দেবালৎসেভ শহরে কয়েক দিন ধরেই রুটি ফুরিয়ে গেছে। দীর্ঘদিন থেকে সেখানে পানি সরবরাহ কার্যত বন্ধ। শহরের বাসিন্দারা ঠিকমতো হাতমুখ ধুতে পর্যন্ত পারছে না।
দেবালৎসেভ সংঘাতকবলিত পূর্ব ইউক্রেনের এক সন্ত্রস্ত জনপদ। সড়ক যোগাযোগের কেন্দ্রস্থল সরকারনিয়ন্ত্রিত এ শহরটি। দেবালৎসেভসহ যুদ্ধবিধ্বস্ত দোনেৎস্কের উত্তরাঞ্চল থেকে অনেক সাধারণ মানুষ সরকারি বাহিনী নিয়ন্ত্রিত স্লোভিয়ানস্ক শহরে পালিয়ে এসেছে।
বাস্তুচ্যুত লোকদের মানসিক সহায়তা দেওয়া স্বেচ্ছাসেবী নাতালিয়া জোলোতারিয়োভা বলেন, ‘যুদ্ধবিধ্বস্ত এলাকার লোকজন বিভিন্ন ধরনের সমস্যায় ভুগছেন। বয়স্ক নারীরা ভুগছেন উচ্চ রক্তচাপে। গোলায় তাঁদের অনেকের বাড়ি এবং ফ্ল্যাট ধ্বংস হয়ে গেছে।’
বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রণে থাকা দোনেৎস্ক থেকে স্লোভিয়ানস্ক শহরের দূরত্ব ১১১ কিলোমিটার। সম্প্রতি এক দুপুরে এ শহরের রেলস্টেশনের কাছে দাঁড়ানো ছিল দুটি বাস। যানটির কোনো আসনই খালি ছিল না। কাজেই অনেকেই আসন না পেয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন। উদ্ধারকারীরা তাঁদের ট্রেনে করে রাজধানী কিয়েভ অথবা খারকিভের মতো সরকারনিয়ন্ত্রিত অন্য কোথাও যাওয়ার প্রস্তাব দেন। শরণার্থীদের বেশির ভাগই বয়স্ক। তবে খুব অল্প সংখ্যকই রাজধানী কিয়েভে যেতে রাজি হন। কেউ কেউ রাজি হন খারকিভ বা অন্য কোথাও যেতে। বাকিরা বলেন সেখানেই থাকবেন। কিন্তু স্লোভিয়ানস্ক শহরটিতে আশ্রয়প্রার্থীদের থাকার সুযোগ নেই। শরণার্থীর ঢলে শহরটির জনসংখ্যা গত জুলাই পর্যন্ত ৩০ শতাংশ বেড়েছে বলে জানিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ।
সংঘাতপূর্ণ এলাকা থেকে শরণার্থীদের নিয়ে আসা বাসের চালকেরা তাঁদের ভ্রমণ সম্পর্কে কথা বলতে চান না। বেশির ভাগ শরণার্থীও মুখ খুলতে ইচ্ছুক নন। কেউ কেউ জানান, চার ঘণ্টার বেশি সময় ধরে তাঁরা রাস্তায়। পথে তাঁদের কয়েকবার থামতে হয়েছে এবং বোমা বর্ষণ শেষ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়েছে।
দোনেৎস্ক থেকে ২০ কিলোমিটার উত্তরে অবস্থিত আভদিভকা থেকে আসা নাতালিয়া বলেন, ১০ দিন ধরে আভদিভকার সঙ্গে কোনো সড়ক যোগাযোগ নেই। সেখানে বিদ্যুৎ, পানি, খাবার কিছুই নেই। সপ্তাহে একবারই রুটি কিনতে পাওয়া যায়। দামও বেড়ে গেছে।
ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলে রুশপন্থী বিদ্রোহীদের সঙ্গে সরকারি বাহিনীর যুদ্ধে প্রায় ১৫ লাখ লোক বাস্তুচ্যুত হয়েছে। তাদের এক-তৃতীয়াংশ রাশিয়ায় চলে গেছে।
ওলেনা নামের এক নারী বলেন, ‘আমরা ইয়াসিনুভাতায় থাকতাম। আমাদের ফ্ল্যাট বোমার আঘাতে গুঁড়িয়ে গেছে। আমরা এক সপ্তাহ ধরে স্লোভিয়ানস্কে রয়েছি। হোটেলে রুম ভাড়া নিতে ৫০০ থেকে ৬০০ রিভনিয়ার খরচ হয়। আমাদের এত টাকা নেই।’
সূত্র: এএফপি

বিজ্ঞাপন
ইউরোপ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন