default-image

জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেট (আইএস) বলেছে, জর্ডানের বিমান হামলায় তাদের হাতে জিম্মি থাকা মার্কিন সাহায্যকর্মী কায়লা মুয়েলার নিহত হয়েছেন। জর্ডান ‘আইএসের মিথ্যা প্রচারণা’ আখ্যা দিয়ে ওই দাবিটি নাকচ করে দিয়েছে। এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, মুয়েলার নিহত হয়েছেন—এমন প্রমাণ তাদের কাছে নেই।
জর্ডানের বিমান হামলায় ধ্বংস হওয়া একটি ভবনের ছবি প্রকাশ করে আইএস দাবি করেছে, সেখানে থাকা কায়লা মুয়েলার বিমান হামলায় নিহত হয়েছেন। তবে নিহত বলে কথিত মুয়েলারের কোনো ছবি প্রকাশ করা হয়নি। আইএস জানায়, বিধ্বস্ত ভবনটির অবস্থান তাদের শক্ত ঘাঁটি সিরিয়ার রাকা শহরে।
আইএসের ওপর গত বৃহস্পতিবার থেকে বড় পরিসরে বিমান হামলা শুরু করে জর্ডান। দেশটির একজন আটক পাইলটকে আইএস আগুনে পুড়িয়ে নির্মমভাবে হত্যা করার পর তারা ওই পদক্ষেপ নেয়। আইএসের অবস্থানে হামলা চালানোর সময় যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হলে মাজ আল-কাসাবে নামে ওই পাইলট তাদের হাতে ধরা পড়েন।
এদিকে মার্কিন জিম্মি মুয়েলারের বাবা-মা আশা প্রকাশ করেছেন যে তিনি বেঁচে আছেন। তাঁরা আইএসের সঙ্গে এর আগে যোগাযোগ করার কথা জানিয়ে বলেন, মেয়ের নিহত হওয়ার খবর প্রকাশের পর তাঁরা নীরবতা ভাঙার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। মুয়েলারের বাবা-মা বলেন, এই খবর তাঁদের উদ্বিগ্ন করেছে। তবে এখনো মেয়ের বেঁচে থাকার ব্যাপারে আশাবাদী। তাঁরা বলেন, ‘আমরা আপনাদের (আইএস) কাছে গোপন বার্তা পাঠিয়েছিলাম। আপনারা বলেছিলেন, কায়লাকে অতিথির মতো দেখা হচ্ছে। অতিথি হিসেবে ওর নিরাপত্তা দেওয়া ও ভালো রাখার দায়িত্ব আপনাদেরই।’
নর্দার্ন অ্যারিজোনা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক ২৬ বছর বয়সী কায়লা মুয়েলার ২০১২ সালে শরণার্থীদের জন্য কাজ করতে প্রথম তুরস্ক- সিরিয়া সীমান্তে যান। ওই বছরই সিরিয়ার আলেপ্পোতে অপহৃত হন তিনি।
মুয়েলারের মৃত্যুর কথা সত্যি হলে তিনি হবেন আইএসের হাতে আটকের পর নিহত চতুর্থ মার্কিন। মার্কিন প্রেসিডেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের মুখপাত্র বলেন, এ খবরে যুক্তরাষ্ট্র ‘গভীরভাবে উদ্বিগ্ন’। তবে আইএসের ওই দাবি সত্যি, এর কোনো প্রমাণ নেই।

বিজ্ঞাপন
ইউরোপ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন