default-image

জার্মানিতে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে আরও মানুষের মৃত্যু হবে বলে জানিয়েছে দেশটির সংক্রামক রোগবিষয়ক গবেষণা কেন্দ্র রবার্ট কখ ইনস্টিটিউট। গতকাল মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে রবার্ট কখ ইনস্টিটিউটের পরিচালক লোথার ভেলার এ তথ্য দেন। জার্মানিতে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত বাংলাদেশি অনেকে সেরে উঠেছেন বলে জানা গেছে।

জার্মানির লোয়ার সাক্সেনি রাজ্যের ভল্ফসবর্গ শহরে, হানস লিলিয়ে নামের একটি বৃদ্ধাশ্রমে করোনাভাইরাসে ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। বৃদ্ধাশ্রমটিতে ১৮ জনের মৃত্যু নিয়ে স্থানীয় সরকারি কৌঁসুলি বৃদ্ধাশ্রমটির ব্যবস্থাপনার বিষয়ে জানতে চেয়েছেন।

গতকাল বার্লিনে এক সংবাদ সম্মেলনে লোথার ভেলার বলেন, তাঁদের ধারণা, জার্মানিতে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে আরও লোকের মৃত্যু ঘটবে। তিনি জানান, জার্মানিতে বিপুলসংখ্যক বৃদ্ধ ও প্রবীণদের জন্য নার্সিং হোম রয়েছে। এসব আশ্রয়কেন্দ্রে অনেক প্রবীণ নাগরিক বাস করেন। বর্তমান পরিস্থিতিতে এই বৃদ্ধাশ্রম ও নার্সিং হোমগুলো প্রবীণ নাগরিকদের করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। জার্মানিতে প্রবীণেরা বাদে অল্প বয়সী মাত্র একজন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। তাঁর বয়স ২৮ বছর। আগে থেকেই তিনি অন্য অসুখে ভুগছিলেন।

লোথার ভেলার জানান, জার্মানিতে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে মৃত্যুর হার বেশ কম। মাত্র শূন্য দশমিক ৮ শতাংশ। এর কারণ হিসেবে তিনি জানান, সারা দেশে দ্রুত এই ভাইরাসের সংক্রমণ শনাক্ত করার ব্যবস্থা চালু হওয়ার পর পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি ঘটেছে। প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত হওয়ায় রোগীরা যথাসময়ে ভালো চিকিৎসা পাচ্ছেন। এ ছাড়া সংক্রমণের হার অনুযায়ী সঠিক চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে।

ভেলারের গবেষণা ইনস্টিটিউটের পক্ষ থেকে এক গবেষণায় বলা হয়েছে, করোনাভাইরাসে সব বয়সের মানুষ আক্রান্ত হতে পারে। তবে আগে থেকেই অন্য কোনো রোগে আক্রান্ত ও বয়স্ক মানুষদের ক্ষেত্রে সংক্রমণের ঝুঁকি বেশি। এই সংক্রমণে মৃত্যুর হার নারীর তুলনায় পুরুষের বেশি।

ভেলার বলেন, তাঁরা শিগগিরই জার্মানির মানুষকে করোনাভাইরাস নিয়ে আরও সচেতন হতে ও তাঁদের সুরক্ষার জন্য কোভিড-১৯ স্ন্যাপশট মনিটরিং ব্যবস্থা করবেন। এটি প্রতি সপ্তাহে অনলাইনে কোভিড-১৯–এর ঝুঁকি সাধারণ মানুষ কীভাবে অনুধাবন করছেন, এ ব্যাপারে তাঁদের মতামত ও উপলব্ধি সম্পর্কে জানতে সহায়তা করবে।

জার্মানির লোয়ার সাক্সেনি রাজ্যের ভল্ফসবর্গ শহরে হানস লিলিয়ে নামের একটি বৃদ্ধাশ্রমে এক সপ্তাহের মধ্য ১৮ জন বাসিন্দা মারা যাওয়ার ঘটনায় বৃদ্ধাশ্রমটির ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। শহরের রাষ্ট্রীয় কৌশলী এই বিষয়ে বৃদ্ধাশ্রমটির ব্যবস্থাপনায় কোনো ত্রুটি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছেন। হানস লিলিয়ে নামের এই বৃদ্ধাশ্রমে ১৫০ জনেরও বেশি স্মৃতিভ্রংশ রোগে আক্রান্ত প্রবীণ ব্যক্তি থাকেন। এখন এই বিশেষায়িত বৃদ্ধাশ্রমটির ৭৪ জন বাসিন্দা করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন।

জার্মানিতে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ১০ জন প্রবাসী বাঙালি এখন ক্রমে সুস্থ হয়ে উঠছেন। গতকাল সন্ধ্যায় বার্লিন শহরের টেম্পলহোপ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ৫৫ বছরের মোশতাক খান ফোনে প্রথম আলোকে এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি কিছুদিন আগে নর্থরাইন ভেস্টফ্যালিয়া রাজ্যের নয়েক্রির্শে শহর থেকে বার্লিনে বন্ধুর কাছে বেড়াতে এসে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হন। তিনি টেম্পলহোপ হাসপাতালে চিকিৎসক ও নার্সদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, ‘তারা গত সপ্তাহ থেকে যে মমতা দিয়ে আমার চিকিৎসা করছে, এতে আমি অভিভূত।’ বাংলাদেশ দূতাবাস থেকেও তার বিষয়ে নিয়মিত খোঁজখবর নিয়েছেন বলে তিনি জানান। বাংলাদেশের মাদারীপুরের অধিবাসী মোশতাক খানকে টেম্পলহোপ হাসপাতালের চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, তিনি এখন প্রায় সের ওঠার পথে।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0