বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

এসপিডি নেতা ওলাফ শলৎজ এখন দেশটির গ্রিন পার্টি ও লিবারেলদের সঙ্গে জোট বাঁধতে চান। তিনি বলেন, জোট গঠনের জন্য জনগণের অনুমোদন তাঁরা পেয়েছেন। তবে তাঁর রক্ষণশীল প্রতিদ্বন্দ্বী আরমিন ল্যাশেট এত সহজে ছেড়ে দেবেন না।
এ নিয়ে কয়েক মাস ধরে আলোচনা চলতে পারে। তত দিন পর্যন্ত চ্যান্সেলর পদে আঙ্গেলা ম্যার্কেল তাঁর কাজ চালিয়ে যাবেন।

গত রোববারের নির্বাচনটি ছিল জার্মানদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে ১৬ বছর ধরে দায়িত্ব পালন করা ম্যার্কেলের উত্তরসূরি নির্বাচনে ভোট দেন তাঁরা। তবে জার্মানের পার্লামেন্ট বুন্দেসতাগে যেতে কোনো দলই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি। এবারের নির্বাচনে লড়াই হয়েছে হাড্ডাহাড্ডি। এর অর্থ হচ্ছে, দেশটিতে ক্ষমতায় আসবে জোট সরকার। তবে এটি জার্মানির জন্য নতুন কিছু নয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে কোনো দলই এককভাবে সরকার গঠনের মতো সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি।

বিবিসি বলছে, ওলাফ শলৎজের দল এসপিডি নির্বাচনে জয় দাবি করলেও তাদের চ্যান্সেলর পেতে অন্য দলের সঙ্গে জোট বাঁধার বিকল্প নেই। দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে ক্ষমতায় থাকা সিপিডির পরাজয়ের কারণ হিসেবে অনেকে দেখছেন, দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতায় থাকায় মানুষ নতুনত্বের জন্য এসপিডিকে ভোট দেন। অন্যদিকে এসপিডির অভিবাসন নীতি, জলবায়ু মোকাবিলা, অধিক কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বেতন-ভাতা বৃদ্ধি, সামাজিক নিরাপত্তাসহ অন্যান্য নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি সাধারণ নাগরিকদের দৃষ্টি কেড়ে নেয়।

আট বছর ধরে এসপিডি ও রক্ষণশীল দল একসঙ্গে সরকার পরিচালনা করেছে। তবে এবার শলৎজ বলছেন, তিনি গ্রিন ও ফ্রি ডেমোক্রেটিক পার্টির (এফডিপি) সঙ্গে জোট করতে চান।

অন্যদিকে লড়াই ছাড়া মাঠ ছাড়বেন না আরমিন ল্যাশেট। তিনি বলছেন, সরকার গঠনের চেষ্টা করতে বদ্ধপরিকর থাকবেন। এ জন্য তাঁর পছন্দ গ্রিন ও লিবারেল পার্টি।
জার্মানির সাধারণ নির্বাচনের পর একটি যৌথ সরকার গঠনের জন্য আলোচনার বিষয়টি সবচেয়ে কঠিন এবং জটিল প্রক্রিয়া। এ জন্য দীর্ঘ সময় লেগে যেতে পারে। তবে সব সময় তা সফলতার মুখ দেখে না। ২০১৭ সালেও এ ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল।

এবারের নির্বাচনে ‘কিং মেকারস’ বা সরকার গঠনের চাবি গ্রিন ও এফডিপির হাতে। শলৎজ ও আরমিন দুজনই এই দুই দলকে তুষ্ট করতে চাইছেন।

তবে আগের মতোই বড় দুই দলের জোট বাঁধাও একেবারে অসম্ভব নয়। তবে শলৎজ ও আরমিন দুজনেই চ্যান্সেলর হতে চান বলেই এই জোট নিয়ে সংশয় থেকে যাচ্ছে। যখন রাজনৈতিক দলগুলো জোট নিয়ে সিদ্ধান্ত নেবে, তখনই বিস্তারিত দর-কষাকষিতে নেমে পড়তে পারে। ২০১৭ সালে পাঁচ মাসের প্রচেষ্টার পর ম্যার্কেল চ্যান্সেলর হয়েছিলেন।

যদি কোনো দল সরকার গঠন করতে না পারে তবে আবার নির্বাচন হবে। তবে দেশটিতে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা রাখতে প্রেসিডেন্ট ফ্রাঙ্ক ওয়াল্টার স্টেইনমেয়ার দলগুলোকে চুক্তি করতে উৎসাহ দেবেন। এ ক্ষেত্রে যদি চ্যান্সেলর নির্বাচন করতে ব্যর্থ হন, তবে প্রেসিডেন্ট সম্ভাব্য নেতাকে মনোনয়ন দেবেন এবং তা নিয়ে গোপন ব্যালটে ভোট গ্রহণ হবে। এতেও মীমাংসা না হলে প্রেসিডেন্ট চ্যান্সেলর নিয়োগ করতে বা নতুন নির্বাচন দিতে পারেন।

ইউরোপ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন