বিজ্ঞাপন

শনিবার জার্মানির রাজধানী বার্লিনে ইসরায়েলি আগ্রাসনবিরোধী তিনটি সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। বিক্ষোভকারীরা ইসরায়েলি হামলার বিরুদ্ধে ও ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে স্লোগান দেন এবং পোস্টার বহন করেন। গতকাল জার্মানির বিভিন্ন শহরে এই বিক্ষোভে অসংখ্য মানুষ রাস্তায় নামেন।

বার্লিনে তিনটি নিবন্ধিত প্রতিবাদ সমাবেশ হয়েছে। জার্মানির ডের স্পিগেল পত্রিকাটি বার্লিন পুলিশের সূত্র উল্লেখ করে জানিয়েছে, দুটি বিক্ষোভ শান্তিপূর্ণ হলেও নয়েকোলন অঞ্চলে বিক্ষোভ সমাবেশ ও সহিংসতার ঘটনা ঘটে। এই প্রতিবাদ মিছিলটি করোনার স্বাস্থ্যবিধি লঙ্ঘনের কারণে পুলিশ ভেঙে দিতে চাইলে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। বিক্ষোভকারীরা পুলিশের দিকে পটকা ও ধোঁয়া বোমার বিস্ফোরণ ঘটান। পুলিশ বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে মরিচের স্প্রে ব্যবহার করে। বার্লিনে নয়েকোলন অঞ্চলে সোনেএ্যলি এলাকায় গতকাল বিকেল থেকে কয়েক ঘণ্টা ধরে পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষ চলে। পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ চলাকালে বিক্ষোভকারীরা ‘আল্লাহু আকবর’ এবং ‘শিশু হত্যাকারী ইসরায়েল’ বলে স্লোগান দিতে থাকেন। গতকাল সন্ধ্যা নাগাদ বার্লিনের পুলিশ প্রশাসন আহত ও গ্রেপ্তারের সংখ্যা সম্পর্কে কোনো তথ্য দিতে চায়নি। বার্লিনে শনিবার বিক্ষোভ কর্মসূচি যাতে শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হয়, সে জন্য প্রশাসন ৩ হাজার ৬০০ পুলিশ রাস্তায় নামায়। বার্লিনের বিক্ষোভ সমাবেশে প্রায় সাড়ে তিন হাজার মানুষ অংশ নেন।

গতকাল ফ্রাঙ্কফুর্টে মুক্ত ফিলিস্তিনের জন্য প্রায় আড়াই হাজার মানুষ বিক্ষোভ করেন। করোনা সংকটে লকডাউন চলাকালে কোনো ধরনের বিক্ষোভ নিষিদ্ধ থাকলেও স্থানীয় প্রশাসনিক আদালত করোনা বিধি মেনে বিক্ষোভের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করেন। তবে এখানে কোনো বড় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেনি। বন্দর শহর হামবুর্গে ফিলিস্তিনের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে প্রায় পাঁচ শ লোক বিক্ষোভ করেন।

ফিলিস্তিনিদের পতাকা হাতে এবং ‘ফিলিস্তিনের জন্য স্বাধীনতা’ এবং ‘গণহত্যা বন্ধ করুন’, স্লোগান দিয়ে কোলোন শহরের রাস্তায় চার শ মানুষ বিক্ষোভ করেন। হ্যানোভার শহরেও গতকাল ফিলিস্তিনি জনগণের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে তিন শ বিক্ষোভকারী রাস্তায় নামেন। পুলিশের জলকামান বিক্ষোভকারীদের অনুসরণ করে।

বার্লিন ও ব্র্যান্ডেনবুর্গ রাজ্যের প্রোটেস্ট্যান্ট এবং ক্যাথলিক গির্জা সম্প্রতি জার্মানিতে দুটি ইহুদি প্রার্থনালয়ের ওপর হামলার নিন্দা করেছে। উত্তর রাইন-ওয়েস্টফালিয়া রাজ্যের ইহুদিবাদবিরোধী কমিশনার সাবাইন লিউথিউসার-শ্নারেনবার্গার এই পরিস্থিতিতে সবাইকে সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, বিক্ষোভ সমাবেশের অধিকার অপব্যবহার করে ইহুদিদের বিরুদ্ধে বা কোনো ধর্মের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ ছড়ানো উচিত নয়।

ইউরোপ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন