default-image

জার্মানির রাজধানী বার্লিনে সোমবার সংক্রমণ রোগ বিষয়ের গবেষণা কেন্দ্র, রবার্ট কক ইনস্টিটিউট এক সাংবাদিক সম্মেলনে জানিয়েছে, আগামী ১০ থেকে ১২ দিনের মধ্য জার্মানিতে করোনা সংক্রমণ হ্রাস পেতে পারে।

জার্মানি ইতিমধ্যেই তার উত্তর দিকের সীমান্ত ডেনমার্ক এবং দক্ষিণে অস্ট্রিয়া, সুইজারল্যান্ড ও লুক্সেমবার্গের সীমানা বন্ধ করে দিয়েছে। রবার্ট কক ইনস্টিটিউটের (আরকেআই) সহসভাপতি লার্স শ্যাচেড সোমবার ইনস্টিটিউটের এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, সীমান্ত বন্ধসহ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ক্লাব, বার, সিনেমা হল, থিয়েটার, সুইমিং পুল, স্টেডিয়াম, বেশি লোকের সমাবেশে নিষেধাজ্ঞা এই পদক্ষেপগুলির ফলে হয়তো দশ থেকে বারো দিনের মধ্যে আক্রান্তদের সংখ্যা কমবে।

রবার্ট কক ইনস্টিটিউটের লার্স শ্যাচেড, পাশাপাশি জন সচেতনতা ও অন্যদের প্রতি সমীহ ও এই ভাইরাস সম্পর্কে অহেতুক ভীত না হয়ে নিজেদের এবং অন্যদের সহযোগিতা করতে অনুরোধ করেছেন। তিনি ঘরে ঘরে করোনা পার্ট না করবার জন্য অনুরোধ করেছেন। সংক্রমণের উচ্চ ঝুঁকির কারণে সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের স্ব-ইচ্ছায় নিজেদের আলাদা থাকা উচিত বলে তিনি জানিয়েছেন। তিনি সন্দেহভাজন আক্রান্তদের পুরোপুরি আক্রান্ত কিনা তা পরীক্ষা করতে ন্যুনতম ৪ দিন সময় লাগে বলে জানান। স্পেন বা ইতালির মতো জার্মানিতে দেশজুড়ে কারফিউ জারির মতো অবস্থা হবে কিনা তা এখনো বলবার সময় আসেনি বলে জানান।

সোমবার দুপুর পর্যন্ত জার্মানি জুড়ে করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ৬ হাজার ৫৭৮ আর এই ভাইরাসে মারা গেছেন ১৩ জন। ক্রমান্বয়ে সংক্রমণের সংখ্যা বৃদ্ধি জার্মানিতে আতঙ্ক তৈরি করেছে।জার্মানির মধ্য পশ্চিম সীমান্তের নর্থ রাইন ভেষ্টফালেন রাজ্যে করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা সর্বোচ্চ ২ হাজার ৪৯৩।

সোমবার কাজের দিন হলেও অনেকে কাজে যাননি। বিভিন্ন স্থানে রাস্তাঘাট খাঁ খাঁ করছে।সুপার মার্কেট গুলিতে অন্য পণ্য আছে, শুধু চাল, ময়দা, নুডলস, দুধ রাখার রেকগুলি শূন্য হয়ে আছে। সুপার মার্কেট কর্তৃপক্ষ আলাদা নোটিশ টাঙিয়ে ক্রেতাদের পরিবার প্রতি এই সব পণ্য তিনটি বা কোথাও একটি ক্রয় করবার জন্য অনুরোধ জানিয়েছে।

জার্মানির পার্লামেন্ট আগামী সপ্তাহে চালু থাকার পর, এক সপ্তাহ আগেই ইস্টার উপলক্ষে তিন সপ্তাহের জন্য বন্ধ থাকবে। জার্মানির বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান তার কর্মীদের জন্য বাসায় বসে কাজ করবার জন্য হোম অফিস ব্যবস্থা করেছে।

জার্মানিসহ ইউরোপের সর্বত্র গত দুই সপ্তাহ জুড়ে রেডিও, টেলিভিশন ও পত্র পত্রিকায় করোনা বিষয়ক নানা খবর সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য পাচ্ছে।

বিজ্ঞাপন
ইউরোপ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন