নিশ্চিত যে এটি অনুমোদিত হবে। আমরা প্রতিশ্রুতি মোতাবেক এটাকে প্রস্তুত করছি। আগামীকালের (গতকাল রোববার) মধ্যেই এটি সম্পূর্ণ হবে।’
ইউরোজোন সংকট থেকে বেরিয়ে আসতে ঋণ পেয়ে আসছে গ্রিস। তবে সেই চুক্তির মেয়াদ শেষ হচ্ছে এ মাসেই। ইইউর সঙ্গে ঋণচুক্তির মেয়াদ বাড়ানো নিয়ে একেবারে খাদের কিনারে চলে গিয়েছিল গ্রিস। তবে শুক্রবার সেখান থেকে কোনোমতে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হয় দেশটি। এদিন আলোচনার শেষ প্রান্তে এসে নাটকীয়ভাবেই কট্টর অবস্থান থেকে সরে আসে ব্যয় সংকোচন নীতির ঘোর বিরোধী গ্রিক প্রধানমন্ত্রী আলেক্সিস টিসিপ্রাসের সরকার। তিনি ইঙ্গিত দেন, ইইউর সঙ্গে আলোচনায় সফলতা এসেছে। টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এক ভাষণে প্রধানমন্ত্রী বলেন, গ্রিসের ভেতরে ও বাইরে থাকা ‘অন্ধ রক্ষণশীল শক্তিগুলো’ দেশকে চলতি মাসের শেষে ঋণখেলাপি বানাতে চেয়েছিল। তাঁর সরকার সেই পরিকল্পনা নস্যাৎ করে দিয়েছে।
গ্রিসকে অর্থনৈতিক মন্দার হাত থেকে রক্ষায় ইউরোপ যে ঋণসহায়তা দিয়ে আসছে, তার মেয়াদ চলতি মাসের শেষে পার হয়ে যাওয়ার কথা। এর প্রতি ইঙ্গিত করেই ওই কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী টিসিপ্রাস। ব্যয় সংকোচন নীতির ইতি ঘটানো ও দেশের বিশাল অঙ্কের ঋণের বিষয়টি নিয়ে নতুন করে ভাবার প্রতিশ্রুতি দেন টিসিপ্রাস। তিনি বলেন, ‘আমরা একটি লড়াইয়ে জিতেছি মাত্র। সামনে রয়ে গেছে যুদ্ধ।’
শুক্রবারের চুক্তিটিকে স্বাগত জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এটা একটা ‘চূড়ান্ত পদক্ষেপ, যা থেকে ব্যয় সংকোচনের নীতি বিদায় দেওয়ার পথে অনেক কিছুই পাওয়া গেছে।’ তবে তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, ‘আমাদের সামনে একটা দীর্ঘ ও প্রকৃত কঠিন পথ বাকি রয়েছে।’
গ্রিসের ঋণদাতাদের সঙ্গে আগামী জুনের মধ্যেই নতুন একটি সংস্কার পরিকল্পনা নিয়ে সরকার আলোচনা করবে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী টিসিপ্রাস।

বিজ্ঞাপন
ইউরোপ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন