বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

সম্মেলনে সবার নজর ছিল জলবায়ু পরিবর্তনের প্রধান কারণ গ্রিনহাউস বা ক্ষতিকর গ্যাস উদ্‌গিরণের শীর্ষে থাকা দেশগুলোর নেতারা কী অঙ্গীকার করেন, সেই দিকে। এক নম্বরে থাকা চীন এবং শীর্ষ পাঁচে থাকা ব্রাজিলের নেতারা আসবেন না জানানোয় অনেকেই কিছুটা সংশয়ের মুখে পড়েছেন। শীর্ষ দূষণকারীদের তালিকায় দ্বিতীয় যুক্তরাষ্ট্র অবশ্য এবার নেতৃত্বের ভূমিকায়। প্যারিস চুক্তির এক বছর পর ডোনাল্ড ট্রাম্প দেশটির প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়ে জলবায়ু চুক্তি থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করে নিয়েছিলেন, যা ছিল পুরো বিশ্বের জন্য হতাশাজনক। কিন্তু গত বছর ডেমোক্রেটিক পার্টির জো বাইডেন প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর তারা দ্বিগুণ উৎসাহে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলার বিষয়ে নেতৃত্ব দিতে এগিয়ে এসেছে।

গ্লাসগোর জলবায়ু সম্মেলনের প্রাক্কালে রোমে শিল্পোন্নত ও উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলোর জোট জি-২০–এর সভার নেতারা তাঁদের শীর্ষ বৈঠকে যেসব সিদ্ধান্ত নিতে চলেছেন, তা কপ-২৬–এর ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে। কেননা, এই দেশগুলোই বিশ্বে গ্রিনহাউস গ্যাসের শীর্ষ উদ্গাতা। বিদ্যমান প্যারিস চুক্তির আলোকে চলতি শতকে বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধির হার দেড় ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ধরে রাখতে হলে যে পরিমাণে গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন কমানো প্রয়োজন এবং যেটুকু কমানো সম্ভব নয়, সেটুকু বায়ুমণ্ডল থেকে অপসারণ বা নেট জিরোর লক্ষ্য অর্জনের কাজটি প্রধানত তাদের ওপরই নির্ভরশীল। ইতিমধ্যে চীন, ভারত, ব্রাজিল, সৌদি আরব ও অস্ট্রেলিয়া ২০৫০ সালের মধ্যে নেট জিরো অর্জনের লক্ষ্যপূরণ সম্ভব নয় বলে জানিয়েছে।

তা ছাড়া জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত উন্নয়নশীল দেশগুলোর ঝুঁকি মোকাবিলার প্রস্তুতি ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রযুক্তি ও অর্থায়নে বার্ষিক ১০ হাজার কোটি ডলার সহায়তা দেওয়ার অঙ্গীকার পূরণেও এসব দেশ ব্যর্থ হয়েছে। জি-২০–এর বৈঠকের খসড়া ঘোষণাপত্র উদ্ধৃত করে আল-জাজিরা জানিয়েছে, এই প্রতিশ্রুতি পূরণের সময়সীমাও পিছিয়ে যেতে পারে।

জলবায়ু সম্মেলনের প্রস্তুতিমূলক আলোচনা অনেক দিন ধরেই চলছে। সম্মেলনের শুরুর দিনে আজ বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা মূলত আলোচ্যসূচি চূড়ান্ত করবেন। প্রস্তাবিত আলোচ্যসূচিতে গ্রিনহাউস গ্যাস কমানো ও অর্থায়ন ছাড়াও অনেক কিছুই আছে। গ্রিনহাউস গ্যাসের মধ্যে জীবাশ্ম জ্বালানি ও শিল্প থেকে উদ্ভূত গ্যাস ছাড়াও কৃষি, পশুপালন, যানবাহন, ঘরবাড়িতে দৈনন্দিন জীবনযাপনের কারণে সৃষ্ট বিভিন্ন ক্ষতিকর গ্যাস নির্গমন কমানোর বিষয়ও আলোচিত হবে।

গ্লাসগোর সবচেয়ে বড় আয়োজন অবশ্য রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের শীর্ষ বৈঠক, যা আগামীকাল সোমবার শুরু হবে। রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের এই শীর্ষ সম্মেলনে উপস্থিত হওয়ার পূর্বনির্ধারিত পরিকল্পনা বাতিল হয়েছে চিকিৎসকদের পরামর্শে। তাঁরা গত শুক্রবার রানিকে দুই সপ্তাহ বিশ্রামের পরামর্শ দিয়েছেন। ফলে তিনি সম্মেলনে ভিডিও সংযোগেও যুক্ত হবেন কি না, তা নিশ্চিত নয়। চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট বলসোনারোও সম্মেলনে আসছেন না। অনুন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলোতে কোভিডের টিকার ব্যবস্থা না হওয়ায় ওই সব দেশেরও অনেকে সীমিত আকারে প্রতিনিধি পাঠাচ্ছে। প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপরাষ্ট্রগুলোর মধ্যে মাত্র চারটি দেশের রাষ্ট্রপ্রধান এই সম্মেলনে অংশ নেবেন বলে বিবিসি জানিয়েছে। অথচ এসব দ্বীপরাষ্ট্র বৈশ্বিক উষ্ণায়ন ও সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধিতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির ঝুঁকিতে রয়েছে।

শীর্ষ সম্মেলনে অবশ্য কোনো নতুন চুক্তির সম্ভাবনা নেই। বরং নেতারা নিজ নিজ দেশে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কী কী করবেন, সেই অঙ্গীকারের কথাই শোনাবেন। আর বিশেষজ্ঞ ও নীতিনির্ধারক পর্যায়ের প্রতিনিধিরা পরবর্তী দেড় সপ্তাহ ধরে আলাপ-আলোচনার পর একটি ঘোষণাপত্র চূড়ান্ত করবেন, যা ১২ নভেম্বর প্রকাশ করা হবে।

তবে একই সময়ে গ্লাসগোয় বড় ধরনের বিক্ষোভ-প্রতিবাদ অনুষ্ঠিত হবে। পরিবেশবাদী, মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলো ছাড়াও কয়েকটি ধর্মীয় সংগঠনও বিক্ষোভে অংশ নিতে শহরটিতে জড়ো হচ্ছে।

ইউরোপ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন