default-image

গ্রিসের রাজধানী এথেন্সে অপরাধবিষয়ক এক প্রবীণ সাংবাদিককে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। বিবিসি অনলাইনের প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়।

নিহত সাংবাদিকের নাম ইয়র্গস কারাইভাস। গত শুক্রবার এথেন্সে তাঁর বাড়ির বাইরে তাঁকে গুলি করে হত্যা করে দুই দুর্বৃত্ত। তারা মোটরসাইকেলে করে এসেছিল।

কারাইভাসকে অন্তত ছয়টি গুলি করা হয়। শব্দ হয় না—এমন আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে তাঁকে গুলি করা হয়।
কারাইভাস হত্যার ঘটনা দ্রুততার সঙ্গে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী কিরিয়াকোস মিতসোতাকিস।

গ্রিস সরকারের এক মুখপাত্র বলেছেন, কারাইভাস হত্যাকাণ্ড সবাইকে মর্মাহত করেছে।

প্রবীণ সাংবাদিক কারাইভাস সংঘবদ্ধ অপরাধ ও দুর্নীতি নিয়ে কাজ করতেন। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলো বলেছে, কারাইভাস তাঁর পেশাগত কাজের জন্য খুন হয়েছেন কি না, তা অবশ্যই উদ্‌ঘাটন করতে হবে।

বিজ্ঞাপন

কারাইভাস হত্যাকাণ্ডকে ঘৃণ্য ও কাপুরুষোচিত বলে অভিহিত করেছেন ইউরোপিয়ান কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডের লিয়ন। তিনি এই হত্যার বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।
ইউরোপিয়ান পার্লামেন্টের স্পিকার ডেভিড সাসোলি এক টুইটে বলেছেন, এই হত্যার খবরে তিনি বিধ্বস্ত।

ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশ স্লোভাকিয়ায় বছর তিনেক আগে সাংবাদিক ইয়ান কুচিয়াক হত্যাকাণ্ডের শিকার হন। তাঁর হত্যাকাণ্ডের পর ইউরোপীয় ইউনিয়নে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছিল।

সাংবাদিক কারাইভাস বেসরকারি স্টার টিভি ও ব্লোকোডটজিআর নামের একটি সংবাদ ব্লগে কাজ করতেন।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, কাজ শেষে কারাইভাস এথেন্সের আলিমোস এলাকায় অবস্থিত তাঁর বাড়ির সামনে আসেন। গাড়ি থেকে নামতেই তাঁকে একের পর এক গুলি করা হয়।

পুলিশ সূত্র জানায়, ঘটনাস্থল থেকে এক ডজনের বেশি গুলির খোসা উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, পেশাদার খুনিরা এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে বলে আলামত দেখে তাঁদের মনে হচ্ছে।

কারাইভাস কখনো পুলিশি নিরাপত্তা চেয়ে আবেদন জানাননি। তা ছাড়া তিনি কখনো মৃত্যুর হুমকি পাওয়ার কথাও অভিযোগ আকারে পুলিশকে জানাননি।

গ্রিসের নাগরিক সুরক্ষাবিষয়ক মন্ত্রী মিকালিস ক্রাইসোহোইদিস জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশের ভিত্তিতে সর্বোচ্চ দ্রুততার সঙ্গে কারাইভাস হত্যার তদন্ত করা হবে।

ইউরোপ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন