যুক্তরাজ্যের সংস্কৃতিমন্ত্রী নাদিন ডোরিসকে লেখা চিঠিতে কম্বোডিয়ার সংস্কৃতিমন্ত্রী ফিউরং স্যাকোনা বলেছেন, তাঁদের পবিত্র মন্দিরগুলো থেকে অনেক গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক সম্পদ চুরি হয়ে গেছে। সেগুলোর ঠাঁই হয়েছে লন্ডনের দুই জাদুঘরসহ বিভিন্ন গুদাম ও প্রতিষ্ঠানে।

কম্বোডিয়ানদের বিশ্বাস, প্রাচীন এসব মূর্তি তাঁদের পূর্বপুরুষদের আত্মা ধারণ করে। শিল্পকর্ম কেনাবেচায় যুক্ত ব্রিটিশ নাগরিক ডগলাস ল্যাচফোর্ডের হাত দিয়েই এসব চুরি হওয়া মূর্তির অধিকাংশই লেনদেন হয়েছে। ২০২০ সালে তিনি মারা গেছেন।
কম্বোডিয়ার নাগরিকেরা দীর্ঘদিন ধরেই চুরি যাওয়া এসব পুরাকীর্তি পুনরুদ্ধারের জন্য প্রচার চালাচ্ছেন। কম্বোডিয়ার সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের প্রধান আইনি পরামর্শদাতা এবং তদন্তকারী দলের প্রধান ব্র্যাড গর্ডন বিবিসিকে বলেছেন, এসব পুরাকীর্তির বেচাকেনা যুদ্ধাপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। কম্বোডিয়ার মন্ত্রীর চিঠিতে বলা হয়েছে, যুক্তরাজ্য ও কম্বোডিয়া দুই দেশই হেগ কনভেনশনে সই করেছে। এর লক্ষ্য সশস্ত্র সংঘাতের সময় সাংস্কৃতিক সম্পত্তি রক্ষা করা।

কম্বোডিয়ায় ১৯৭৫ থেকে ১৯৭৯ সাল পর্যন্ত খেমার রুজের শাসনামলে ২০ লাখের বেশি লোককে হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা করা হয়। ১৯৯০–এর দশকের শেষ পর্যন্ত দেশটির একটি বড় অংশই খেমার রুজের নিয়ন্ত্রণে ছিল। সেই তিন দশকের গৃহযুদ্ধ এবং সংঘর্ষের সময়ে বেশির ভাগ পুরাকীর্তি লুটপাট হয়েছিল।

ব্র্যাড গর্ডন বলেছেন, এসব পুরাকীর্তি চুরি ও লুটপাটের ঘটনা গৃহযুদ্ধ ও সংঘর্ষের সময়েই ঘটেছিল। পুরো বিশ্বই তা জানে। বড় জাদুঘর বিশেষ করে ব্রিটিশ মিউজিয়াম ও ভিক্টোরিয়া অ্যান্ড অ্যালবার্টের মতো প্রতিষ্ঠানের এসব পুরাকীর্তি গ্রহণ করা ঠিক হয়নি। অধিকাংশ পুরাকীর্তির রপ্তানি করার লাইসেন্স বা অনুমতি নেই। তাই এসব চোরাই সম্পদ। এসব সম্পদ অবশ্যই ফেরত দিতে হবে।

যুক্তরাজ্যের দুই জাদুঘর ইতিমধ্যে কম্বোডিয়া কর্তৃপক্ষের দাবি করার পুরাকীর্তির তালিকা হাতে পেয়েছে। এর মধ্যে ব্রিটিশ মিউজিয়ামে আছে ১০০টির বেশি পুরাকীর্তি। তবে এসব বেশির ভাগই সংরক্ষণাগারে রয়েছে। ভিক্টোরিয়া অ্যান্ড অ্যালবার্টে রয়েছে ৫০টির মতো পুরাকীর্তি। এর মধ্যে কয়েকটি পুরাকীর্তি ফেরত দেওয়ার অগ্রাধিকার তালিকায় রয়েছে।

দুই জাদুঘর কর্তৃপক্ষই কম্বোডিয়ার চিঠির জবাব দেওয়ার কথা জানিয়েছে। অনুসন্ধানী দলের একজন প্রত্নতাত্ত্বিক সোফেপ মেস বলেন, ‘মূর্তিগুলো অবশ্যই আমাদের জন্য শুধু পাথর নয়। আমরা বিশ্বাস করি, মূর্তিগুলোর আত্মা আছে।’

ইউরোপ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন